– কি করছো?
– ছবি আকঁছি।
– ওটা তো একটা বিন্দু।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই বৃত্ত হবে। কেন্দ্র হবে তুমি। আর আমি হবো বৃত্তাবর্ত।
– কিন্তু আমি যে বৃত্তে আবদ্ধ হতে চাই না। আমি চাই অসীমের অধিকার।
– একটু অপেক্ষা করো। . . . এবার দেখো।
– ওটা কি? ওটা তো মেঘ।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই আকাশ হবে। তুমি হবে নি:সীম দিগন্ত। আর আমি হবো দিগন্তরেখা।
– কিন্তু সে তো অন্ধকার হলেই মিলিয়ে যাবে। আমি চিরন্তন হতে চাই।
– আচ্ছা, এবার দেখো।
– একি! এ তো জল।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই সাগর হবে। তিনভাগ জলের তুমি হবে জলকন্যা। আর আমি হবো জলাধার।
– আমার যে খন্ডিতে বিশ্বাস নেই। আমার দাবী সমগ্রের।
– একটু অপেক্ষা করো। এবার চোখ খোল।
– ওটা কি আঁকলে? ওটা তো একটা হৃদয়।
– হ্যাঁ, এটা হৃদয়। যেখানে তুমি আছো অসীম মমতায়, চিরন্তন ভালোবাসায়। এবার বলো আর কি চাই তোমার?
– সারাজীবন শুধু ওখানেই থাকতে চাই।
(এটি কথোপকথন/দুই এর কবিতা )
Related Articles
বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি
বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি। নিজের বেদনা থেকে নিজেই ফোটায় পুস্পদল। নিজের কস্তুরী গন্ধে নিজেই বিহ্বল। বিদীর্ণ বল্কলে বাজে বসন্তের বাঁশরী বারংবার আত্মজ কুসুমগুলি সহস্র চুম্বনচিহ্নে অলংকৃত করে ওষ্ঠতল। আমি একা ফুটিতে পারি না। আমি একা ফোটাতে পারি না। রক্তের বিষাদ থেকে একটি আরক্তিম কুসুমও। আমাকে বৃক্ষের ভাগ্য তুমি দিতে পারো। বহুজন্ম বসন্তের অম্লান মঞ্জুরী ফুটে […]
কথোপকথন-৩৭
ভালবাসা,সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়। নন্দিনী! এসব কথা তমার কখনো মনে হয়? চক্রান্তের মত যেন,সারা গায়ে অপরাধ প্রবনতা মেখে একটি যুবুক আজ যুবতির কাছাকাছি এসে সাদা রুমালের গায়ে ফুলতোলা শেখে। যেন এই কাছেয়াসা সমাজের পক্কে খুব বিপজ্জনক। যেন ওরা আগ্নেয়াস্ত্র পেয়ে গেছে মল্লিকবাগানে যেন ওরা হাইজ্যাকের নথিপত্র জানে এসেছে বারুদ ভরে গোপন কামানে। একটি যুবুক […]
আধখানা মুখ
আধখানা মুখ বাইরে রেখো, আধখানা মুখ অন্ধকারে, দূর থেকে যেন সবাই তোমায় দেখতে পারে। ঘুম যদি পায় রাত্রিবেলা, শীতের জটিল অন্ধকারে, জ্বেলে নিয়ো তাপ উড়কি পাতায়, শুকনো খড়ে। দূর থেকে তাপ দেখতে পাব, আগুনের জ্বালা অন্ধকারে, হঠাৎ পথে কী দস্যুতা রে! কেড়ে নিয়ে যায় ঝরনার মতো ছুটে চলে যায় অন্ধকারে নিয়ে যায় সব অস্থি-মজ্জা-মাংস কেড়ে। […]

