তোমার তুলনা মতে নৈশব্দের পাথর ফেটেছে
নিরুত্তর শিলাস্তর তবু আমি স্পর্শ করে বুঝি
দিনান্তের তাপটুকু লেগে আছে পাষানে খানিক,
নির্মম আবেগে তাই গ্লানিতেই গ- চেপে ধরি।
কবে যে তোমার চোখ পৃথিবীর প্রথম আগুনে
লোভীর জিহ্বার মতো তুলে নীল শিখার ঝিলিক
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অবিরাম চুম্বনে চাপনে
আমার বিদীর্ণ ওষ্ঠে লেপে দেবে রক্তের লালচ
এখনো তেমনি আছি অবিমৃষ্য কবির মতোই
ফাটা ঠোঁটে বলি, ওগো ভালোবাসি তোমাকে কে সেই
যেমন চিলের দৃষ্টি ভূপৃষ্ঠের খাদ্য খুঁজে ফেরে
যেমন মেঘের ভেলা ভেসে গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে
দারুণ বেষ্টন দিয়ে শুরু করে জলের স্তম্ভন অথবা
প্রবল বেগে নেমে আসে এই বাংলাদেশে
আইলের মালিকানাময় কিষাণের ছেকের ভেতর।
আমিও তেমনি নামি ছদ্মবেশী বঙ্গোপসাগর
বৃষ্টি বিবৃতি ঝরি, জলবিন্দু, নিস্তব্ধ তোমাতে।
Related Articles
কাছের মানুষ
কালো রাতের জানলার ফাঁকে একফালি নাগরিক আকাশ আমার একমাত্র অবকাশ। রংবেরঙের কিছু স্মৃতি শুধু রইল পড়ে রইল দুধে-আলতা বিকেল বেলা অনিদ্রিত স্বপ্নমাখা সে এক রাত কিছু কবিতা, অনেক গান পুরনো কয়েকটা বই। আলো আঁধারে প্রতিক্ষণে যখন রক্তক্ষরণ ঘটে প্রাণে তখন সেই স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে বেড়াই কাছে দূরে, নীলাভ আকাশের সবুজ ছায়ায় মুহূর্তের নিঃসঙ্গ স্তব্ধতা।
আমার রক্তে অগ্নিশিখা : ওসিপ ম্যানডেলস্টাম
অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী আমার রক্তের ভিতরে এক অগ্নিশিখা পুড়িয়ে ছাই করছে জীবন, হাড় পর্যন্ত আর আমি পাথরের গান গাই না একটি মাত্র খুঁটির তৈরি হালকা আর রুক্ষ ওক গাছের গভীর হৃদয় আর ধীবরদের বৈঠা ভিতর পর্যন্ত চালিয়ে দাও শক্ত করে গিঁথে দাও কাঠের স্বর্গের চারপাশে যেখানে সব-কিছুই সহনীয়
বরকতের সঙ্গে লাঞ্চ করার কথা ছিলো
বরকতের সঙ্গে আমার দুপুরে লাঞ্চ করার কথা ছিলো। খুব ভোরে বেরিয়ে যাবার সময় হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেছিলো, শাদাভাতের সাথে আলুভর্তা আর গরম ডালের সুস্বাদু ঘ্রাণ ফাল্গুনের মগ্ন বাতাস ছড়িয়ে দেবে ঢাকা শহরে। আমি মিছিল শেষ করে চলে যাবো নবাবপুর রোডের শাহী রেস্তোরাঁয়। আকাশে ছেঁড়াখোঁড়া মেঘের আনাগোনা আর কলাভবনের চারপাশে পুলিশের বেষ্টনী দেখে আমি বলেছিলাম, পকেটে […]

