কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ
‘এই ওঠো,
আমি, আ…মি…।‘
আর অমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,
আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।
তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।
Related Articles
গাঢ় সন্ধ্যার অমাবস্যা
শব্দের দোকান খুলে সেই কোন প্রথম প্রহরে অপেক্ষায় আছি, আর এখন দুপুর, কেউ তো আসেনি, শুধু এক ক্ষুধার্ত কুকুর— তাকেই দিয়েছি সব শব্দধ্বনি দুই থালা ভরে। নদীতে নির্জন নৌকো, জলের নূপুর স্তব্ধতাকে চুমো খেয়ে শীর্ণ খাতের ভেতরে শুয়ে আছে—চোখে দেখা যায় যত দূর দীর্ঘ ছায়া পড়ে আছে মানবের পাঁজরে পাঁজরে। আমি তো এখন শুয়ে চৌকিতে […]
গভরমেন্টের টাকা
[ মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রিয় মুহিত ভাইকে, তাঁর আশি বছর পূর্তিতে এই কবিতাটি তাঁকে উৎসর্গ করা হলো।] আম উঠেছে, জাম উঠেছে, কাঁঠাল পাকা-পাকা, কিন্তু কিছুই কেনা যাচ্ছে না, পকেটে নেই টাকা। ‘কোথায় পাবো টাকা? কোথায় গেছে টাকা?’ ধমক দিয়ে বাবা বললেন, ‘পকেট আমার ফাঁকা।’ মায়ের কথা কী আর বলবো, টাকার কথা শুনে- […]
বাঙলা ভাষা
শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী- একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী। আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার। তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়- হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়। লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের মুখোমুখি আমরা তুলে ধরি আমাদের উদ্ধত দর্পিত সৌন্দর্য: আদিম […]

