হাজারদুয়ারি-৩

১১. জিপের কাছে এসে গোপেন বলল, তুমি বাড়ি যাও। আমি একটু যাব বোসদার বাড়ি। আমাকে নিয়ে যাবে না? কলকাতার বোসদা তো? হ্যাঁ। কলকাতার বোসদাই। কিন্তু তুমি গিয়ে কী করবে? ফ্যামিলি তো আনেননি উনি। অন্য একজন কলিগের সঙ্গে ফ্ল্যাটে শেয়ার করে থাকেন। তা ছাড়া, আমরা তাস খেলব। তুমি তো তাস চেনোই না। না। স্বামী স্ত্রীর কিছু […]

হাজারদুয়ারি-৪

১৬. ঢিক-চুঁই-ই-ই-ই-ই.. একটা আওয়াজ হল। এবং আওয়াজটার সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ি পথের লাল ধুলো যেন পিচকিরির মুখের আবিরের মতো উৎক্ষিপ্ত হয়ে জিপের পেছনে উড়ে গেল। কালু বলল, হল কেলো! যেখানে বাঘের ভয় সেইখানেতেই সন্ধে হয়। বাইধর বিরক্ত মুখে নামল স্টিয়ারিং ছেড়ে। ভ্রূকুঁচকে বলল, আপনাদের নামতে হবে। টায়ার পাংচার হয়েছে। তুমি ভালো মনে আজ সঙ্গী হওনি গোপেনদা। […]

অন্তরে

৫. বিকেলবেলা দোতলার বারান্দায় বসে বিকেলবেলা দোতলার বারান্দায় বসে আছে সুমি। এই বারান্দায় তিন চারটা বেতের চেয়ার আর নীচু ধরনের বেতের গ্লাসটপ টেবিল আছে। বিকেলবেলা কখনও কখনও এখানে বসে চা খায় সবাই। আজ কেউ নেই। আজ সুমি একা। আজকাল একা থাকলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে সুমি। কী যে ভাবে তা সে নিজেই জানে। পাশ দিয়ে […]

অন্তরে

জয়দের বাড়িতে পৌঁছতে ঠিক পঞ্চাশ মিনিট লাগল। তেমন খুঁজতেও হয়নি বাড়ি। একবারেই পাওয়া গেল। স্কুটার থেকে নেমে জয়কে দেখতে পেল মিলা। গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ফেডেড জিনসের লুজ ধরনের জিনস পরা, আকাশি রংয়ের টিশার্ট। বাঁহাতে সুন্দর বেল্টের ঘড়ি। পায়ে সুন্দর স্যান্ডেলসু। সকালবেলা গোসল, সেভ এসব সেরে বেরুবার ফলে বেশ ফ্রেস লাগছে তাকে। জয়কে দেখে খুব […]

অন্তরে

কাল রাতে কী হয়েছিল? সত্যি কি কেউ ঢুকেছিল আমার রুমে! নাকি পুরো ব্যাপারটাই ঘটেছিল স্বপ্নে! অবচেতন মনে! কিন্তু স্বপ্নে এই ধরনের অনুভূতি হয় কী করে? স্বপ্নে যদি কেউ আমার হাত ধরে, বাস্তবে কি সেই হাত ধরা টের পাব আমি! এমন কি হয়? তাহলে ব্যাপারটা আসলে কী? কোনও অশরীরী ঘটনা! কিন্তু ওসবে যে আমার একদম বিশ্বাস […]

অন্তরে

আপনি কোথায়? আপনি কোথায়? ফোনে হ্যালো ইত্যাদি না বলে সরাসরি এরকম প্রশ্ন, জয় একটু থতমত খেল। তারপরই বুঝে গেল ফোনটা কার। সঙ্গে সঙ্গে মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেল তার, গলার স্বর রোমান্টিক হয়ে গেল। মিলা? তো কে? কোত্থেকে? টেলিফোনের দোকান থেকে। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর কই? কোথায় আমি? হ্যাঁ। উত্তরায়। ওখানে কী করছেন? সুপারভাইজারি। মানে? […]

অন্তরে

১. ব্যাপারটা শুরু হলো পা থেকে রাত দুপুরে সুমির মনে হলো তার ডানপায়ে কে যেন সুরসুরি দিচ্ছে। মৃদু মোলায়েম সুরসুরি। পায়ের পাতার ওপর দিয়ে আলতো ভঙ্গিতে তেলাপোকা হেঁটে গেলে যে অনুভূতি হয় ব্যাপারটা তেমন। সুমির ঘুম পাতলা। ফলে মুহূর্তেই ভেঙে গেল। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে সুরসুরিটা উধাও। সুমি ঠিক বুঝতে পারল না আসলেই কি […]

কোথায় আমার হৃদয়পুর

এতিমখানার শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ থেকে আমি একটা পাগলাগারদে এসে পড়েছি। লেবু চেয়ারম্যানের বাড়িটা আসলেই একটা পাগলাগারদ। মিনি পাগলাগারদ। চেয়ারম্যানের মেয়েটি, অর্থাৎ আমার ছাত্রীটি, বেলি, সুমাইয়া জাহান, পুরোপুরিই পাগল। একটা কাজের মেয়ে আছে, সুন্দরী তার নাম, সেটাও আধাপাগল। কথা শুরু করলে আর থামে না। ‘বিঘ্ন’ বলাটা চেয়ারম্যান সাহেবের মুদ্রাদোষ। তাঁকেও কিঞ্চিৎ পাগল মনে হয় আমার। সুস্থ […]

১.৫ ন হন্যতে

আমার মা বরাবর বৈষ্ণবসাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন, এ বিষয়ে তিনি যথেষ্ট বিদূষী। বৈষ্ণবসাহিত্য পড়বার জন্য তিনি ওড়িয়াভাষাও শিখেছেন। কাকা যখন এম এ পরীক্ষা দেন তখন মা তার সঙ্গে বাংলায় এম, এর বই সব পড়েছেন। চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য এসব মার আয়ত্ত। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি। আমি মাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম—“এই লাইনটার অর্থ কি—“জনম অবধি […]

১.৪ ন হন্যতে

বড় টেবিলল্যাম্পটা জ্বলছে, তার ঘেরাটা সাদা গোল একটা বড় পাত্রের মত। এক পাশে বেতের সোফাটার উপরে আমি হেলান দিয়ে বসেছি। অন্য পাশে খাটের উপর মির্চা বসেছে। ওর পাটা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ভঙ্গীতে ওর পাটাই আমার বার বার মনে পড়ে। আমার ওর পাটা একটু ছুঁতে ইচ্ছে করছে—পা দিয়ে নয় হাত দিয়ে। ইস্ ওর পায়ে আমি হাত […]