এইতো তোমার স্পষ্ট সমাজ-সংসার-ঘরদোর,
এই যে তোমার প্রিয় দৃশ্যমান শস্যের প্রান্তরহরিৎ
প্রতালি আর বহমান লাবণ্যের ধারা;
সুখী গৃহকোণ ছিরে সবুজের ধারাবাহিকতা-
দক্ষিণ সমুদ্র থেকে ভেসে আসা বিহ্বল বাতাস,
চালবাহী বিদেশী জাহাজ, নীল নাবিকের গলা,
সমতল জলের ওপরে ভাসমান মূল্যবোধ-
তোমর এ-সব কিছু সমসৃণ জীবনের দায়!
বিপরীত চিত্রটিও আঁকা আছে চোখের সম্মুখে;
পদ্মা ও মেঘনা জুড়ে বিস্তারিত জেলেদের জাল,
ছোট ছোট দেশি নৌকো দুলে ওঠে দুরন্ত দোলায় –
মানুষের শ্রম-রক্ত-ঘাম-অশ্রু অবিরাম ঝরে!
জলের রুপালি শস্য মধ্যস্বত্বভোগীর কবলে
চলে যায় : তীরে ফেরে শূন্য হাতে অবসন্ন দেহ!
Related Articles
উত্তর
তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো ‘এই আকাশ আমার’ কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা। সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো, ‘ফুল তুই আমার’ তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে। জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে, তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’ কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর। মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ […]
শেষের কবিতা
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও। তারি রথ নিত্যই উধাও জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন, চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন। ওগো বন্ধু, সেই ধাবমান কাল জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেরি তার জাল– তুলে নিল দ্রুতরথে দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে তোমা হতে বহু দূরে। মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে পার হয়ে আসিলাম আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়– রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায় আমার […]
ভাঙাভাঙি
সে এসে সমস্ত ভেঙে দিয়ে গেল বিকেল বেলায়। ইটের পাঁজার মতো থরে থরে সাজানো সুখের সাঁচীসত’প ভেঙে দিয়ে গেল। বুকের নিভৃত কোণে স্থাপত্যের এবং সি’তির কোনারক ভেঙে দিয়ে গেল। চুরমার শব্দে পাখি উড়ে গেল বৃক্ষলতা ছেড়ে নদী মুখ লুকোলো বালিতে। এত ভাঙাভাঙি এত টুকরো টুকরো কাঁচ, রক্তকণা কুঁচি কুঁচি ছেঁড়া পাপড়ি, পেরেক, আলপিন আমি একা […]

