বাদল-ধারা হল সারা, বাজে বিদায়-সুর।
গানের পালা শেষ ক’রে দে রে, যাবি অনেক দূর॥
ছাড়ল খেয়া ও পার হতে ভাদ্রদিনের ভরা স্রোতে রে,
দুলছে তরী নদীর পথে তরঙ্গবন্ধুর॥
কদমকেশর ঢেকেছে আজ বনতলের ধূলি,
মৌমাছিরা কেয়াবনের পথ গিয়েছে ভুলি।
অরণ্যে আজ স্তব্ধ হাওয়া, আকাশ আজি শিশির-ছাওয়া রে
আলোতে আজ স্মৃতির আভাস বৃষ্টির বিন্দুর॥
Related Articles
মুখখানি কর মলিন বিধুর যাবার বেলা
মুখখানি কর মলিন বিধুর যাবার বেলা– জানি আমি জানি, সে তব মধুর ছলের খেলা ॥ গোপন চিহ্ন এঁকে যাবে তব রথে– জানি তুমি তারে ভুলিবে না কোনোমতে যার সাথে তব হল এক দিন মিলনমেলা ॥ জানি আমি যবে আঁখিজল ভরে রসের স্নানে মিলনের বীজ অঙ্কুর ধরে নবীন প্রাণে । খনে খনে এই চিরবিরহের ভান, ক্ষনে […]
ধরা সে যে দেয় নাই,
ধরা সে যে দেয় নাই, দেয় নাই, যারে আমি আপনারে সঁপিতে চাই– কোথা সে যে আছে সংগোপনে, প্রতিদিন শত তুচ্ছের আড়ালে আড়ালে। এসো মম সার্থক স্বপ্ন, করো মোর যৌবন সুন্দর, দক্ষিণবায়ু আনো পুষ্পবনে। ঘুচাও বিষাদের কুহেলিকা, নবপ্রাণমন্ত্রের আনো বাণী। পিপাসিত জীবনের ক্ষুব্ধ আশা আঁধারে আঁধারে খোঁজে ভাষা– শূন্যে পথহারা পবনের ছন্দে, ঝরে-পড়া বকুলের গন্ধে॥
সুন্দরি রাধে আওয়ে বনি।
সুন্দরি রাধে আওয়ে বনি। ব্রজরমণীগণ মুকুটমণি॥ কুঞ্চিতকেশিনি, নিরুপমবেশিনি, রস-আবেশিনি ভঙ্গিনি রে। অধরসুরঙ্গিনি, অঙ্গতরঙ্গিনি, সঙ্গিনি নব নব রঙ্গিনি রে॥ কুঞ্জরগামিনি, মোতিমদশনি, দামিনি-চমক-নেহারিনি রে। আভরণধারিন, নব-অভিসারিণি, শ্যামর হৃদয়বিহারিণি রে। নব অনুরাগিণি, অখিলসোহাগিনি, পঞ্চম রাগিণি মোহিনি রে। রাসবিলাসিনি, হাসবিকাশিনি, গোবিন্দদাস-চিত-শোহিনি রে॥

