তোমায় কিছু দেব ব’লে চায় যে আমার মন,
নাই-বা তোমার থাকল প্রয়োজন ।।
যখন তোমার পেলেম দেখা, অন্ধকারে একা একা
ফিরিতেছিলে বিজন গভীর বন ।
ইচ্ছা ছিল একটি বাতি জ্বালাই তোমার পথে,
নাই-বা তোমার থাকল প্রয়োজন ।।
দেখেছিলেম হাটের লোকে তোমারে দেয় গালি,
গায়ে তোমার ছড়ায় ধূলাবালি ।
অপমানের পথের মাঝে তোমার বীণা নিত্য বাজে
আপন-সুরে-আপনি-নিমগন ।
ইচ্ছা ছিল বরণমালা পরাই তোমার গলে,
নাই-বা তোমার থাকল প্রয়োজন ।।
দলে দলে আসে লোকে, রচে তোমার স্তব-
নানা ভাষায় নানান কলরব ।
ভিক্ষা লাগি তোমার দ্বারে আঘাত করে বারে বারে-
কত-যে শাপ, কত-যে ক্রন্দন ।
ইচ্ছা ছিল বিনা পণে আপনাকে দিই পায়ে,
নাই-বা তোমার থাকল প্রয়োজন ।।
Related Articles
বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে
বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে। স্থলে জলে নভতলে বনে উপবনে নদীনদে গিরিগুহা-পারাবারে নিত্য জাগে সরস সঙ্গীতমধুরিমা, নিত্য নৃত্যরসভঙ্গিমা। নব বসন্তে নব আনন্দ, উৎসব নব। অতি মঞ্জুল, অতি মঞ্জুল, শুনি মঞ্জুল গুঞ্জন কুঞ্জে শুনি রে শুনি মর্মর পল্লবপুঞ্জে, পিককূজন পুষ্পবনে বিজনে, মৃদু বায়ুহিলোলবিলোল বিভোল বিশাল সরোবর-মাঝে কলগীত সুললিত বাজে। শ্যামল কান্তার-‘পরে অনিল সঞ্চারে ধীরে রে, নদীতীরে শরবনে উঠে […]
ওরা অকারণে চঞ্চল
ওরা অকারণে চঞ্চল। ডালে ডালে দোলে বায়ুহিল্লোলে নব পল্লবদল॥ ছড়ায়ে ছড়ায়ে ঝিকিমিকি আলো দিকে দিকে ওরা কী খেলা খেলালো, মর্মরতানে প্রাণে ওরা আনে কৈশোরকোলাহাল॥ ওরা কান পেতে শোনে গগনে গগনে নীরবের কানাকানি, নীলিমার কোন্ বাণী। ওরা প্রাণঝরনার উচ্ছল ধার, ঝরিয়া ঝরিয়া বহে অনিবার, চির তাপসিনী ধরণীর ওরা শ্যামশিখা হোমানল॥
শেষ বেলাকার শেষের গানে
শেষ বেলাকার শেষের গানে ভোরের বেলার বেদন আনে॥ তরুণ মুখের করুণ হাসি গোধূলি-আলোয় উঠেছে ভাসি, প্রথম ব্যথার প্রথম বাঁশি বাজে দিগন্তে কী সন্ধানে শেষের গানে॥ আজি দিনান্তে মেঘের মায়া সে আঁখিপাতার ফেলেছে ছায়া। খেলায় খেলায় যে কথাখানি চোখে চোখে যেত বিজলি হানি সেই প্রভাতের নবীন বাণী চলেছে রাতের স্বপন-পানে শেষের গানে॥

