স্নান করে উঠে কতক্ষণ
ঘাটে বসে আছে এক উন্মাদ মহিলা
মন্দিরের পিছনে পুরনো
বটগাছ। ঝুরি।
ফাটধরা রোয়াকে কুকুর।
অনেক বছর আগে রথের বিকেলে
নৌকো থেকে ঝাঁপ দিয়ে আর ওঠেনি যে-দস্যি ছেলেটা
এতক্ষণে, জল থেকে
সে ওঠে, দৌড় মারে, ঝুরি ধরে খুব দোল খায়
সারা গা শ্যাওলায় ভরা, একটা চোখ মাছে খেয়ে গেছে
কেউ তাকে দেখতে পায় না, মন্দিরের মহাদেবও ঢুলছে গাঁজা খেয়ে
সেই ফাঁকে, এরকম দুপুরবেলায়–
সে এসে মায়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা ক’রে যায়।
Related Articles
তৃতীয় বিশ্বের একজন চাষীর প্রশ্ন
আগাছা ছাড়াই, আল বাঁধি, জমি চষি, মই দিই, বীজ বুনি, নিড়োই, দিনের পর দিন চোখ ফেলে রাখি শুকনো আকাশের দিকে। ঘাম ঢালি খেত ভ’রে, আসলে রক্ত ঢেলে দিই নোনা পানিরূপে; অবশেষে মেঘ ও মাটির দয়া হলে খেত জুড়ে জাগে প্রফুল্ল সবুজ কম্পন। খরা, বৃষ্টি, ঝড়, ও একশো একটা উপদ্রব কেটে গেলে প্রকৃতির কৃপা হ’লে এক […]
কয়েকটা দিন
কয়েকটা দিন নিজের মত, কয়েকটা দিন অন্যের মত, কয়েকটা দিন বোকার মত, কয়েকটা দিন চালাকের মত, কয়েকটা দিন ইস্কুলের জন্যে, কয়েকটা দিন অফিসের জন্যে, কয়েকটা দিন বাড়ির জন্যে, কয়েকটা দিন বাইরের জন্যে, কয়েকটা দিন মাধবীফুলের জন্যে, কয়েকটা দিন টেষ্টম্যাচের জন্যে, কয়েকটা দিন ভালোবাসার জন্যে, কয়েকটা দিন চোখের জলের জন্যে, এইরকম কয়েকটা+কয়েকটা+কয়েকটা যোগ দিয়ে দিয়ে কিছুই […]
একচক্ষু
কী দেখলে তুমি? রৌদ্রকঠিন হাওয়ার অট্টহাসি দু’হাতে ছড়িয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর গ্রীষ্মের প্রেত-সেনা মাঠে-মাঠে বুঝি ফিরছে? ফিরুক, তবু তার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী তুমি একবারও দেখলে না? একবারও তুমি দেখলে না, তার বিশীর্ণ মরা ডালে ছড়িয়ে গিয়েছে নম্র আগুন, মৃত্যুর সব দেনা তুচ্ছ সেখানে, নবযৌবনা কৃষ্ণচূড়ার গালে ক্ষমার শান্ত লজ্জা কি তুমি একবারও দেখলে না?

