আখলাকের ফিরে যাওয়া উপন্যাস

আখলাকের ফিরে যাওয়া

নিজের মৃত্যুটা আখলাক বুঝতে পারল না। সে তাই বাড়ি ফিরে গেল।
তার অবশ্য ধারণা হয়েছিল, আজ আর বাঁচার কোনো উপায় নেই। সে নিজেকে বলেছিল—হায় আখলাক, হায় গাধা আখলাক, এ তুমি কী করেছ! তোমার জেসমিনের সঙ্গে কাল রাতে আর আজ সকালে ঝগড়া হয়েছে, মানলাম। অফিস ছুটির পর তোমার মন খারাপ ছিল, তাও মানলাম। তুমি ভেবেছিলে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে রাত হলে বাড়ি ফিরবে, যেন জেসমিন বোঝে তোমার রাগটা পড়েনি, এও মানলাম। শহরের সব রাস্তা যে সন্ধ্যার পর নিরাপদ না, তুমি এটুকু মানবে না।
তাকে ছিনতাইকারী ধরেছিল তিন জন। অল্প বয়স। হালকা-পাতলা। যদি এমন হতো, সে অফিস থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার সময় এদের কারও বা তিনজনের সঙ্গেই তার ঝগড়া লেগেছে, সে একাই সামলাতে পারত। কিন্তু সে এসেছে শহরের এক কোণে, আর প্রথমে না বুঝলে তাদের দ্বিতীয় ডাকেই সে বুঝেছে এরা ছিনতাইকারী, তখন তার শরীর ঠান্ডা আর মন ও শরীরের জোর উধাও, আর… আর ব্যাপার হলো তাদের একজনের হাতে ছুরি। ছুরিটা সে অবশ্য একটু পরে দেখেছে। তা, ছুরি আগে দেখলেও ছুরি পরে দেখলেও ছুরি।
সে হাঁটছিল বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে। তার হাঁটতে ভালো লাগছিল। দুপাশ বেশ চুপচাপ, গরমকাল যদিও, তাও একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল। তার মনে হলো, ঠিক মনে হওয়া না, সে আসলে ভাবল—একবার জেসমিনকে নিয়ে সে বেড়াতে আসবে এদিকটায়। জেসমিনের সঙ্গে তার ঝগড়াটা শুরু কিন্তু এই বেড়াতে যাওয়া নিয়েই। গত রাতে যা হলো, খাওয়ার পর সে ঘরের ভেতরই একটু হাঁটাহাঁটি করছে। এটা ডাক্তারের নির্দেশ। তাকে কম খেতে বলেছে আর খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করতে বলেছে। এর দুটোর কোনোটাই মানা হয় না। খাবার—এ কি কম খাওয়া যায়! আর ভরপেটে হাঁটাহাঁটি এক বিরক্তিকর ব্যাপার। গত রাতে সে ভাবল, ডাক্তারের কথা মাঝেমধ্যে শোনা উচিত। সে দেখেছে, রাতে খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করলে সকালে শরীর বেশ ঝরঝরে লাগে।

সে হাঁটা শেষ করে বিছানায় এসে বসল, টিভি ছাড়ল, রান্নাঘরের কাজ শেষ করে এল জেসমিন। সে শাড়ির আঁচলে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলল—কাজ আর ফুরোয় না।

তুমি গুছিয়ে কাজ করতে পার না। আখলাক বলল। তাই সময় বেশি লাগে।

জেসমিন এক পলক তাকাল—ওহ, তুমি তো কাজ করে একদম উল্টে দাও।

না, সোজা করেই করি। ওল্টালে বেশি সময় লাগত।

আমার জানা আছে।

আমারও।

তুমি সব সময় আমার ভুল ধর কেন?

আমি! আমি কি তোমার পরীক্ষার খাতা দেখি যে ভুল ধরব?

লেগেই আছে তোমার। আমি এটা পারি না, আমি ওটা পারি না।

পারলে কেউ আর বলতে পারত না—পার না।

বেশ পারি না। তুমি কথা বোলো না আমার সঙ্গে।

কতক্ষণ? আখলাক ‘কতক্ষণ’ বলল আর আড়চোখে জেসমিনের দিকে তাকাল। তার বেশ লাগছিল। জেসমিনকে একটু একটু খেপিয়ে দিতে তার বেশ লাগে। সেজন্যই আড়চোখে তাকাল, বোঝার চেষ্টা—জেসমিন কতটা খেপল। জেসমিনের একটা সমস্যা আছে, সে এত বারবার খেপানোর চেষ্টা করার পরও জেসমিন বুঝতে পারে না সে আসলে মজা করছে। বুঝতে পারে না বলেই সে খেপে যায়। খেপুক—আখলাক ভাবল। এতটা সে খেপবে না যে তাকে আর বোঝানোই যাবে না। খেপাতে তার ভালো লাগছিল আর তার ওই ইচ্ছাটাও করছিল। কে না জানে, রাগ ভাঙানোর ঝগড়ার পর ওটা যখন হয়, ওটা তখন খাপে খাপ মতলবের বাপ—এরকম লাগে।

আখলাক বুঝতে পারে জেসমিন কতটা খেপল, কতদূর। সে তাই তাকাল আর বোঝার চেষ্টা করল। সে যে তাকাল, তাকাল যদিও আড় চোখে, জেসমিন বুঝে ফেলল। জেসমিন বলল—তুমি ঝগড়া করতে ভালোবাস? ঝগড়া আর কোথায়! ঝগড়া হয় দুজনে। এখানে তুমি একাই।

আমি একা? তুমি ন্যাকা?

যা ইচ্ছা বলো। বউকে ন্যাকা বলতে যদি তোমার ভালো লাগে বলো।

ব্যাপার বলো।

কী ব্যাপার?

আমার মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা বলার পরিকল্পনা নিয়ে আমার পাশে বসেছ।

তোমার মাথায় বুদ্ধি গজগজ করে, না? সব যেন বুঝে ফেল।

বলো।

কক্সবাজার যাব। … তুমি তো আর নিয়ে গেলে না।

আখলাক বলল—যাও।

সে এতই সহজ স্বাভাবিক গলায়, জেসমিন হকচকিয়ে গেল—যাব তো।

হ্যাঁ, আমি কি বলেছি যাবে না!

পরশু যাব…।

বাহ, মাঝখানে তা হলে একটা দিন সময় আছে। তাও ভালো, বাস ছাড়ার আগে বলোনি।

আহা, খোঁচা মেরো না। ঠিক তো হলো হঠাত্ করে। আজ সকালে। শুধু আমরা, বন্ধুরা।

তুমি আর শান্ত?

কথাটা বলেই প্রচণ্ড ঝাঁকি খেল আখলাক। সে জেসমিনের দিকে আড়চোখে তাকাবার সাহসও পেল না। যদিও জেসমিনকে দেখতে তার প্রচণ্ড ইচ্ছা করছিল, ঠিক দেখা নয়, বোঝা, তার জেসমিনকে বুঝতে ইচ্ছা করছিল। সে বলল—তোমরা কোন কোন বন্ধুরা যাবে? লিস্টটা শুনি।

তুমি কী বললে?

কে কে যাবে তোমরা?

তার আগে, তুমি কী বললে আখলাক?

তার আগে কী বলেছে সে, আখলাক বোঝার চেষ্টা করল। আর কেনই বা বলেছে, কেন… কেন, এটাও আখলাক বুঝতে চাইল। কেন, কেন আমি এই কথা বললাম, হঠাত্ করে, প্রসঙ্গ ছাড়া, কেন—সে বারবার নিজেকে এই প্রশ্ন করল। তারপর সে জেসমিনের দিকে তাকাল না, বলল—আরে ধ্যাত্, কথার কথা!

কথার কথা! এটা কথার কথা!

আহা জেসমিন, এমনি বলেছি।

এমনি! আখলাক, এটা এমনি বলার কথা! বলো, তুমি কী বলতে চাও বলো।

আহা, তোমাকে খেপানোর জন্য বলেছি।

আমাকে খেপানোর জন্য তোমাকে শান্তকে টেনে আনতে হবে! ছিঃ, আখলাক, তুমি নোংরা।

আখলাক চুপ করে থাকল।

তুমি নোংরা, বুঝতে পারছ?

একবার ভাবল আখলাক, সে এমন বলবে—হ্যাঁ, আমি তো নোংরা, তুমি মিনারেল ওয়াটার। সে বলল না। তবে তার মনে হলো—এমন সে বলতে পারে।

জেসমিন বলল—ছিঃ!… তোমাকে কতবার, কতবার বলেছি…।

আখলাক এবার ভাবল, সে এইভাবে বলবে—বলেছ। কিন্তু গুজুর গুজুর, ফুসুর ফুসুর থামাওনি।

জেসমিন বলল—তুমি নোংরা… নোংরা।

আখলাকেরও হঠাত্ খুব লজ্জা লাগল। তাই সে ধমকে উঠল—চুপ, একদম চুপ।

বেড়িবাঁধের ওপর অন্ধকার হয়ে আসছিল। আখলাক গ্রামের ছেলে, সে বহুবার দেখেছে—খোলা জায়গায় আঁধার আগে নেমে আসে। এই দৃশ্য তার এতই পরিচিত, এখন কিছু তার কাছে আর নতুন লাগে না। অথচ, এই যে বেড়িবাঁধ ধরে হেঁটে যাচ্ছে, মৃদু পায়েই হাঁটছে, কারণ অলস ভ্রমণের মতো মৃদু পায়ে হাঁটতে তার ভালো লাগছিল। তবে তার ভেতরে একটা উত্তেজনা, উত্তেজনা বলা বোধহয় উচিত হবে না, খচখচানি, কিংবা এভাবেও ভাবা যায়—কিছুটা উত্তেজনা, কিছুটা খচখচানি, মিলেমিশে ছিল। সে দিগন্তে সূর্যের একটু একটু করে নিজেকে নামিয়ে নেওয়া যেমন দেখছিল, তার ভালো লাগছিল দেখতে, তেমন সে জেসমিনের কথাও ভাবছিল, হ্যাঁ, জেসমিনের কথা ভাবতেও তার ভালো লাগছিল। তবে এই ভালো লাগা বারবার ম্লান করে দিচ্ছিল কাল রাত আর সকালের ঝগড়াটা। আচ্ছা, সে কি একদিন, কোনো এক বিকালে, খুব তাড়াতাড়িই, জেসমিনকে নিয়ে এখানে বেড়াতে আসবে? জেসমিনদের কক্সবাজার যাওয়া কি ঠিক আছে? যদি মন খারাপ করে না যায়, সে বড় বাজে ব্যাপার হবে। নিজেকে তার ছোট মনে হবে, খুব খুব ছোট।

ঠিক আছে, আখলাক অবশ্য এমনও ভাবল, সে খারাপ সে নোংরা—সে অস্বীকার করছে না, তার ওই সময় শান্তর প্রসঙ্গ তোলা উচিত হয়নি, শুধু ওই সময়ের কথাও না হয় সে বলবে না, কোনো সময়ই তার তোলা উচিত না শান্তর কথা, কারণ শান্তকে নিয়ে তার আর জেসমিনের বেশ অনেক কথা হয়েছে, কিছু ঝগড়াও, তবে—এও কি ঠিক না, শান্তর সঙ্গে মেলা-মেশা জেসমিনের বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল? নির্দোষ মেলামেশা, জেসমিন বলবে, সই, সে বলছে না এই মেলামেশার অন্য অর্থ আছে, কিন্তু চোখে লাগে না? এলাকার লোকজন দেখে না? দেখে কখনো কিছু ভাবে না? আর এত কিসের গল্প, কিসের! জেসমিন আর শান্ত থাকত এক এলাকায়, কৈশোরে, তাই বলে তাদের গল্প ফুরোবে না!

এসব ভাবতে ভাবতে আখলাক একটু বেশিই অন্যমনস্ক ছিল, নইলে, সে সতর্ক মানুষ, সে বুঝত, কিংবা তার নজর এড়াত না, সে সময় কেউ একজন গলা খাকারি দিল। কেউ কি তাকে বলবে কিছু? মানে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করবে? সময় কয়টা, যদিও আজকাল ঘড়ি সবারই আছে, ঘড়ি না থাকলেও মোবাইল ফোন, সময় সেখানেও দেখা যায়। চোখ ফিরিয়ে তাকাতে তাকাতে বাঁ হাত তুলে সময় নিজেও একটু দেখে নিল আখলাক।

ছোটখাটো একটা ছেলে, হালকা পাতলা, হাসিমুখে তাকিয়ে আছে, বলল—আসসালামু আলায়কুম।

সালাম। আখলাক বলল। একটু মাথাও সে ঝাঁকাল।

ভাই, ভালো আছেন? বলতে বলতে ছেলেটা কাছে এসে দাঁড়াল।

এই এলাকায় তার কেউ চেনাজানা নেই, এ অবশ্য হলফ করে বলা যায় না—নেইই, সে যতদূর জানে আর কি—নেই।

ভালো। বলে পা বাড়াল আখলাক। তার হঠাত্ই অস্বস্তি লাগছিল। পেছন থেকে যে আরও দুজন এসে দাঁড়িয়েছে, সে একটুও বোঝেনি। বুঝল, যখন সে পা বাড়ালে পেছন থেকে দ্রুত একজন টপকে তার পথ বন্ধ করে দিল।

আক্কাস ভাইয়ের লগে বহুতদিন পর দেখা। সামনের জন বলল, ভাই, তাড়া আছে?

হ্যাঁ। আর আপনাদের আমি চিনি না।

চেনার দরকার কী?

আমার নাম আক্কাস না।

তাইলে মফিজ। বলেই ছেলেটা তাকে ধাক্কা দিল। ধাক্কায় পড়ে গেল না আখলাক, তবে সে টলে উঠল। থিতু হওয়ার আগে তিনজন তাকে টেনে নিয়ে গেল একপাশে। লোকজন আছে, বেড়িবাঁধ আর কতই-বা চওড়া, লোক কখনো পাশেই, তবে তারা দ্রুত হাঁটছে। আখলাক তাদের ডাকতে গিয়ে ডাকল না, তাদের দোষ দিল, সে ভাবল—আমিও এমনই করতাম। খুব দ্রুত পা বাড়াতাম যেন খুব দ্রুত সরে পড়তে পারি। এরকম ভেবে সে ক্লান্ত গলায় বলল—আমার কাছে কিছু নাই।

সেইটা আমগো বুঝতে দে।

সত্যিই কিছু নেই।

নাই ক্যান! হোগার পুত, নাই ক্যান!

তারা খুঁজতে লাগল। বেশ আগে একবার, সে তখন কিশোরকাল পেরিয়েছে, পুলিশ তাকে তল্লাশি করেছিল। সে ছিল পুলিশের মজা, সে তখনই বুঝেছিল, এও বুঝেছিল—পুলিশেরও মজা লাগে, তার তল্লাশি চালিয়ে, জায়গামতো হাত চালিয়ে এক পুলিশ বলেছিল—না, এর লগে কিছু নাই।… আছে। ছোড।

আখলাক ভাবল, আজও কি তেমন কিছু হবে, আজ অবশ্য ‘ছোড’ বলতে পারবে না, জেসমিন মাঝে মাঝে বলে, তেমন মুডে থাকলে—এটা কি অর্ডার দিয়েছিলে—শুনে ভালো লাগে আখলাকের, তবে এখন, দ্বিতীয় চিন্তায় তার মনে হলো, আজও আসলে ‘ছোড’ বলার সমূহ সম্ভাবনা আছে, সে ভয় পেয়েছে, সে বুঝতে পারছে সে ভয় পেয়েছে, তার শরীর কখন যে এত ঘামল, আর যখন একজন তার প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাত আরও ভেতরদিকে ঠেলছে, আখলাকের মনে হলো—তার ওটা নেই। কখনো ছিল কি না, হঠাত্ সেটাও সে মনে করতে পারল না।

ছেলে তিনজন তার মানিব্যাগ নিল, ঘড়ি নিল, মোবাইল সেট নিল। তার সঙ্গে আর কিছু নেই নেওয়ার মতো। তিনজনের একজন বলল—কীরে, কইছিলি তোর লগে কিছু নাই!

আখলাক টের পেল তার বমি বমি লাগছে। তার লজ্জাও লাগল, সামান্য একটা ছিনতাই, এই কারণে বমি করবে! এরা হাসাহাসি করবে না। এরকম ভাবতে ভাবতে সে বমি করে দিল। তিনজন ছিটকে সরে গেল এবং একজন পরমুহূর্তে বলল—হালায় কিন্তু এই চান্সে দৌড় দিব। অ্যাকটিং করতেছে!

আহা! এই এমন দুঃখের সময়েও পর্যুদস্ত আখলাকের মনে হলো—আহা, সে কি অ্যাক্টর যে সে বমি করবে? অ্যাকটিং যদি সে জানত….। অ্যাকটিং জানলে কী হতো সেটা সে গুছিয়ে ভাবতে পারল না। তবে এরকম বলল সে—অ্যাকটিং না ভাই, সত্য।

ছেলে তিনজন আবার এগিয়ে এসে ঘিরে ধরল তাকে—পালাইবি না।

আখলাক বুঝতে পারল না এখন সে পালালেই কী, না পালালেই কী, এখন তার কাছে এমন কিছু নেই যা তারা নিতে পারে।

একজন তাকে একটা চড় বসাল—কীরে, কিছু নাই কইছিলি, মিছা কইছিলি ক্যান!

আখলাক চুপ করে থাকতে পারত, মাথা নিচু করে চুপ করে, সে চুপ করে না থেকে নরম গলায় বলল—ভাই, এটাকে কি কিছু থাকা বলে! তার এরকম বলার পেছনে কারণ আছে। তার হঠাত্ মনে হয়েছে, এদের সহানুভূতি অর্জন করতে হবে, সহানুভূতির আকারে বাস ভাড়াটা সে যদি আদায় করতে পারে, খুব উপকার হবে, না হলে এতটা পথ হেঁটে ফেরা… না, এরপর সেটা সে পারবে না। সে বলল—মিছা তো বলি নাই, এইটা থাকা!

আরেকটা থাপ্পড় দিল আরেকজন—সেইটা আমরা বুঝব—আছে কি নাই। তোরে খাতাকলম নিয়া হিসাবে বইতে কইছে কে!

এই থাপ্পড়টা জোরে লেগেছে, গাল জ্বলছে। একটু কি ফুলেও গেছে? সে সঙ্গে আয়না রাখে না। রাখলেও অবশ্য সে এখন আয়না খুলে গাল দেখতে যেত না। এরা আরও খেপে যেত। এখন এদের খেপানো যাবে না। দুটো থাপ্পড় সে খেয়েছে, আর তার ইচ্ছা নেই। কিন্তু দুজন যখন দিয়েছে, তৃতীয় জন কি আনন্দে অংশ নেবে না। আখলাক তৃতীয় জনের দিকে তাকাল, তৃতীয় জন বলল—লগে আর কী আছে, ক।

কী বলবে সে! তার সঙ্গে আর যে কিছু নেই, এরা তা জানে। তারপরও যদি বলে, তার কি কোনো উত্তর থাকে দেওয়ার!

অই, ক, লগে আর কী আছে?

এই একটু আগে বমি করার পরপর, সে বমির না, জেসমিনের গন্ধ পেয়েছিল। একবার হয়েছিল কী, সে বিছানায় বমি করে ফেলেছিল। না না, জেসমিনের ওপর রাগ করে না। সব উল্টেপাল্টে দেওয়ার মতো রাগ সে মাঝেমাঝে করেছে বই কি, সে অন্য কথা, সেদিন তার শরীরটা ভালো ছিল না। বুক জ্বলছিল, তার অ্যাসিডিটি নেই, তবু, আর রাতে ভাত খেয়ে এসে বিছানায় বসার পর হঠাত্ কী যে হলো, সব হড়হড় করে উঠে এলো। তার শার্ট, তার লুঙ্গি, বিছানার একপাশও একদম… কী যে অবস্থা! আখলাক ভেবেছিল, কী যে বলবে জেসমিন, নাও বলতে পারে—আবার এমনও সে ভেবেছিল, তবে বিরক্ত নিশ্চয় হবে, সেই বিরক্তির ছাপ পড়বে মুখে, আখলাক, কতটা বিরক্ত হলো জেসমিন তা দেখার জন্য তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। সে দেখল জেসমিন বিরক্ত হলো না, একটুও না। বরং তার মুখ মমতায় ও উদ্বেগে ভরে গেল। সে আখলাককে সামলাতে সামলাতে বলল—এ কী হলো, এ কী হলো তোমার। সে সময় ঝুঁকে এসেছিল জেসমিন, তার মুখ ছিল আখলাকের মুখের কাছে, তার চুল ঢেকে দিচ্ছিল আখলাকের মুখমণ্ডল, চুলের ফাঁক দিয়ে আখলাক দেখতে পাচ্ছিল জেসমিনের স্তনযুগলের উপরিভাগ স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে, সে সময় আখলাক জেসমিনের শরীর থেকে গন্ধ পেয়েছিল, পরে সে জেসমিনকে বলেছিল—আমি তোমার ওই গন্ধটার নাম দিয়েছি জেসমিন। জেসমিন গন্ধ।

আখলাক, জিজ্ঞেস করেছিল যে ছিনতাইকারী, তার দিকে তাকাল।

ধান্ধা মারছস ক্যান! লগে কী আছে?

জেসমিনের গন্ধ। আখলাকের মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেল, সে কোনোভাবেই এই কথা বলতে চায়নি। জেসমিনের গন্ধের কথা সে কেন বলবে! জেসমিনের গন্ধ এরা কী বুঝবে!

এইটা কী? এই যে কইলি কিসের গন্ধ।

বুঝবেন না। বাদ দেন।

হালায়, তোর গায়ে তো বমির গন্ধ। … হালায় গান্ধা।

আমাকে যেতে দিন। আপনাদের কাজ তো হয়েছে।

ছিনতাইকারীদের একজন তখন হো হো করে হাসতে আরম্ভ করল। তার হাসি অন্য দুজনকে বিভ্রান্ত করল—হাসস ক্যান?

গতকাইল রাতে, খিয়াল কর, ওই যে খানকি ধরছিলাম না একটা, হেতো প্রথমেই বুঝছে পয়সা দিমু না, কিন্তু কাম করব, কাম হইয়া যাওয়ার পর কইল—এইবার ছাড়েন, কাম তো সারছেন। এই মফিজেও দেখি অমনেই কয়!

কথা শেষ করে সে হাসতে আরম্ভ করল, তার সঙ্গে বাকি দুজনও।

পারলে ১০টা টাকা দেন। বাস ভাড়া।

দেখছোস দেখছোস! ওই খানকিও এই ভাবেই কইছিল—পুরাই মাগনা নিবেন, বিশ ট্যাকাও দিবেন না।… এই খানকির পুতের সাহস বেশি। বলতে বলতে সে ছুরি বের করল। ছুরি দেখল আখলাক, বড়, খুব একটা ধারালো না, তার মনে হলো মাঝে মাঝে তার ছুরির শখ হয়েছে, কেন, এখন বলতে পারবে না, তার মনে হয়েছে একটা ছুরি থাকুক তার, তবে এরকম না—ধারালো।

ছুরি বের করতে দেখে আরেকজন বলল— ওই, এই কাজ করিস না।

করুম। সে হেসে বলল।

ঝামেলা বাড়াইবি ক্যান!

বহুতদিন করি না দোস্ত। ইচ্ছা করতেছে।

না, করবি না। ঝামেলা বাড়ব।

কিন্তু ছুরিঅলা তার কথা শুনল না। ছুরিঅলার মুখে ছড়িয়ে পড়া হাসি, সে আখলাকের দিকে তাকিয়ে বলল— মফিজ, আইজ আমি তুমারে মাইরা ফেলব মফিজ।

আখলাক ভাবার সময় পেল না, তার আগেই সে টের পেল ধারহীন ছুরিটা তার ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। ধার নেই, তাই সে ব্যথা পাচ্ছে, ধার থাকলে সে নিশ্চয় এত ব্যথা পেত না। সে কি জিজ্ঞেস করবে, এমন একটা ভোঁতা জিনিস কেন, কেন এমন ভোঁতা জিনিস!

নিজের জন্য খুব কষ্ট হলো আখলাকের। সে মারা যাচ্ছে, এই ভেবে। এই তো একটুক্ষণ, তারপর সে মারা যাবে। আহা, জেসমিন জানতেও পারল না। জেসমিন… জেসমিন, আখলাকের খুব জেসমিনের কথা মনে পড়ল আর তার কাছে যেতে ইচ্ছা করল। কিন্তু তার ব্যথাও লাগছে, ভোঁতা ছুরি ভোঁতা ছুরি… জেসমিন পাশে থাকলে কি তার ব্যথা কমত?

আখলাক টের পেল সে কাঁদছে। ছুরিটা পুরো ঢুকিয়ে যে মোচড় দিচ্ছে, আখলাক তার দিকে তাকাল। এই লোকের হাসিটা সুন্দর, একটু দুষ্টু দুষ্টু ব্যাপার আছে তার হাসির মধ্যে, কিন্তু সুন্দর। এই, এই লোকটাই তাকে একটু আগে বলল—মফিজ, আজ আমি তুমারে মাইরা ফেলব, মফিজ।

তা, তখন একটা কথা আখলাকও বলেছিল জেসমিনকে। প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে তাদের, সে ফিসফিস করে বলেছিল—জেসমিন, আজ আমি তোমাকে মেরে ফেলব জেসমিন। আর, এর কিছুক্ষণ পর জেসমিন বলেছিল—ব্যথা পাচ্ছি কিন্তু।

সে কি বলবে এই লোককে—ব্যথা পাচ্ছি কিন্তু!

হয়ে যাওয়ার পর জেসমিন বলেছিল—ধ্যাত্, কী মাথামোটা জিনিস একটা… এইটা… এইটা অন্যরকম হতে পারল না!

তারপর বহুবার তাদের হাসাহাসি হয়েছে এইসব উচ্চারণ নিয়ে। আজ হাসাহাসি না হোক, হাসাহাসির সুযোগ কই, সে করুণ গলায় বলতে পারে—এমন একটা ভোঁতা জিনিস সঙ্গে রেখেছেন… এমন ভোঁতা।

বলবে কি বলবে না, মনস্থির করার আগে আখলাকের পেটের ভেতর ছুরিটা পরপর দুবার মোচড় খেল। ছুরিটা বের করে নিল ছেলেটা, হাসল-করছি। দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করল আখলাক, পারল না। ডাক্তারের কাছে যেত ইচ্ছা করল আখলাকের, জেসমিনের কাছেও, সে পা বাড়াতেও নিল, পারল না, সে পড়ে গেল মাটিতে, সে বুঝল সে মারা যাচ্ছে। গভীর শ্বাস নিল সে। ছেলে তিনটা ততক্ষণে এগিয়ে গেছে। তাদের যদি ডাকা যেত, সেল ফোনটা একটু দরকার, জেসমিনকে না জানিয়ে তার মরে যেতে ভালো লাগবে না। কিন্তু এরা নিশ্চয় তার ছোট্ট অনুরোধটাও রাখবে না। এটা মেনে নিতে হবে তাকে, এটা মেনে নিতে হবে, সে কাউকে আর মৃত্যুর খবর দিয়ে যেতে পারবে না।

গ্রামে তাদের দু-বাড়ি পর ছিল জমিরুদ্দিন চাচার বাড়ি। চাচা এক রাতে বাইরে থেকে ফেরার পথে রাস্তার ওপর মরে গেল। কীভাবে মরে গেল কেউ বুঝতে পারল না। আখলাক তখন ছোট, সে লোকজনের কত কথা শুনেছিল—জমির চাচার এই হয়েছিল, জমির চাচার ওই হয়েছিল। কী যে আসলে হয়েছিল, তা কখনো ঠিক ঠিক বোঝেনি কেউ। লোকজন ভুলেও গিয়েছিল, শুধু জমির চাচার বাড়ির পাশ দিয়ে গেলে কখনো চাচির বিলাপ শুনতে পাওয়া যেত—লোকটা বইলা গেল না, লোকটা বইলা গেল না!

ধ্যাত্, আখলাক মনে মনে বলল, সে নিজেই যখন মারা যাচ্ছে, জমির চাচার কথা কেন ভাববে। তার কথা হলো, এমনও সে ভাবল, বলে গেলেই বা কী, না বলে না গেলেই বা কী, মৃত্যু মৃত্যুই।

মঈনুল আহসান সাবের
মঈনুল আহসান সাবের
মঈনুল আহসান সাবের (জন্ম ২৬ মে ১৯৫৮) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক। তাঁর পিতা কবি আহসান হাবীব। জন্মস্থান ঢাকা। শিক্ষা: মাধ্যমিক: ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা (১৯৭৩) উচ্চ মাধ্যমিক: ঢাকা কলেজ (১৯৭৫) স্নাতক সম্মান (সমাজবিজ্ঞান): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৮) স্নাতকোত্তর (সমাজবিজ্ঞান): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৯) পেশা: কার্যনির্বাহী সম্পাদক: সাপ্তাহিক ২০০০, লেখালেখি। পুরস্কার: বাপী শাহরিয়ার শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), ফিলিপস পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬) প্রকাশিত গ্রন্থ: পরাস্ত সহিস (১৯৮২), অরক্ষিত জনপদ (১৯৮৩), স্বপ্নযাত্রা (১৯৮৪), আগমন সংবাদ (১৯৮৪), মামুলী ব্যাপার (১৯৮৪), চারদিক খোলা (১৯৮৫), একবার ফেরাও (১৯৮৫), আদমের জন্য অপেক্ষা (১৯৮৬), আগামী দিনের গল্প (১৯৮৭), পাথর সময় (১৯৮৯), এসব কিছুই না (১৯৮৯), লাল বাড়ির অদ্ভুত ভূত (১৯৮৯), ভিড়ের মানুষ (১৯৯০), এরকমই (১৯৯০), কেউ জানে না (১৯৯০), কোনো একদিন (১৯৯০), মানুষ যেখানে যায় না (১৯৯০), এক রাত (১৯৯০), চার তরুণ-তরুণী (১৯৯০), কয়েকজন অপরাধী (১৯৯০), পরাজয় (১৯৯০), লিলিপুটরা বড় হবে (১৯৯০), বাংলাদেশের ফুটবল তারকা (১৯৯০), সীমাবদ্ধ (১৯৯১), অচেনা জায়গায় (১৯৯১), কয়েকটি প্রেমপত্র (১৯৯১), সতের বছর পর (১৯৯১), এ এক জীবন (১৯৯১), অপরাজিতা (১৯৯১), ফেরা হয় না (১৯৯১), অগ্নিগিরি (১৯৯১), ধারাবাহিক কাহিনী (১৯৯২), অপেক্ষা (১৯৯২), কবেজ লেঠেল (১৯৯২), হারানো স্বপ্ন (১৯৯২), দুই বোন (১৯৯২), নীল খাম (১৯৯২), না (১৯৯২), সে তোমাকে পাবে না (১৯৯২), মুন্নী (১৯৯২), লজ্জা (১৯৯২), ভূতের থাকা না থাকা (১৯৯২), সুদূর (১৯৯৩), প্রেম ও প্রতিশোধ (১৯৯৩), স্বজন (১৯৯৩), তুমি আমাকে নিয়ে যাবে (১৯৯৩), মঈনুল আহসান সাবেরের প্রেমের গল্প (১৯৯৩), এক ঝলক আলো (১৯৯৪), দুপুর বেলা (১৯৯৫), মৌমাছি ও কাঠুরিয়া (১৯৯৬), তিন সাংবাদিক ভূত (১৯৯৭), মুক্তিযোগ্দধা আব্দুল মালেকের হাসি (১৯৯৭), সংসার যাপন (১৯৯৭), মৃদু নীল আলো (১৯৯৭), রেলস্টেশনে অজানা গল্প (১৯৯৮), জ্যোতির্ময়ী, তোমাকে বলি (১৯৯৮), যোগাযোগ (১৯৯৮), নির্বাচিত প্রেমের উপন্যাস (১৯৯৯), ঠাট্টা (১৯৯৯), অবসাদ ও আড়মোড়ার গল্প (১৯৯৯), ফিরে আসা (১৯৯৯), নির্বাচিত গল্প (১৯৯৯), ব্যক্তিগত (২০০০), বৃষ্টির দিন (২০০০), খুনের আগে ও পরে (২০০০), সবচেয়ে সুন্দর (২০০০), এটা আমার একার গল্প (২০০১), কেউ একত্রে অপেক্ষা করছে (২০০১), উপন্যাসসমগ্র (২০০১), কিশোর সমগ্র (২০০৩), ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ (২০০৩), আমাদের খনজনপুর (২০০৪), পরের ঘটনা (২০০৪), শরীরের গল্প (২০০৪), যে কেউ না, তার সঙ্গে (২০০৫), সুকুমারের লজ্জা (২০০৫), তিলকের গল্প (২০০৬), দূরের ঐ পাহাড়চূড়ায় (২০০৬), এই দেখা যায় বাংলাদেশ (২০০৬), ঋষি ও নারী (২০০৫)। লেখা নিয়ে নির্মিত নাটক: পাথর সময়, না প্রভৃতি নির্মিত চলচ্চিত্র: লিলিপুটেরা বড় হবে আমি ধর্মবিশ্বাসী নই। এটি আমার আত্মীয়স্বজন, কাছের বন্ধুবান্ধব জানেন। আর কেউ জানেন না। কারণ আমার কাছে এটা জানান দেওয়ার ব্যাপার না। আমি আস্তিক নাস্তিক এই ব্যাপারগুলো নিয়ে ব্যস্তও নই। কখনো মনে করি না, নাস্তিকতা "প্রগতিশীলতার " অংশ হিসাবে ঘোষণা দেওয়ার মতো কিছু। যারা ঘোষণা দিয়ে নাস্তিক, যুক্তি নিশ্চয়ই তাদেরও মজুদ আছে। আমি আস্তিক নাস্তিক, এরকম সরল বিভাজনের ভেতরেও নেই। ধর্মের বিশ্বাস বা দর্শনগত দিকটি আমার কাছে প্রয়োজনীয় নয়। অস্বীকার করি না, পাশাপাশি, ধর্মের যে আচারিক, সাংস্কৃতিক ও দাপ্তরিক দিক আছে, তা আমাকে কমবেশি মেনে চলতে হয়। ধর্ম নিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলার জন্য, ধর্মের সমালোচনার জন্য, ধর্ম ও এর পয়গম্বরকে গালিগালাজ করার জন্য এবং মূলত ইসলাম ধর্মের বিনাশ বা ধংস চাওয়ার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন খুন ও আক্রান্ত হয়েছেন। হ্যাঁ, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন আমি এড়িয়েও যেতে পারি না। আমরা আসলে কী চাই? ধর্ম বা ইসলামহীন সমাজ? মোহাম্মদকে বেজন্মা বলে গালি দিয়ে সেটি কায়েম সম্ভব? আবার আমরা শুধু গালিই দেব, কিন্তু চাপাতির সংখ্যা দিনদিন কেন এত বাড়ছে, এটা বোঝার চেষ্টা করব না, এটাই বা আমাদের কী দেবে? অনেককেই বলতে শুনি, সমালোচনার জবাব খুন হতে পারে না। আমি আরেকটু এগিয়ে বলি, যে গালি বিশ্বাসিদের বুক ভেদ করে দেবে, তার জবাবও খুন হতে পারে না। কিন্তু মুসলমানদের অবস্থাটা, বিশ্বজুড়ে, কখনো কি বোঝার চেষ্টা করব, আমরা? পৃথিবীর কোনো আদিবাসীও হয়তো এতটা অস্তিত্ব সংকটে নেই, যতটা আছে মুসলমানরা। পুঁজি চায় প্রতিপক্ষ। এ মুহূর্তে মুসলমান ছাড়া আর কে হতে পারে প্রতিপক্ষ! মনে রাখুন, এখানে ধর্মের কোনো ব্যাপার নেই, ব্যাপার যা আছে, তা পুঁজিবাজার নিশ্চিত করার ও বৃদ্ধির। মুসলমান ক্রমশ কোনঠাসা হচ্ছে, ক্রমশ উন্মত্ত হচ্ছে। আপনি এর কাছে যুক্তি আশা করছেন আপনার কোন বিবেচনায়? আমাদের এখানে যে ঘটনাগুলো ঘটছেে, আমরা বলে দিচ্ছি তারা মাদ্রাসার ছাত্র, বলে দিচ্ছি তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর, অনুন্নত, বর্বর। এসব বলার পর আপনি আবার আশা করছেন, এই বর্বর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যে কোনো সমালোচনা সহজভাবে নেবে, চিন্তার খোরাক হিসাবে নেবে! পুঁজির বাইরে ঘটনা ঘটে না। আমাদের এখানেও ওরা টিকে থাকে পুঁজিবাজার সচল রাখার প্রয়োজনেই। ধর্ম বোঝার আর মুখ খোলার আগে, সম্ভব হলে, আরো কিছু প্রাসঙ্গিক ব্যাপার বুঝে নিন। লাভ আমার আপনার, সবার।