“ক্ষুধার্ত চাষীর ঘরে জন্ম নিলো আজ এক কবি”
-মোরগের উচ্চারণে ভোরের আজান;
“কে সে শিশু?”-“জানো না সে কেমন মানুষ?
কবি সে- তোমার কথা সর্বদাই বলবে জনে-জনে”
-ব’লে আড়মোড়া ভাঙে এক সুবেহ্ সাদেকের পাখি;
“তোমাদের কথা, ৰুধা ও ব্যাধির কথা রাষ্ট্র ক’রে
দেবে দেশে ও বিদেশে” -ব’লে হালের বলদ দু’টি
নিশ্চিনত্মে জাবর কাটে বিষণড়ব গোয়ালে৷
“স্বাগতম” -ব’লে ভোর সকালের কাক
ডালিমের ডালে এসে বসে৷ “তোমাদের অন্ধকার
দূর হবে, মহাজন-জোতদার গুনবে প্রমাদ
অচিরেই” -ব’লে এসে শালিক-চড়াই!
“মারী ও মড়কে দুঃখময় এই দেশগাঁয়ে জ’ন্মে
কবি তার পিতৃঋণ শোধ ক’রে দেবে,
অবশেষে জন্ম নিয়ে এসেছে সে তোমাদেরই ঘরে,
নাম রাখো এই নবজাতকের -‘জীবন’, ‘জীবন’৷
কেননা, সে একদিন তোমাদের হ’য়ে
গেয়ে যাবে জীবনেরই গান” -এই ব’লে
ছাতিম গাছের নিচে এসে বসে ভোরের দোয়েল ।।
Related Articles
আধখানা বেলা
হরতকি – হেমলক , বারুদের পিপাসা কারে তুমি বেছে নিলে হৃদয়ের নিবিড়ে? হে পথিক , কারে তুমি বেছে নিলে পাথেয় , নির্মান , নচিকেতা , বিনাশ , না , স্বাস্থ্য? সারারাত কাঠ কাটে ঘুন পোকা গোপনে , সারারাত ধ’রে তরু বোনে কিছু ফুলকে , বোনে কিছু সকালের কুসুমের তনিমা হে পথিক , কারে তুমি বেছে […]
যখন নেই, তখন থাকো
যখন আমার সঙ্গে নেই তুমি, আমার সঙ্গে তুমি তখন সবচেয়ে বেশি থাকো। আমি হাঁটি, পাশাপাশি মনে হয় তুমিও হাঁটছো, তোমাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাই, যা যা খেতে পছন্দ করো, কিনি, তুমি নেই জেনেও কিনি। রাঁধি যখন, দরজায় যেন হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো, মনে মনে কথা বলি। খেতে বসি, ভাবি তুমিও বসেছো। যা কিছুই দেখি, পাশে […]
এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে
সেই কবে ‘জ্যোতির্ময় রবি ও কালো মেঘের দল’ নামের একটি নাতিবৃহৎ বই হাতে এসেছিল— পাঠ শেষে এতটাই নির্বাক আর বাঙালি জিবের বিদ্বেষ-বিষের লালায় এতটাই আক্রান্ত হয়েছিলাম, কেন? বইটির শিরোনামই বলে দেয়; ‘জ্যোতির্ময় রবি’কে সারাটা জীবনে কতটা ঘাত-প্রতিঘাত সইতে হয়েছিল—সত্যি বলতে কি, রবি যখন আপন জ্যোতিতে দেদীপ্যমান তখন স্বদেশে তার সম্পর্কে কটু-কাটব্য, এমনকি ব্যক্তিগত শোক-দুঃখের মাঝেও […]


