কবিতা

হিজলতলীর সুখ

৫৩. হিজলতলীর সুখ

বলাই বাহুল্য আমি রাজনীতিবিদ নই, সুবক্তাও নই
তবু আজ এই সমাবেশে বলবো কয়েক কথা
সকলের অনুমতি পেলে।
–’বলুন, বলুন’।
রঙিন বেলুন দিয়ে মন ভোলানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই,
উপস্থিত সুধী, কেউ ভুলে মনেও করবেন না আমি
পারমিট, পেঁয়াজ আর পারফিউম ন্যায্যমূল্যে দেবো।
–’পেঁয়াজটা পেলে ভালো হত’।
আর কতো? যারা দিতো তারা আর দেবে না বলেছে।
–’কী হবে? কী হবে এখন উপায়’?
হেলায় খেলায় হয়েছে অনেক বেলা ফুরিয়েছে দিন
অবহেলা প্রপীড়িত মানুষেরা শোধ চায় ঋণ,
তবু দেবে, ভাত দেবে–ভোট দেবে, তবে
সামান্য তক্‌লিফ করে মাঝে মধ্যে গ্রামে যেতে হবে।
–’তবে কি সত্যি সব যা কিছু রটেছে’?
ঘটনা ঘটেছে এক মারাত্মক স্বাধীনতা-উত্তর এদেশে
প্রাপক দিয়েছে জেনে কারা ভদ্রবেশে
হিজলতলীর সুখ জবর-দখল করে রেখেছে এদ্দিন,
একটা কিছু তো আজ যথার্থই খুব সমীচীন।

৪.১২.৮১

হেলাল হাফিজ
হেলাল হাফিজ
বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি যিনি স্বল্পপ্রজ হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জ্জন করেন। তাঁর একমাত্র কবিতা সংকলন যে জলে আগুন জ্বলে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্য সংস্করণ হয়েছে। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’;- এ কবিতার দুটি পংক্তি ‘‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’’ বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে থাকে।তিনি সাংবাদিক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন। ==জন্ম ও শিক্ষাজীবন== ১৯৪৮সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা করেন নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।