আগাছা ছাড়াই, আল বাঁধি, জমি চষি, মই দিই,
বীজ বুনি, নিড়োই, দিনের পর
দিন চোখ ফেলে রাখি শুকনো আকাশের দিকে। ঘাম ঢালি
খেত ভ’রে, আসলে রক্ত ঢেলে দিই
নোনা পানিরূপে; অবশেষে মেঘ ও মাটির দয়া হলে
খেত জুড়ে জাগে প্রফুল্ল সবুজ কম্পন।
খরা, বৃষ্টি, ঝড়, ও একশো একটা উপদ্রব কেটে গেলে
প্রকৃতির কৃপা হ’লে এক সময়
মুখ দেখতে পাই থোকাথোকা সোনালি শস্যের।
এতো ঘামে, নিজেকে ধানের মতোই
সিদ্ধ করে, ফলাই সামান্য, যেনো একমুঠো, গরিব শস্য।
মূর্খ মানুষ, দূরে আছি, জানতে ইচ্ছে করে
দিনরাত লেফ-রাইট লেফ-রাইট করলে ক-মণ শস্য ফলে
এক গন্ডা জমিতে?
Related Articles
অন্ধকারের মাঝে আমায় ধরেছ দুই হাতে
অন্ধকারের মাঝে আমায় ধরেছ দুই হাতে। কখন্ তুমি এলে, হে নাথ, মৃদু চরণপাতে?। ভেবেছিলেম, জীবনস্বামী, তোমায় বুঝি হারাই আমি– আমায় তুমি হারাবে না বুঝেছি আজ রাতে ॥ যে নিথীথে আপন হাতে নিবিয়ে দিলেম আলো তারি মাঝে তুমি তোমার ধ্রুবতারা জ্বালো। তোমার পথে চলা যখন ঘুচে গেল, দেখি তখন আপনি তুমি আমার পথে লুকিয়ে চল সাথে […]
রাবণের চোখ
শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা, ‘এ ভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি একইভাবে’। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে বলেছিল, ‘মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে’। রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই ।
নবীন কাঠুরের উক্তি
নিতান্ত নির্ভুলভাবে কোনো কাজ করতে পারিনি হাতের কুঠার ফেলে কাঠকাটা ভুলে বারবার দেখেছি বনের শোভা : বৃক্ষরাজি হরিৎ পত্রালি; পরিণামে অভুক্ত থেকেছি দীর্ঘ তিরিশ বছর। কাঠুরের ঘরে জন্ম, তবু, পারিনি কঠোর হতে; অবলীলাক্রমে বৃক্ষ কুঠারের আঘাতে-আঘাতে কেটে ফেলতে প্রাণে লাগে, পত্রপুষ্প শোভিত বনে ভুলক্রমে মিশে গেছি প্রাকৃতিক জীবন প্রবাহে।

