কবিতা

ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা

ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা
মন জানো না ……

দিব্যি আছো, খাচ্ছো-দাচ্ছো
সকাল-বিকেল জল মাপাচ্ছো।
বাঁও মিলছে, মনে ভাবছো,
আসলে বাঁও মিলছে না।

ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা ….

ভাবছো এমন কাটবে বঁধু
ঝোলে লাউ, অম্বলে কদু,
বাড়িওয়ালার বিপত্তারণ
ভাড়াটের লর্ড শ্রীকৃষ্ণা।
মন জানো না,
ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা ?
বলছো বটে “একটু-একটু”
আসলে খুব একটু না,
জায়গাটা তো এই বাংলা,
নরওয়ে-টিমবাকটু না;
ঠগ বাছতে গাঁ যে উজাড়
কাঁকর বেছে চাল,
সদসতের সব পাঁচালী
হয়েছে জঞ্জাল ।
মন জানোনা ,
ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা ….
কাল মিছিলে হাঁটলো যারা
ভাবছো আজকে দেবে তারা?
সাঁই হাসিছেনঃ এই তো লীলা,
হাঁটছি, কিন্তু দিচ্ছি না ।
মন জানো না,
ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা ….

জয়দেব বসু
জয়দেব বসু
১২ মে ১৯৬২ জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। তিনি ছিলেন বাবা-মার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পিতা পরিতোষ বসু ছিলেন নড়াইল জেলার সিঙিয়া গ্রামের মানুষ। মাতা বেলা বসু টাঙ্গাইল জেলার সাজানপুর গ্রাম নিবাসী। জয়দেব শিক্ষালাভ করেন পাঠভবন (শান্তিনিকেতন), প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশা হিসেবে বেছে নেন অধ্যাপনা। ৫০ বছর বয়সে জয়দেব বসু হারিয়ে যাবেন কেউ ভাবেনি, কেউ কল্পনা করেনি। এ বয়সেও তিনি ছিলেন যেন তারুণ্যে উজ্জ্বল, রঙিন-আলোকময়। তাঁর শৈশব কাটে দার্জ্জিলিং এবং শান্তিনিকেতনে। স্কুল শেষ করে যোগ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে বাংলা নিয়ে। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এর পর তিনি দমদম মোতিঝিল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত দীর্ঘ কবিতা “মেঘদূত” যা প্রকাশিত হয়েছিল । ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২ জয়দেব বসু মৃত্যু বরন করেন ।