কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ
‘এই ওঠো,
আমি, আ…মি…।‘
আর অমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,
আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।
তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।
Related Articles
চিরমায়া
ঘর দুয়ার বাহিরে দেখি না, শুধু স্থির জানি ভিতরে কোথাও চৌকাঠে পা রেখে তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ, চিরমায়া। দাঁতে-চাপা অধরে কৌতুক স্থির বিদ্যুতের মতো লগ্ন হয়ে আছে, ভুরু বিদ্রুপের ভঙ্গিতে বাঁকানো, জ্বলে কোমল আগুন সিঁথি ও ললাটে। স্থির সরসীর মতো দুই চোখে চক্ষু রেখে জগৎ-সংসার অকস্মাৎ তার কার্যকারণের-সূত্রে গাঁথা মাল্যখানিকে ঘোরাতে ভুলে যায়। বাহিরে দেখি না, […]
লোকটি তবে কবি ছিলো?
সুখে তারও লোভ ছিলো -চিরকাল অ-সুখে ভুখেছে! মাথার অসুখ ছিলো, লোকটির -বুকের, দাঁতের- নিত্যসঙ্গী গিঁটেবাত, হাঁটতো তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে; শেষদিকে শ্বাসকষ্ট -নিঃশ্বাসের জন্যে একবুক বাতাসও তা ভাগ্যে বরাদ্দ ছিলো না! -লোকটির শরীরে অসুখ ছিল নানা -এজন্যে সে আজীবন লাঞ্চিত হয়েছে আর অপমান সয়েছে অনেক! সমাজও ছিলো না তার, বলতে গেলে, সামান্য প্রভাবও; লোকটির কোনো গুণই, […]
আশা
হয়ত তোমার পাব’ দেখা, যেখানে ঐ নত আকাশ চুমছে বনের সবুজ রেখা।। ঐ সুদূরের গাঁয়ের মাঠে, আ’লের পথে বিজন ঘাটে; হয়ত এসে মুচকি হেসে ধ’রবে আমার হাতটি একা।। ঐ নীলের ঐ গহন-পারে ঘোম্টা-হারা তোমার চাওয়া, আনলে খবর গোপন দূতী দিক্পারের ঐ দখিনা হাওয়া।। বনের ফাঁকে দুষ্টু তুমি আসে- যাবে নয়্না চুমি’ সেই সে কথা লিখছে […]

