কবিতা

উলঙ্গের স্বদেশ

এক অদ্ভুত মাটির উপর
আমরা দাঁড়িয়ে আছি ;
অর্থাৎ দাঁড়িয়ে থাকার জন্য
প্রাণপণ চেষ্টা করছি

এ মাটির গর্ভে কী আছে
আজও আমাদের জানা নেই
যদিও কান পাতলে শুনতে পাওয়া যায়
এক লক্ষ সাপের গর্জনের চেয়েও
কোন ভয়ঙ্কর পরিণাম, যা ক্রমেই আসন্ন হচ্ছে |

কিন্তু আমরা এক পা-ও এদিক ওদিক
নড়ছি না ; যেন স্থির দাঁড়িয়ে থাকাই
আমাদের নিরাপত্তা, এবং তা সম্ভব | আমরা গির্জার গম্বুজগুলির
এবং স্টক এক্সচেঞ্জের চার দিকের বিরাট স্তম্ভগুলির দিকে
বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থেকে
এক সময় ঈশ্বরের মহিমাকে জানতে পারছি
আর এই কথা ভেবে নিশ্চিন্ত হচ্ছি—
আমাদের স্বদেশ স্বাধীন এবং তার সীমান্তে
বন্দুকধারী প্রহরীরা প্রত্যহ টহল দিচ্ছে |

যদিও পায়ের নিচে মাটি এখন অগ্নিগর্ভ ;
যদিও আমাদের মাথার উপর আকাশ বলতে কিছুই নেই |

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবিঃ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি | প্রেম, প্রকৃতি, চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি তাঁর কবিতার মূল উপকরণ | তাঁর কাব্যকে ঘিরে আছে তীব্র সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা | সমাজতন্ত্রের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা তার কবিতা এবং জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে | ওই দৃঢ় বিশ্বাস এর জন্যই তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রত্যখ্য যোগদান, জেল যাত্রা এবং কবিতা | এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর দলের সঙ্গে মত বিরোধ এবং নিজেকে দল থেকে সরিয়ে আনা | তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - গ্রহচ্যুত (১৯৪২), রাণুর জন্য (১৯৫২), লখিন্দর (১৯৫৬), ভিসা অফিসের সামনে (১৯৬৭), মহাদেবের দুয়ার (১৯৬৭), মানুষের মুখ (১৯৬৯), ভিয়েতনাম : ভারতবর্ষ (১৯৭৪), আমার যজ্ঞের ঘোড়া : জানুয়ারি (১৯৮৫) | এ ছাড়া তিনি অনেক কাব্যগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন | তাঁর সম্পাদিত কবিতা বুলেটিনের সংখ্যাও পঁচিশের বেশি | কবির কবিজীবন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরনীয়, কারণ তিনি মূলত ছোট পত্রিকার কবি এবং তাঁর কোনো কবিতা কোনো বড় পত্রিকায় ছাপা হয় নি | কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা সত্বেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন | ক্যানসারে আক্রান্ত অবস্থায়, শেষ শয্যায় অনেক অনুরোধে, তিনি তাঁর দুটি কবিতা একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় ছাপার অনুমতি দিয়েছিলেন | তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত এবং সংকেতময় | --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩, ডঃ শর্মিষ্ঠা সেন