তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি আমি,
যদিও অনেক দেরী হলো।
তোমার মাথার সমস্ত চুল এখন সাদা ;
আমিও আর শিশুটি নেই, তোমার পায়ের শুকনো পাতা
চোখের জলে ধুয়ে দেবো!
কী করে যে ক্ষমা চাইবো? তোমার মাথার সমস্ত চুঁল
এখন সাদা ;
এই কী ক্ষমা চাওয়ার সময়! অথচ দুরে ঘন্টা বাজছে
আর দেরী নয়— যেতেই হবে।
আর দরী নয়—অথচ কত বছর তোমার মুখ দেখি নি!
কত বছর চোখের জলে তোমার পায়ের ছায়া পড়ে নি,
কত বছর…
Related Articles
আমার কুঁড়েঘরে
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির কণা নেই ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই আমার […]
কুলি-মজুর
দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে। বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল! কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্? […]
অথচ
তোমাকে দেখে অবাক হয়ে যাই বারবার। এত আক্রমণ পরস্পরবিরোধী এত শোকমিছিলের মধ্যেও কী অনায়াসে বুনে যাচ্ছ লাল পশমের শৃঙ্খলা। উদ্ভিদের চেয়ে নীরব, ছাপানো মহাভারতের চেয়ে উদাসীন। অথচ পিছনের দেয়ালেই রক্তছাপ অথচ বুকের শাড়ি সরালেই অনাবৃষ্টির চৌচির।

