অন্যান্য

হৃদয়ে মম

প্রিয় বন্যা
কেমন আছ ,ভাল থাক সব সময় সেই কামনা । অনেক দিন পর লিখতে বসেছি ।লিখতে গিয়ে কিছুটা থমকে গেলাম । ইংরেজীতে যত সহজে Dear লিখা যায়
বাংলাতে “প্রিয়” যেন তত সহজে লিখা যায় না । বাংলাতে কাউকে নামের আগে প্রিয় লিখতে গেলে বুকের ভেতর কেমন একটা মোচড় দিয়ে উঠে । ইংরেজী Dear
এর যেন অনেক মানে হয়ে উঠে “প্রিয়”।এককেটা ভাষার একেক রকম সীমাবদ্বতা যেমন আছে তেমন একেক রকম অর্থও আছে ।
মনে আছে সেই অনেকদিন আগে টিভিতে বসুন্ধরা হাউজিং এর বিজ্ঞাপনে একটি সংলাপ শুনেছিলাম “লোকেশানটা খুব চমৎকার” পরে তোমাকে বলেছিলাম লোকাশান শব্দে যে
ম্যাসেজ(বার্তা) আছে এর বাংলা প্রতিশব্দে সেভাবে প্রকাশ করা যায় না। কত বছর আগের কথা ২৮ বছর তো হবেই । কত সময় চলে গেছে আমাদের জীবন থেকে…
চিঠির মত এমন সুন্দর জিনিষ মনে হয় আর নেই । চিঠি লিখা আর চিঠি পাওয়ার মধ্যে যে আনন্দ তা আর কিছুতেই নেই ।ডিজিটালের যুগে আমি এখনো মেইল এর চেয়ে চিঠিকেই ভালোবাসি ,মনে হয় পরিবর্তনের এই জোয়ারে আমি এখনো এনালগ রয়ে গেলাম ।
আমার স্ত্রী সব জানেন ,বোঝেন । এও জানেন তোমার সাথে আমার যোগাযোগ আছে । ইচ্ছে করেই হয়তো মুখ ফুটে বলতে চান না ।”কে হায় হৃদয় খুঁড়ে যন্ত্রনা জাগাতে ভালোবাসে” ।এক জন মানুষের জীবনে এবং মনে অনেক মানুষ এর ভুমিকা থাকে।ভাগ্যিস মানুষ অন্যের মন দেখতে পায় না ,যদি দেখতে পেত সংসারের সব সুখ উড়ে যেত …
তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম …
আমি আমৃত্যু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্তই রয়ে যাব । সব কিছু ফেলে যদি তোমার আগে চলে যাই তবে একটা অনুরোধ করতে চাই । আমার মৃত্যুর পর যদি আমার লাশ (মানুষ মরে গেলে লাশ হয়ে যায় , এই শব্দটা আমার একদম পছন্দ নয় ) দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য যদি তোমার হয় তাহলে আমার সংগ্রহে থাকা “সাগর সেনের” রবীন্দ্র সঙ্গীত গুলো শুনাবে … আমি জানিনা মানুষ মরার পর কোথায় যায় ,হয়ত তুমিও …
কেন আজ মৃত্যুর কথা লিখলাম …
আমি তো নতুন স্বপ্ন দেখছি ২০২১ নিয়ে তা তুমি জানো । মান্না দের একটি গানের কলি দিয়েই আজ শেষ করছি ” স্বপ্ ন যদি মধুর এমন জাগিও না”
ভালো থেকো,সুস্থ থেকো,সুন্দর থেকো শুধু নিজের জন্য । আর আমিও ভাল থাকব । ভাল থাকার জন্য যে জীবন আমি বেছে নিয়েছি ,ভাল না থেকে কি পারি বলো ।
মিতা
ডিসেম্বর ২৬,২০১৩

মিতা
মিতা
কোথায় যে যাই,কী যে চাই কিছুই বুঝতে পারি না। কোনব্যাপারেই মনসংযোগ করতে পারি না।কী কোন কাজে,কী কোন যায়গাতে,কী কোন পুরুষ বা নারীতে আদৌ একনিষ্ট হতে পারি না। গন্তব্যে পৌঁছে গেলেই মনে হয় এখানে তো চাইনি আসতে।তাই পৌঁছে আবার রওনা হই,কোথায় যাব,যেতে চাই তা না জেনেই। যেখানে আদর পাই, ভালোবাসা পাই, যত্ন পাই, যেখানে প্রাধান্য পাই; ঠিক সেখান থেকেই ভালোবাসার, সন্মানের, আঙ্গুল থেকে আঙ্গুল ছাড়িয়ে নিয়েই আমি অন্যত্র দৌঁড়ে যাই,অন্যত্র পৌঁছে আবার দৌড়াই। ফিরে যখন যাই সেই নিশ্চিত উষ্ণতার দিকে তখন পৌঁছে দেখি আমার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে শীতের হিমেল রাত। দিন ফেলে রাতে দৌড়াই; রাত ফেলে দিনে। শরীর ফেলে মনে দৌড়াই; মন ফেলে শরীরে।সব পাই,আবার কিছুমাত্রও পাই না।