কবিতা

আমিষের স্তন ছেড়ে

দুব্বা
ডুমুর
মেথি
দ-কলস,
পেঁয়াজ
রসুন
কলা,
শেওলা
টুলদা আদা
তেলাকুচা,
ঘৃতকুমারীর পাতা,
চালতা ব্যাঙের ছাতা,
বট, মুচকান্দা,
উচ্ছে কিম্বা
তিত্-করলার রসে জাগালে শরীর,
হৃৎপিণ্ডে ডেকে ওঠে শালিক তিতির;

শিরায় ড্রেজার এসে ফেরায় কাব্যতা,
গায়েহলুদের আগে বেণীর নাব্যতা
সমতল পাড়ি দিয়ে যায় দরিয়ায়, কর্ণফুলী
শঙ্খ ফুলেশ্বরী
কিংবা মাতামুহুরীর বুক ছলকায়
বাঁশঝাড়ে, গুলঞ্চ-অর্জুন-নিমে,
আমে, জামে, তুলসীপাতায়।

পাখিমানুষের চোখে এইসব দেখে
উড়ন্ত পালক যাই কবিটঙে রেখে।

থিরথির আমিষ অধর,
পালকে শিশির-ফোঁটা,
ডাকে তাকে বঙ্গোপসাগর;
নাঙা পায়ে ছেড়ে বাড়িঘর
তরুমানুষের মতো হেঁটে আসি দরিয়ানগর।

আমিষের স্তন থেকে ফিরিয়েছি মুখ,
মেদে-মাংসে দুরারোগ্য আমার অসুখ।
ঝাউদরিয়ার পাশে জাগে নোনা ঘ্রাণ,
পালকে শিশির হয়ে উড়ে যায় পাখিদের প্রাণ।

উড়ন্ত ঘুরন্ত সেই প্রাণে
মানুষ, তুমিও কি জেগে থাকো অনঙ্গ সুঘ্রাণে

মুহম্মদ নূরুল হুদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলাদেশের সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি , একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।