সদ্য ছানি-কাটা চোখে
সর্বত্র বিছহি দৃষ্টি,
একটিও আমগাছ
পড়ে না নজরে।
আমানির স্বাদ
ভুলে গেছে এই জনপদ।
শেকড়ের কাছে যেতে নেই,
যেতে নেই সিঁড়ির প্রথম ধাপে—
জন্মচিহ্ন মুছে দিতে
কত না প্রয়াস,
কত ব্যর্থ আয়োজন ছিল,
আজও আছে
এই ধারাবাহিকতা
ক্ষুধার মতোই আজও টিকে আছে
শহরে ও গ্রামে
প্রতিমার ভাঙা টুকরো
অর্ধদগ্ধ বাস-টেম্পো
এলোমেলো মানুষের লাশ।
ক্ষমতা ক্ষমতা করে
ভুল রাজনীতি
কোরাসে মেলায় গলা।
স্বপ্নহীন নিদ্রাহীন
অসহ্য রজনীশেষে
জানালায় আসন্ন বৈশাখী
গানে-গানে
স্লোগানে-স্লোগানে
আশার ভাষাটি
শোনাবেন সে কোন তরুণ
দু চোখে স্বপ্ন মেখে?
আমি কান পেতে রই
কাঙালের মতো
কান পেতে রই
ও আমার
আপন-হূদয়-গহন দ্বারে
বারে-বারে
কান পেতে রই।
Related Articles
স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই
তুমি বললে, রৌদ্র যাও, রৌদ্রে তো গেলাম তুমি বললে, অগ্নিকুণ্ড জ্বালো, জ্বালালাম। সমস্ত জমানো সুখ-তুমি বললে, বেচে দেওয়া ভালো ডেকেছি নীলাম। তবু আমি একা। আমাকে করেছ তুমি একা। একাকিত্বটুকুতেও ভেঙে চুরে শত টুকরো করে বীজ বপনের মতো ছড়িয়ে দিয়েছ জলে-স্থলে। তুমি বলেছিলে বলে সাজসজ্জা ছেড়েছি, ছুঁড়েছি। যে অরণ্য দেখিয়েছ, তারই ডাল কেটেছি, খুঁড়েছি। যখনই পেতেছ […]
ঘোষনাপত্র
বেজে উঠুক কাগজের ঘর্ষণ তালপাতার মত। বাতাসে বিশ্রীভাবে বেঁকে যাবে যাক, তবু তারা পদ্মলোচন হবে না। কাণ্ডে তাদের ভর করবে রাজ্যের আকুতির দুঃসাহস। চ্যালা চামুণ্ডেরা যখন যেভাবে পারে পদ্মলোচনের সাথে ঝুলে পড়ে পড়ুক। তবে সাবধান বিপ্লবীরা, মহান কমরেড, তোমরা কাগজের ঘর্ষণ থামিও না। সেই ঘর্ষণে আত্না শুদ্ধ হোক। শুদ্ধতায় গ্রামের কর্দমাক্ত মাঠ থাক, শহরের বাহারি […]
আমি আসছি
আকাশে তাকালাম তোমার মুখ চোখ বন্ধ করলাম তোমার মুখ বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। কচি কচি কন্ঠে দিন আর রাত্রিকে টুকরো টুকরো ক’রে কারা কাঁদছে মৃত্যুর আতঙ্কে জীবনকে জড়িয়ে ধ’রে কারা কাঁদছে তাই বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। আমি আসছি__ দুহাতে অন্ধকার ঠেলে ঠেলে আমি আসছি। সঙিন উদ্যত করেছ কে? সরাও। বাধার দেয়াল […]

