কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ
‘এই ওঠো,
আমি, আ…মি…।‘
আর অমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,
আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।
তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।
Related Articles
আতাচোরা
আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে হলুদ ? বাঁশ বাগানে যইনে ফুল তুলিতে পাইনে কলুদ হলুদ বনের কলুদ ফুল বটের শিরা জবার মূল পাইতে দুধের পাহাড় কুলের বন পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন নাইতে ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে যে নদিটি থমকে আছে তাইতে আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে —হলুদ ?
ধৃতরাষ্ট্র-বিলাপ
জন্মান্ধ বললে ভুল হবে৷ ইদানীং আমার চোখ ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাতাস কি মুখরিত, আর্তনাদে? সঞ্জয়, যুদ্ধের গতি কোন দিকে? পাণ্ডবরা কী রচনা করেছে বূ্হ্য? অর্জুণ কী এখনো কুরুক্ষেত্রে? কোন্ মন্ত্রবলে প্রতিপক্ষ দুর্জয়, সঞ্জয়? বলো, তবে কী শূন্য হাতে কেবলি বিলাপ, আমার? গর্ভগৃহে পালিয়ে জীবন? না-কি অন্ধতাই জীবন, করুণাঘন মৃত্যু?
দ্বিতীয় আগমন
বড়ো থেকে বড়ো বৃত্তে পাক খেতে খেতে বাজ শুনতে পায় না বাজের প্রভুকে; সবকিছু ধ’সে পড়ে; কেন্দ্র ধ’রে রাখতে পারে না; নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্ব জুড়ে, ছাড়া পায় রক্তময়লা প্রবাহ, আর চারদিকে আপ্লাবিত হয় নিষ্পাপ উৎসব; শ্রেষ্ঠরা সমস্ত বিশ্বাসরিক্ত, যখন নষ্টরা পরিপূর্ণ সংরক্ত উৎসাহে। নিশ্চয়ই কোনো প্রত্যাদেশ এখন আসন্ন; নিশ্চয়ই দ্বিতীয় আগমন এখন আসন্ন; […]

