নীল জলের রান্না

কিছু লাল মোটা চাল ছুঁড়ে মারলে মুখে
‘যা, রেশনের দোকানে লাইন দে গে যা।’
হ্যাঁ, যাবোই তো। আমার কার্ডের যা প্রাপ্য
আমি তা নিয়েই ফিরবো, তা ছাড়া উপায় নেই।
কিন্তু এখনও যেহেতু তৈরি হয় নি
চিহ্নপত্র আমি তাই জানিও না
কতোটা বাতাস আছে আমার ভাগে,
কয় সের চিনির মতো শুভ্র তারার ফেনা,
সমুদ্রের নীল জল কয় পাইট!
শুনেছি রেশনের কাউন্টারের সেই ভীষণ বিক্রেতা
লোক বুঝে জিনিশ দেয়, কেউ পায়
সরু, মিহি, শাদা, কেউ শুধু
লাল, মোটা চাল — আমি তো তা-ই চাই
আমার হাতের তালুতে শ্বেত শুভ্র জ্যোৎস্না-কণার মতো
শাদা চাল নিমেষে শুকিয়ে যাবে। পাখির মাংসও আজ আর
পছন্দ করি না। প্রতিহিংসাপরায়ণপর দাঁত
আহ্লাদে লবণাক্ত হয়, লাল চক্ষু মহিষের মাংসময় ঊরু দেখে
আবাল্য অভ্যস্ত আমি—যাবো—রেশনের দোকানেই আমি যাবো।
আমারও ঘরে উনুনের উৎসব শুরু হবে। পড়শিদের সচকিত ক’রে
আমিও নীল জলে লাল চাল রান্না ক’রে নেবো।

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  চোখ বিষয়ে
শহীদ কাদরী- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...