স্নান করে উঠে কতক্ষণ
ঘাটে বসে আছে এক উন্মাদ মহিলা
মন্দিরের পিছনে পুরনো
বটগাছ। ঝুরি।
ফাটধরা রোয়াকে কুকুর।
অনেক বছর আগে রথের বিকেলে
নৌকো থেকে ঝাঁপ দিয়ে আর ওঠেনি যে-দস্যি ছেলেটা
এতক্ষণে, জল থেকে
সে ওঠে, দৌড় মারে, ঝুরি ধরে খুব দোল খায়
সারা গা শ্যাওলায় ভরা, একটা চোখ মাছে খেয়ে গেছে
কেউ তাকে দেখতে পায় না, মন্দিরের মহাদেবও ঢুলছে গাঁজা খেয়ে
সেই ফাঁকে, এরকম দুপুরবেলায়–
সে এসে মায়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা ক’রে যায়।
Related Articles
জন্মভূমি আজ
একবার মাটির দিকে তাকাও একবার মানুষের দিকে। এখনো রাত শেষ হয় নি; অন্ধকার এখনো তোমার বুকের ওপর কঠিণ পাথরের মত, তুমি নি:শ্বাস নিতে পারছ না। মাথার ওপর একটা ভয়ঙ্কর কালো আকাশ এখনো বাঘের মত থাবা উঁচিয়ে বসে আছে। তুমি যেভাবে পারো এই পাথরটাকে সরিয়ে দাও আর আকাশের ভয়ঙ্করকে শান্ত গলায় এই কথাটা জানিয়ে দাও তুমি […]
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও। এই নাও আমার যৌতুক, এক-বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা। ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব, শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে। আমি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব, তোমার পায়ের কাছে নামাব পাহাড়। আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও। পায়ের আঙুল হয়ে সারাক্ষণ লেগে আছি […]
পরাণ মাঝি হাঁক দিয়েছে
অনেকক্ষণ বৃষ্টি থেমে গেছে বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষণ, ফুটো চাল থেকে আর জল গড়িয়ে পড়বে না খোকাকে শুইয়ে দাও। খোকাকে শুইয়ে দাও তোমার বুকের ওম থেকে নামিয়ে ওই শুকনো জায়গাটায় শুইয়ে দাও, গায়ে কাঁথাটা টেনে দাও অনেকক্ষণ বৃষ্টি থেমে গেছে। মেঘের পাশ দিয়ে কেমন সরু চাঁদ উঠেছে তোমার ভুরুর মতো সরু চাঁদ তোমার চুলের মতো […]

