কবিতা

যে শরতে ইলিশের বান

ভাদ্র এলো আশ্বিন এলো অথচ শরৎ এলো না,
কাশফুল ফুটলো চরে চরে, অথচ বর্ষণ গেলো না;
যেহেতু দরজায় এসে গজরাতে থাকলো কামিনী দামিনী,
যেহেতু ভয়ে ভয়ে এই বুকে সেঁধিয়ে গেলে তুমিও অশণি,
তা-নাহলে এই নাতিউষ্ণে কে আর জলাঞ্জলি দেয় বলো
অমন তুলতুলে ঠোঁট, সিগ্রেটের জ্বলজ্বলে হলাহলও
যার কাছে তুচ্ছ ঠেকে চুমুকে চুমুকে; তুমি খুব রোদে
ঘুরতে ঘুরতে যখন ধরা পড়লে বন্য এক অবরোধে,
আমি তখন মন বাড়িয়ে দিলাম শরীরকে অমান্য করে,
স্তনাগ্র পেরিয়ে লালপিঁপড়েও কামড় বসালো সুভদ্রা অধরে;

যেহেতু জোছনাভুক আমি
পেয়ে গেলাম মনপাজেরো এক মহাদামী,
সেহেতু ডুবন্ত তোমাকে পাঁজাকোলা করে ডুব দিলাম পদ্মার চরে;

আহা, সেই খুশিতে সেবার ইলিশের বান ডাকলো ঘরে ঘরে।

মুহম্মদ নূরুল হুদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলাদেশের সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি , একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

One thought on “যে শরতে ইলিশের বান

Comments are closed.