তোমার তুলনা মতে নৈশব্দের পাথর ফেটেছে
নিরুত্তর শিলাস্তর তবু আমি স্পর্শ করে বুঝি
দিনান্তের তাপটুকু লেগে আছে পাষানে খানিক,
নির্মম আবেগে তাই গ্লানিতেই গ- চেপে ধরি।
কবে যে তোমার চোখ পৃথিবীর প্রথম আগুনে
লোভীর জিহ্বার মতো তুলে নীল শিখার ঝিলিক
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অবিরাম চুম্বনে চাপনে
আমার বিদীর্ণ ওষ্ঠে লেপে দেবে রক্তের লালচ
এখনো তেমনি আছি অবিমৃষ্য কবির মতোই
ফাটা ঠোঁটে বলি, ওগো ভালোবাসি তোমাকে কে সেই
যেমন চিলের দৃষ্টি ভূপৃষ্ঠের খাদ্য খুঁজে ফেরে
যেমন মেঘের ভেলা ভেসে গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে
দারুণ বেষ্টন দিয়ে শুরু করে জলের স্তম্ভন অথবা
প্রবল বেগে নেমে আসে এই বাংলাদেশে
আইলের মালিকানাময় কিষাণের ছেকের ভেতর।
আমিও তেমনি নামি ছদ্মবেশী বঙ্গোপসাগর
বৃষ্টি বিবৃতি ঝরি, জলবিন্দু, নিস্তব্ধ তোমাতে।
Related Articles
বসন্ত বন্দনা
হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,—দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক। এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরন, মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসে অনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক খেয়ে, মৃত্তিকার বুকে নিমজ্জিত হতে চায়। […]
হাত দেখার কবিতা
আমি শুধুই কবিতা লিখি এটা মোটেই কাজের কথা নয় কথাটা শুনলে অনেকেরই হাসি পাবে আমি কিন্তু হাত দেখতেও জানি আমি বাতাসের হাত দেখেছি বাতাস একদিন ঝড় হয়ে সবচেয়ে উঁচু বাড়িগুলোকে ফেলে দেবে আমি বাচ্চা ভিখিরিদের হাত দেখেছি ওদের আগামী দিনে কষ্ট যদিও বা কমে ঠিক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না আমি বৃষ্টির হাত দেখেছি তার […]
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান! না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ। জাগিয়া উঠেছে প্রাণ, ওরে উথলি উঠেছে বারি, ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি। থর থর করি কাঁপিছে ভূধর, শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে, ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল গরজি […]

