বিকেলের বেহাগ

bikeler behag-2দুই.
এনায়েতুল্লার বয়স এখন ৭০। হাই ব্লাড প্রেসার আছে, ডায়াবেটিস বর্ডার লাইনে। উচ্চতায় তিনি মাঝারিÑ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ওজন ৭০ কেজি। মাথার চুল পাকা, সামনের দিকে কম। চোখের ভ্রু মোটা,সাদা-পাকা রং। কপাল বিস্তৃত, চিন্তা করলে ভাঁজ পড়ে। নাক সরু হয়ে নিচে এসে একটু ছড়িয়ে পড়েছে দু’পাশে, ফুটোর ভেতর দিয়ে দুটো চুল দেখা যায়। চিবুক তীক্ষè, চোয়াল ছড়ানো। গলার কণ্ঠ ওঠানামা করে কথা বলার সময়। কাঁধ সোজা আর চওড়া। দেখলে তাকে স্বাস্থ্যবানই মনে হয়।

হাসাপাতাল ছাড়ার আগে ডাক্তার বললেন, আজকাল রোগীকে সবকিছু বলাই নিয়ম। আপনাকেও বলছি বলে তিনি হাসিমুখে তাকিয়ে থাকেন। এনায়েতুল্লা চুপ করে থেকে অপেক্ষা করেন। বিছানার পাশে দাউদ আর নাতনি তুলি। ডাক্তার বলেন, এ নিয়ে আপনার দু’বার স্ট্রোক হলো। তৃতীয়বার হলে সেটা হবে ফ্যাটাল। ফ্যাটাল? মানে, মৃত্যু হতে পারে?

এনায়েতুল্লা তাকালেন ডাক্তারের দিকে। জ্বি। তেমনই সম্ভাবনা। তাই সাবধানে থাকবেন।
প্রেসারটা উঠতে দেবেন না। একটু নিয়মিত হতে হবে সবকিছুতে। খাওয়া, ঘুমানো। কম কথাবার্তা বলা। কখনো উত্তেজিত হবেন না। তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকবে না। পিছিয়ে দিতে
পারবেন।
মৃত্যু তাহলে পেছনো যায়? এনায়েতুল্লা কৌতুকের দৃষ্টিতে তাকালেন। ডাক্তার বললেন, যায় বৈকি। কেন যাবে না? লাইফ স্টাইলের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। হার্ট অ্যাটাক তো লাইফ স্টাইলের জন্যই হয়। লাইফ স্টাইল, মনে মনে বললেন এনায়েতুল্লা! যেন ভুলে যাওয়া কোনো ঠিকানা খুঁজে পেতে চাইছেন।তার লাইফ স্টাইল আগে কী ছিল, এখন কেমন হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন। বাড়ি ফেরার পথে ডাক্তারের কথা কয়েকবার মনে এলো। ফ্যাটাল। লাইফ স্টাইল। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে তুলি বলল, কী ভাবছো দাদু? খিদে পেয়েছে বুঝি?
তিনি প্রথমে নিজেকে সামলে নিলেন। নাতনির কাছে ধরা পড়ে গেছেন। হেসে বললেন, খিদে পায়নি। এই তো কিছুক্ষণ আগে খেলাম। ভাবছিলাম, হাসপাতালে কয়দিন থাকতে হলো।
তুলি বলল, কতদিন, তা আমি দাগ দিয়ে রেখেছি ক্যালেন্ডারে। লাল কালি দিয়ে। লাল কালি দিয়ে? রেড লেটার ডে। ডেজ? মনে মনে ভাবলেন এনায়েতুল্লা। তারপর হেসে বললেন,
তাই নাকি? বাড়ি ফিরে দেখব ক্যালেন্ডারটা।

জয়নাব বলল, রোজ সকালে উঠে ও ক্যালেন্ডারের ডেট দেখে লাল কালিতে মার্ক করত। হিসাব করত,কয়দিন আপনি বাড়িতে নেই। তিনি বলতে যাচ্ছিলেন, আমি চলে যাওয়ার পরও কি তা-ই করবে তুমি, দাদু? বললেন, না। ওটা কোনো রসিকতা হবে না, বেখাপ্পা শোনাবে। অপ্রত্যাশিত।

দাউদ বলল, ডাক্তারের কথা শুনে চলতে হবে। একটু সাবধানে থাকতে হবে। কোনো অনিয়ম যেন না হয়।

এনায়েতুল্লা বললেন, এর চেয়ে বেশি সাবধানে আর কিভাবে থাকা যায়? সবই তো করছি ডাক্তারের কথামতো। তোমরাও চোখে চোখে রাখছো। কোনো অনিয়ম হতে দিচ্ছো না। তোমার মা মারা যাওয়ার পর থেকে তোমরা দুজনই সঙ্গ দিচ্ছো প্রায় সব সময়। তুলিও। দেখতে পেয়েছো কোনো অনিয়ম?
তুলি বলে, অনিয়ম করছো। মাঝে মাঝে উত্তেজিত হয়ে যাও।

মইনুল বলল, কষ্ট কিসের? প্লেনে ব্যাংকক। সেখানে এক ঘণ্টা ট্রানজিট থাকার পর থাই এয়ারওয়েজে ঢাকা। কোনো কষ্ট নেই।
তিনি বললেন, তবুও। অনেক খরচ আছে। কেন শুধু শুধু খরচ করতে যাবে? তার চেয়ে ফোনে খবর নিও। তাতেই হবে। মইনুল বলল, না গেলে শান্তি পাব না মনে। প্রথমবার যখন স্ট্রোক হলো তখনো যেতে পারিনি। সুসান হাসপাতালে ছিল। এবার তেমন কোনো সমস্যা নেই। সুসান মইনুলের স্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ান। তিনি শুনে বললেন তাহলে এসো। না এলেও চলত। তিনি ফোনে কথা শেষ করে দাউদকে বললেন, তোর বড় ভাইকে বুঝিয়ে বল দেখি। এখন এসে কি করবে? শুধু শুধু টাকা খরচ।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  বিকেলের বেহাগ

দাউদ বলল, আসছে নিষেধ করবেন না। সেন্টিমেন্টের ব্যাপার।
সেন্টিমেন্ট? বলে তাকালেন তিনি দাউদের দিকে। তারপর নিজের মনেই বললেন, সেন্টিমেন্ট ঝেড়ে ফেলতে হয়। যার স্থায়িত্ব নেই, সেই জীবনে সেন্টিমেন্ট মূল্যহীন। হাত-পা ঝাড়া হয়ে থাকতে
পারাটাই জীবনে শান্তি লাভের উপায়। কোনো পিছুটান রাখতে নেই। থাকতে নেই। দাউদ বলে, যারা থেকে যায় তাদের জন্য স্মৃতি সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় না। তুমি আম্মাকে ভুলতে
পেরেছ? পারনি। আমরাও পারিনি।

এনায়েতুল্লা বলেন, পেরেছি। তোরাও পেরেছিস অনেকটা। শুনে দাউদ অবাক হয়ে তাকায়। বলে, অনেকটা?হ্যাঁ। অনেকটা। তোর আম্মার মৃত্যুর পর প্রত্যেক
দিন যেতাম তার কবর দেখতে। তারপর সপ্তাহে একদিন। তারপর মাসে একদিন। তারপর বছরে একদিন বা দুদিন, ঈদের সময়, শবেবরাতের রাতে।এখন বছরের পর বছর চলে যায়। কই আমরা তো তার কবর দেখতে যাইনে। যারা থেকে যায় তাদের সেন্টিমেন্টও এক সময় দুর্বল হয়ে আসে। স্মৃতি নিয়ে বাঁচা যায় না। সেন্টিমেন্ট তাই ক্ষণস্থায়ী। না হলে মানুষের জীবন অসহনীয় হয়ে যেত।

বলে তিনি দাউদের দিকে তাকান। শুনে দাউদ কিছু বলে না। সে অপ্রস্তুত হয়ে স্ত্রীর দিকে তাকায়। দুজনেই মাথা নিচু করে রাখে।

এনায়েতুল্লা বলেন, এটাই নিয়ম। অতীত ভুলে থাকা। অনেকদিন থেকে এই হয়ে এসেছে। জীবন থেকে জন্মান্তর। জয়নাব বলল, বাবা এখন এ কথা থাক। দুপুরে আপনার ঘুমানোর সময়। ঘুমিয়ে নিন। এনায়েতুল্লা বিছানার দিকে তাকালেন। পরিপাটি করে সাজানো। বেশ সিড়বগ্ধ দেখাচ্ছে। পাশের টেবিলে রজনীগন্ধার গুচ্ছ থেকে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ মিষ্টি। তুলি এনে রেখেছে।

তিনি বলেন, হ্যাঁ ঘুমাব। বিকেলে তুলি আসবে স্কুল থেকে। সে তার কমিক বই পড়ে শোনাবে। আমাকে ছেলেমানুষ বানিয়ে ছাড়বে সে। যেন এমনিতেই কত ছেলেমানুষি করছি না। বলে তিনি হাসেন। দাউদ আর জয়নাব চলে গেলে তিনি লাঠি হাতে আস্তে আস্তে হেঁটে বিছানায় গিয়ে শুলেন। হাতের লাঠিটা রাখলেন বেড সাইড টেবিলে ঠেস দিয়ে। ওটা ব্যবহার না করেও চলে, কিন্তু ছেলে আর ছেলের বউ লাঠি ছাড়া দেখলেই হা হা করে ওঠে। তুলিও বকুনি দেয়। তাদের জন্যই লাঠি ব্যবহার করতে হয় তাকে। তাদের ঠেকাতে। ভাবতেই হাসি পায় তার। তিনি শুয়ে শুয়ে ভাবেন ছেলেদের, পুত্রবধূর এই যে যতড়ব আত্তির এসব কি দেখতে পেতেন, যদি তার একটা বাড়ি না থাকত? বাড়িটা ডেভেলপারকে দিলে এখনই নগদ টাকা দেবে দশ কোটি টাকা। তাছাড়া দেবে দশটা ফ্ল্যাট। আগে পাঁচটা করে দিত। এখন নয় তলা করার অনুমতি পাওয়ার পর দশটা ফ্ল্যাট পায় জমির মালিক। ছেলেরা সব জানে, কেন জানবে না? ডেভেলপাররা তাদের সঙ্গেও আলাপ করে। এই জমির মালিকানা ছাড়া তিনি কি ছেলেদের এত মনোযোগ পেতেন? হয়তো পেতেন, হয়তো পেতেন না। খবরের কাগজে পড়েছেন ওল্ড হোমে পাঠানো বাবা-মায়ের হা-হুতাশ, দুঃখ-বেদনার কাহিনী। ছেলেমেয়েরা বড়জোর বছরে একবার আসে দেখতে। অনেকে তাও আসে না। বুড়ো বাপ একটা বোঝা তাদের জন্য। কিন্তু সেই বাবার যদি জমি থাকে, বাড়ি থাকে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে  যায়। ছেলেমেয়ের আদরের অবধি থাকে না। সারাক্ষণ পাশে থাকে, যখন বাড়িতে আসে। তার ছেলে আর ছেলের বউও কি তাই? স্বার্থের কথা ভেবেই এত যতড়ব নিচ্ছে, চিকিৎসা করাচ্ছে? বিছানায় শুতেই চিন্তাটা এলো মনে, দূর করতে চাইলেন, তবু এলো। তারা কি তার মৃত্যু কামনা করছে? বাইরে যাই বলুক, যেমন ব্যবহারই করুক, তারা কি মনে মনে চাইছে তিনি বিদায় নিক, মরে যাক? ভাবতে ভাবতে তিনি বিমর্ষ হয়ে যান, ক্লান্তি বোধ করেন।বড় নিঃসঙ্গ একাকী মনে হয় তখন। তিনি চিন্তাটা মন থেকে দূর করতে চান, ভুলে যেতে চান। তবু ঘুরে-ফিরে আসে তার মনকে অশান্ত করে তোলে। একথা কাউকে বলা যায় না, বলা হয় না। তিনি দেয়ালে স্ত্রীর তৈলচিত্রের দিকে তাকিয়ে থাকেন।একমাত্র তুলিকেই মনে হয় আন্তরিক। আর আমেনার মাকে। তাদের ভেতরে বাইরে কোনো তফাৎ থাকার কথা না। তারা সৎ হয়েই কথা বলে,কাজ করে। তুলি যে ক্যালেন্ডারের তারিখে লাল দাগ দিয়েছে সেটাও তাকে দেখানোর জন্য না। সত্যি সব। ভেবে তিনি শান্তি পান, খুশি হন। কিছুপর তার ঘুম আসে। বিকেলে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর আমেনার মা ডাবের পানি নিয়ে এলো। টেবিলে রেখে কাঁদতে শুরু করল, তারপর চোখ মুছল আঁচল দিয়ে। এনায়েতুল্লা অবাক হন।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  বিকেলের বেহাগ

বিব্রত হয়ে বলেন, আবার কি হলো? কাঁদছ কেন?

আমেনার মা বলল, আপনি কয়দিন আছিলেন না।এই ঘর খালি আছিল। তাই কাঁদতাছি। শুধু খারাপ কথা মনে হইছে।

তিনি ব্যস্ত হয়ে বলেন, এই তো ফিরে এসেছি।কিছুই হয়নি আমার। এমনি এমনি নিয়েছিল হাসপাতালে। ভালো আছি, সুস্থ আছি। দেখতেই পাচ্ছ।

আমেনার মা কিছু বলতে যাচ্ছিল।

তুলি এসে ধমক দিয়ে বলল, আমেনার মা তুমি একদম হোপলেস।দাদুকে ডিসটার্ব করছ। তাকে উত্তেজিত করে দিচ্ছ।ভেরি ব্যাড। যাও এখান থেকে। না ডাকলে আসবে
না এ ঘরে।আমেনার মা চোখ মুছতে মুছতে চলে যায়।

তিনি তুলিকে বলেন, ওভাবে ধমক না দিলেও পারতে।আমেনার মা ভালো মানুষ। সরল আর সিনসিয়ার।অনেকদিন আছে তো এ বাড়ি। পরিবারের একজন হয়ে গেছে। তাই অমন করে।তুলি বলে, তাই বলে যখন-তখন এসে কানড়বা-কাটি করবে? এতে তোমাকে ডিসটার্ব করা হয়। আপসেট হয়ে যাও।

তিনি হেসে বলেন, আগে হতাম, এখন তেমন আপসেট হই না। জানি এটা তার স্বভাব।সামান্যতেই কাঁদে। খুব সেন্টিমেন্টাল।

তারপর একটু ভেবে বলেন, আশ্চর্যের কথা। খেটে খাওয়া মানুষদের সেন্টিমেন্টাল হওয়া উচিত না। তবু সে হচ্ছে, প্রায়ই হয়। তোমার দাদি মারা যাওয়ার পর কয়দিন তার কানড়বা থামেনি।তুলি বলল, ওকে তোমরা খুব সেড়বহ করেছ, এখনো কর। তাই এমন করে। সেটা বুঝি। কিন্তু ওর এখন এই ঘরে এসে কানড়বাকাটি করা বেশ বাড়াবাড়ি। এই তো হাসপাতাল থেকে ফিরলে, একটা শক্ত অসুখ থেকে উঠলে।

এনায়েতুল্লা বললেন, কোনো শক্ত অসুখ ছিল না।বয়স হলে এটা হয়। অনেকেরই হয়। একে অসুখ বলা ঠিক না। তুলি বলল, তবে কি বলা যাবে একে? হার্টের অসুখকে?তিনি বলেন, বার্ধক্যজনিত জটিলতা। অসুখ বলা  হলে বায়োলজিক্যাল নিয়মকে অমান্য করা হয়।কোনো মানে হয় না।তুলি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ।

তারপর বলল, দাদু তোমার মনে হয় কোনো দুশ্চিন্তাই নেই অসুস্থতা নিয়ে। অসুখ বলেই ভাবছ না। দিস ইজ গুড অ্যান্ড ব্যাড।গুড বুঝলাম। কিন্তু ব্যাড কেন?তুলি বলল, ব্যাড এই জন্য যে তুমি সতর্ক হয়ে চলবে না। নিয়ম-কানুন মানবে না। যখন-তখন উত্তেজিত হওয়ার মতো কাজ করবে। আগে যেমন করতে।

এনায়েতুল্লা হেসে বলেন, সব কিছু আগের মতই করতে চাই। যা আমার পছন্দ হয়। অবশ্য বুড়ো বয়সে তোমাদের লাইফ স্টাইল গ্রহণ করব না।বয়স্কদের যে লাইফ স্টাইলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি সেটাই অনুসরণ করব।

তুলি বলল, বয়স্কদেরও লাইফ স্টাইল বদলায়। যত বয়স বাড়ে সেই স্টাইলে পরিবর্তন আসে। তুমি তা মানতে চাও না কেন দাদু?

প্রথম উত্তর, সেই লাইফ স্টাইলে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় উত্তর, সেটা বদলালে জীবনকে উপভোগ করার কিছু থাকে না। শুধু বেঁচে থাকা  হয়। অমন জীবন আমার পছন্দের না।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  সাড়ে তিন হাত ভুমি

তুলি ঘরের চারদিকে তাকিয়ে বলল, তোমার ঘরটারও সব কিছু পুরনো। আসবাবপত্র, দেয়ালের রঙ, যত ছবি। সব কিছু পুরনো।

তিনি বলেন, তাতে কি? কোনোটা খারাপ দেখাচ্ছে না। ভেঙে যায়নি মরচে পড়েনি, ছিঁড়ে যায়নি। তুলি গম্ভীরভাবে বলে, আসবাবগুলো সরাতে হবে। ঘরে স্পেস বের করতে হবে। জানালা দিয়ে আলোবাতাস  আসার জন্য আরো খোলামেলা করতে হবে ভেতরটা।

তিনি ঘরের ভেতরটা দেখে নিয়ে বলল, আমার কাছে সবকিছু ঠিক জায়গাতে আছে বলে মনে হচ্ছে। একটুও বেখাপ্পা মনে হচ্ছে না।এইভাবেই  রয়েছে এসব এত বছর।

তুলি জানালার কাছে গিয়ে বলল, ঘরে আরো এনার্জি আসতে হবে। কমসিক এনার্জি। তাহলে আরো সুস্থ বোধ করবে তুমি। আরো সুখী বোধ করবে।

কসমিক এনার্জি? কোনো নতুন ড্রিঙ্ক নাকি? তিনি কৌতুহলি হয়ে তুলির দিকে তাকালেন।

ওহ। বলে তুলি বিরক্তির সঙ্গে তাকায় তার দিকে।তারপর বলে, কসমিক রিয়েলিটি থেকে আসে সেই এনার্জি। উইন্ড, ওয়াটার, ফায়ার। এয়ার, অর্থ এইসব থেকেও। এদের একটা কম্বিনেশন আছে যা মানুষের সঙ্গে নেচারের হারমনি এনে দেয়।

তিনি কিছু বলেন না। চুপ করে শোনেন। তার কপালে ভাজ পড়ছে।

তুলি বলে, চাইনিজ ফেং সুইতে এসব কথা বলা হয়েছে। তারা বাড়ি বানানোর সময়ও ফেং সুই মেনে চলে। ঘরের আসবাব ফেং সুই অনুযায়ী সাজায়। তোমার ঘরটা ফেং সুই অনুযায়ী বদলাতে হবে। এখানে, এই ঘরে আরো এনার্জি আসলে তুমি শুধু সুস্থ না, সুখী বোধ করবে।

তুলি আমি সুখী মানুষ। যতটুকু সুখী হওয়া সম্ভব আমি তাই। এ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। এ ঘরে যা কিছু সব ঠিক আছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না আমার।

তুলি জোর দিয়ে বলে, এই খাটটা, এটা সরাতে হবে। তোমার কাছে সব কসমিক এনার্জি আসাতে  পারছে না। চিং।চিং?হ্যাঁ। চিং। কসমিক এনার্জিকে চাইনিজে তাই বলে। চিং ঠিকভাবে না থাকলে ইং আর ইয়ানও গোলমাল হয়ে যায়।ইং আর ইয়ান?হ্যাঁ। ইং হলো পুরুষ। ইয়ান মেয়ে। যেমন দিনরাত।আলো-অন্ধকার।

তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন, তুমি স্কুলের পড়া ছেড়ে এইসব পড়ছো আজকাল? তোমার আব্বা-আম্মা দেখে না?দেখবেন না কেন? দেখে। মনে করে স্কুলের বই। আজকাল কত সাবজেক্ট পড়ানো হয় স্কুলে। তারা কি সব জানে? জানে না। তুলির মুখে দুষ্টুমির হাসি।

এনায়েতুল্লা বললেন, তোমার পড়াশোনা নিয়ে আমি কিছু বলব না। কিন্তু আমার ইং আর ইয়ান বদলনোর দরকার নেই। যতটুকু কসমিক এনার্জি পাচ্ছি, মানে চিং। তাইই যথেষ্ট। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না আমার। বলে তিনি ঘরের চারদিক দেখেন।বদলাবার পর দেখ আগের চাইতে ভালো থাকছ কিনা।না থাকলে আবার যেভাবে ছিল সবকিছু তেমন রাখা হবে। ইউ ক্যান ট্রাই ইট। হোয়াট ইজ দ্য হার্ম?না তুলি। ঘরের সবকিছু থাকুক যেমন আছে।বদলালে মনে হবে অন্য কারো ঘরে এসেছি।থাকছি। ঘুম হবে না আমার। তাছাড়া বাথরুমে যেতে সময় নেবে। দিক ঠিক রাখতে পারব না সঙ্গে সঙ্গে।

দাদু ফর গডস সেক। ট্রাই ইট। ডোন্ট বি  অবস্টিনেট। তুলির মুখে ভ্রকুটি তুলি তুমি আমাকে উত্তেজিত করে তুলছো। তুমিই তো বল যে আমার উত্তেজিত হওয়া ঠিক না।তাহলে নিজে সেই মতো কাজ করো। আমাকে উত্তেজিত হতে দিও না।তুলি কয়েক মিনিট পর ঘর থেকে বের হতে হতে বলল, আই উইল বি ব্যাক। সে মেয়ে, তবু অভিনেতা আর্নল্ড সোয়ার্জনেগারের কথাটা বলল।

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

হাসনাত আবদুল হাই- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...