তোমাকে যেন কিসের গল্প বলবো বলেছিলাম?
গাছের, না মানুষের?
মানুষের, না সাপের?
ওঃ, হ্যাঁ মনে পড়েছে।
গাছের মতো একটা মানুষ।
আর সাপের মতো একটা নারী
কুয়াশা যেমন খামচা মেরে জড়িয়ে ধরে কখনো কখনো
দুধকুমারী আকাশকে
সাপটা তেমনি সাতপাকে জড়িয়ে ধরেছিল গাছটাকে।
আর গাছটাও বেহায়া।
লাজ-লজ্জা, লোক-লৌকিকতা ভুলে গিয়ে
নৌকা ডুবে যাচ্ছে, এখুনি ঝাঁপ দিতে হবে
নদীর নাইকুন্ডুতে,
এমনি ভাবেই সর্বস্ব ভাসিয়ে দিল সাপের হাতে।
আর তারপরেই ঘটল আজব কাণ্ডটা।
সাপের ছোবলে ছিল বিষ। নীল।
গাছের শিকড়ে ছিল তৃষ্ণা। লাল।
ছোবল খেতে খেতে ছোবল খেতে খেতে
নীলপদ্মে ভরে উঠল গাছ।
আর গাছের আলিঙ্গনে
গুড়ো হতে হতে গুড়ো হতে হতে
সেই শঙ্খচুড় সাপটা
আলতা-সিদুরে রাঙা বিয়ের কনে।
আর এই সব দৃশ্য দেখতে দেখতে
আকাশের আইবুড়ো নক্ষত্রগুলো
হেসে গলে গা ঢলাঢলি করে বলে উঠল
আজ সারা রাত জাগব ওদের বাসর।
Related Articles
মাতৃভাষা – আবুল হাসান
আমি জানিনা দুঃখের কী মাতৃভাষা ভালোবাসার কী মাতৃভাষা বেদনার কী মাতৃভাষা যুদ্ধের কী মাতৃভাষা। আমি জানিনা নদীর কী মাতৃভাষা নগ্নতার কী মাতৃভাষা একটা নিবিড় বৃক্ষ কোন ভাষায় কথা বলে এখনো জানিনা। শুধু আমি কোথাও ঘরের দরোজায় দাঁড়ালেই আজো সভ্যতার শেষ মানুষের পদশব্দ শুনি আর কোথাও করুণ জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে, আর সেই জলপতনের শব্দে সিক্ত […]
শেষের কবিতা
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও। তারি রথ নিত্যই উধাও জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন, চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন। ওগো বন্ধু, সেই ধাবমান কাল জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেরি তার জাল– তুলে নিল দ্রুতরথে দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে তোমা হতে বহু দূরে। মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে পার হয়ে আসিলাম আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়– রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায় আমার […]
একটু নাহয় ঝগড়াই করেছি
একটু ঝগড়া করেছি দেখেই কি আজ এত অভিমান ? চোখের কোণে ওই ভাসমান জলের ফোঁটা ঘুমের সাক্ষী হয়ে গেছে তোমার; আগুনের সাথে প্রেম করছো সুদর্শনা একটু আঁচ তো লেগে যেতেই পারে, এতটুকু সহ্য করতে পারলে না ! এভাবে কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়তে হবে ? আমার যদি রাত না হও তবে নাহয় আকাশ হলে, কুহকীর […]

