গল্প

আমার একটা পোষা দৈত্য আছে

5256edf7d4bd5-Untitled-1দুপুরবেলা তপু একাই থাকে বাসায়। স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকে সে আসে রিকশাভ্যানে। একটা রিকশাভ্যানে আসে তারা আটজন। ভ্যানচালকের নাম হবিবর, তারা ডাকে হবিবর মামা বলে। রিকশাভ্যানটা দেখতে খাঁচার মতো, লোহার জাল দিয়ে ঘেরা। তপুকে হবিবর মামা তাদের বিল্ডিংয়ের গেটে নামিয়ে দেন। তপু তিনতলা পর্যন্ত হেঁটে ওঠে। কলবেল টেপে। তখন মর্জিনা খালা গেট খুলে দেন।

তপু তার পায়ের কেডস-জোড়া প্রথমে এপাশে-ওপাশে ছুড়ে মারে। তারপর ছুড়তে থাকে মোজা। পিঠের ব্যাগ মেঝেতে লুটায়। তারপর সে প্রথমে ফোন করে মাকে, ‘মা, আমি বাসায় এসেছি।’ মা অফিসে থাকেন। তপুর ফোন না পাওয়া পর্যন্ত অস্থির থাকেন। তপু ফোন করলেই তিনি বলেন, ‘যাক, বাবা তপু, নাও, গোসল সেরে নাও। তারপর ভাত খাও। মর্জিনা খালাকে বলো, মুরগি বের করে দিতে।’

তপু পড়ে ক্লাস থ্রিতে, মিলেনিয়াম স্টারস স্কুলে। কলাবাগানে তাদের স্কুল। আর তারা থাকে কাঁঠালবাগানে। যদিও কলাবাগানে সে কোনো কলাগাছ দেখেনি, কাঁঠালবাগানে মাত্র একটা কাঁঠালগাছ দেখেছে।

দুপুরের খাওয়া হলে তপুর কাজ ঘুমানো। মর্জিনা খালা তখন বাথরুমে যান। পুরো বাড়িটা খাঁ খাঁ করে। পুরো পাড়াটাই কেমন ঝিমুতে থাকে। তিন্নি আপু আসবেন চারটায়। মা সাড়ে পাঁচটায়। বাবা ছয়টায়।

আজকে তপুর ঘুম আসছে না। স্কুলে বিজ্ঞানমেলা হবে। বন্ধুরা একেকজন একেকটা প্রজেক্ট করছে। তপু এখন কী প্রজেক্ট করে!

তপু বিছানা ছাড়ে। স্টোররুমে যায়। পুরোনো একটা রেডিও আছে। সেটা বের করে কী কিছু করা সম্ভব। একটা লাল বালতির ভেতরে কত কী! ভাঙা খেলনা গাড়ি, টর্চ লাইট। খেলনা গাড়ির ইঞ্জিনটা দিয়ে কি কিছু একটা বানানো যায়?

একটা নীল রঙের বোতল পাওয়া গেল বালতির গোড়ায়। বোতলটা দেখতে খুব সুন্দর। সে বোতলটা বের করে।

ভেতরে কিছু নেই। ছোট্ট বোতল। কী ছিল এই বোতলে? সুগন্ধি?

বোতলের ভেতরে একটা কী যেন নড়ছে। সে ভালো করে বোতলটা চোখের কাছে এনে দেখে। একটা ছোট্ট পুতুলের মতো দেখা যাচ্ছে ভেতরে। নড়াচড়া করছে।

ভারি অদ্ভুত তো!

তপু স্টোররুমের ভেতরেই বোতলের ছিপি খুলে ফেলে।

অমনি নীল আলো বেরোতে থাকে বোতল থেকে!

এত তীব্র নীল যে তার চোখ যায় ধাঁধিয়ে। সে চোখ বন্ধ করে। চোখ খুলতেই দেখে, তার সামনে ইয়া বড় একজন…না…ঠিক মানুষ নয়…সম্পূর্ণ নীল, মাথাটা ছাদে আটকে গেছে। মাথার চুল নীল, চামড়ার রং নীল, চোখ দুটো নীল।

‘কে তুমি?’ তপু জিজ্ঞেস করে। তার গলা কাঁপে। ‘তুমি কি আলাদিনের দৈত্য?’

‘ঠিক ধরেছ। আমি আলাদিনের দৈত্যর বংশধর। আমার নাম নীলাক্ষী।’

‘এখন আমি যা বলব, তুমি কি তা-ই শুনবে?’

‘হ্যাঁ, শুনব। আমি তোমার তিনটা আদেশ শুনব। কারণ, তুমি আমাকে এই বোতল থেকে উদ্ধার করেছ।’

তপু বলে, ‘তোমাদের দৈত্যদের এই নিয়মটা ভালো না একদম। তোমরা মাত্র তিনটা অর্ডার কেন শোনো। বেশি করে শুনতে পারো না।’

নীলাক্ষী বলে, ‘না, বেশি করে শোনার নিয়ম নেই। আমরা সবাই নিয়মের জালে বন্দী।’

‘তাহলে আর দৈত্য হয়ে কী লাভ। আমরাও তো নিয়মের জালেই বন্দী। দেখো না সকাল হলেই স্কুলে যেতে হয়। একটা বন্দীভ্যানে চড়ে। সেখানেও বন্দী। তারপর আবার বন্দীভ্যানে চড়ে বাসা। এখানেও আমি বন্দী।’

‘তবে আমার মতো বোতলে তো এক হাজার বছর থাকতে হয়নি। তুমি তো তবু আকাশ দেখো। আমি যে কত দিন আকাশ দেখি না।’

‘তাই নাকি?’

‘হ্যাঁ। তোমার তিনটা হুকুম পালন করা হলেই আমি একটু বেরোব। আকাশ দেখব। বোতলের ভেতরে থাকতে থাকতে হাত-পায়ে খিল ধরে গেছে।’

‘না। আমি হুকুম করব না।’

‘তাহলে আমাকে ছেড়ে দাও। আমি যাই।’

‘না না, তা হয় না।’

‘ঠিক আছে। তোমাকে পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। ভেবে ভেবে তিনটা অর্ডার দিয়ে দাও।’

‘পাঁচ মিনিট পরে কী করবে?’

‘তোমার অর্ডার না পেলে চলে যাব।’

তপু বলল, ‘এখন একটা অর্ডার দিই। পরে আরও দুটো অর্ডার দেব। হবে?’

‘আচ্ছা দাও দেখি একটা হুকুম।’

1তপু বলল, ‘চলো, আমাকে ছাদে নিয়ে চলো। আমাদের বিল্ডিংয়ের ছাদে যাওয়াও বারণ। তালা দেওয়া থাকে।’

‘চলো।’ নীলাক্ষী তপুর হাত ধরে। আর এক পলকেই তপু দেখতে পায়, তারা তাদের ছয়তলা বাড়ির ছাদে।

বিকেলবেলা। শরৎকালের বিকেল। আকাশে সাদা সাদা মেঘ। বাকি আকাশটা নীল। রোদে ঝকঝক করছে। ছাদের রেলিংয়ে কাক। দুটো কবুতর। ছাদে কতগুলো ফুলের গাছ।

নীলাক্ষী বলে, ‘ইশ্, এবার একটু হাত-পা ছেড়ে দাঁড়াতে পারব।’

নীলাক্ষী আড়মোড়া ভাঙে। তারপর সে বড় হতে থাকে। তপু অবাক হয়ে দেখে, নীলাক্ষীর মাথা একেবারে মেঘের গা ফুঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

তপু ভয় পায়। ‘এই দৈত্যটা এত বড়ও হতে পারে!’

তপু বলে, ‘এই, তুমি এত বড় হোয়ো না। একটু কাছে আসো।’

নীলাক্ষী বলে, ‘এটা কি তোমার দুই নম্বর আদেশ?’

‘না না। আমার দুই নম্বর আদেশ হলো, আমাকে একটা আইসক্রিম দাও।’

‘মাত্র একটা আইসক্রিম। আচ্ছা, কাপ না ললিপপ?’

‘ললিপপ।’

‘কমলা না সবুজ? নাকি চকবার?’

‘চকবার।’

‘ঠিক আছে। এই নাও, তোমার চকবার।’

তপু চকবার খায়। কী যে মজা। যেন মধুতে তার মুখ গেল ভরে।

নীলাক্ষী বলে, ‘শোনো, এর কাঠিটা ফেলে দিয়ো না। ফ্রিজে রেখে দেবে। প্রতিবার ফ্রিজ খুললেই দেখবে একটা আস্ত চকবার। শুধু কখনোই কাঠিটা ফেলে দেবে না।’

তপু বলে, ‘বেশ বেশ। তাহলে আর চিন্তা নেই। নইলে তো আবার চিন্তা হতো, আগামীকাল কী খাব।’ তপু চকবারে একটা কামড় দেয়।

নীলাক্ষী বলে, ‘এবার আমাকে তিন নম্বর হুকুমটা দাও।’

তপু ভাবতে থাকে। কী চাইবে। একটা মোটরগাড়ি? যাতে তারা স্কুলে যেতে পারে গাড়ি চড়ে। বাবা অফিসে যাবেন, মা অফিসে যাবেন। কিন্তু গাড়ি চালাবেন কে? ড্রাইভার কই পাওয়া যাবে। তেলের দাম দেবে কে? নাকি গাড়িটা বেচে তারা টাকা নেবে।

নাকি একটা বিশাল রাজপ্রাসাদ চাইবে। আচ্ছা হলো। একটা বিশাল রাজপ্রাসাদ পাওয়া গেল। সেখান থেকে তপু একা একা ফিরবে কী করে নিজের বাসায়? বাবা-মাকে খুঁজে পাবে কী করে? তিন্নি আপুকে?

তাহলে?

নীলাক্ষী বলে, ‘বস, তিন নম্বর হুকুমটা দাও। আমি সেটা পালন করে চলে যাই।’

তপু বলে, ‘একটু ভাবি।’

নীলাক্ষী বলে, ‘না, আর ভাবার সময় দেওয়া যাবে না।’

তপু তখন বলে, ‘আচ্ছা, তুমি এত বড় শরীরটা কেমন করে এতটুকুন বোতলে ঢুকিয়েছিলে, দেখাও তো।’

নীলাক্ষী সঙ্গে সঙ্গে নীল ধোঁয়া হয়ে ঢুকে পড়ে বোতলে। আর অমনি তপু বোতলের ছিপিটা মুখ থেকে বের করে পেঁচিয়ে লাগিয়ে দেয়। তারপর বোতলটাকে পকেটে রাখে।

আইসক্রিমের কাঠিটাও।

এখন সমস্যা হলো, তাদের ছাদে তালা দেওয়া। সে এখন বের হবে কী করে ছাদ থেকে? কী করে বাসায় যাবে? সে ছাদের কিনারে যায়। রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে নিচে তাকায়। সামনের রাস্তা দিয়ে লোকজন যাচ্ছে। তাদের কাউকে ডাকতে হবে। সে ছয়তলা থেকে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে পায় বলে মনে হয় না। এখন সে কী করবে?

সে ছাদের টিনের দরজাটায় আঘাত করতে থাকে।

জোরে জোরে শব্দ করে।

কেউ শোনে না।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়। ওই যে তিন্নি আপু রিকশাভ্যান থেকে নামলেন। ‘আপু আপু…’ সে একটা ঢিলও ছোড়ে। তিন্নি তাকানই না…এখন…

তখন তপুর মাথায় বুদ্ধিটা চলে আসে। ছাদে পানির পাইপ আছে। সেই পাইপে চাবি আছে। সে গায়ের জোরে চাবি ঘোরায়। খ-য়ের প্যাঁচে খোলা। আ-এর প্যাঁচে আটকানো। তাকে আটকাতে হবে। সে নিচের তলাগুলোয় পানি যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়।

তারপর ছাদের একটা ছায়াওয়ালা জায়গায় বসে থাকে। আকাশের রং বদলে যাওয়া দেখে। দুটো চড়ুই পাখি কিচিরমিচির করছে। সেদিকে তাকিয়ে থাকে।

তারপর দেখে মা এলেন। বাসায় না-জানি কত কান্নাকাটি পড়ে গেছে। তিন্নি আপু এসে দেখেছেন, তপু ঘরে নেই। আবার ঘরের দরজাও বন্ধ। মা এসে দেখেছেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে। তাঁরা নিশ্চয়ই একে-ওকে ফোন করে পৃথিবী উল্টে দিচ্ছেন।

মা নিশ্চয়ই কাঁদছেন। তিন্নি আপু কাঁদছেন।

তপুও কাঁদছে বসে।

বাবা আসেন ছুটতে ছুটতে। তাঁকে সে নামতে দেখে সিএনজি-যান থেকে।

সন্ধ্যা নেমে আসে। বাসার সামনে পুলিশের ভ্যান। কিন্তু কোনো একজন ছাদে আসবে না?

আকাশে যখন একটা তারা ফুটে ওঠে, তখন দারোয়ান চাচা ছাদের দরজা খোলেন। খুলেই তপুকে সামনে পান। তিনি চিৎকার করে ওঠেন, ‘এই তো তপু আংকেল। এই তো …’

তিনি তাকে ধরে সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকেন।

তারপর কত প্রশ্ন। সে কী করে তালাবদ্ধ ছাদে গেল। তপু বলে, ‘তালা খোলাই ছিল।’

‘তাহলে কে লাগাল?’

‘আমি কী জানি।’

সে তার বোতলটা ড্রয়ারে রেখে দেয়। আর আইসক্রিমের কাঠিটা ফ্রিজে। রোজ দুপুরে সে একটা করে আইসক্রিম বের করে খায়।

আর সে ঠিক করেছে, তিন্নিকে দিয়ে বোতলটা আবার খোলাবে। তার আগেই ঠিক করে নিতে হবে, তিন্নি আপু তিনটা আদেশ কী কী করবেন?

আনিসুল হক
আনিসুল হক
আনিসুল হক (জন্ম: মার্চ ৪, ১৯৬৫) একজন বাংলাদেশী লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সত্য ঘটনা নিয়ে তাঁর লেখা মা বইটি বেশ জনপ্রিয়। [বাংলা ভাষার পাশাপাশি বইটি দিল্লী থেকে ইংরেজি ভাষায় এবং ভুবনেশ্বর থেকে উড়ে ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে । জন্ম[: আনিসুল হকের জন্ম রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে। তাঁর পিতার নাম মো. মোফাজ্জল হক এবং মায়ের নাম মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম মেরিনা ইয়াসমিন। শিক্ষাজীবনঃ তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে এস.এস.সি. এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচ.এস.সি. পাস করেন। উভয় পরীক্ষাতেই সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পান। এসএস সি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় তিনি ৩য় এবং এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন। কর্মজীবনঃ আনিসুল হক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন। অল্প কিছুদিন চাকরির পরই তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক দেশবন্ধু পত্রিকার সহসম্পাদক, ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত দৈনিক ভোরের কাগজের সহকারী সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক প্রথম আলোর সাথে যুক্ত আছেন। তাঁর মূল ঝোঁক লেখালেখিতে। পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন। বুয়েটে পড়ার সময় কবিতার দিকে বেশি ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে এর পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও মনোযোগী হন। উপন্যাস, বিদ্রুপ রচনা, নাটক রচনায় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। ২০১০ সালে তিনি আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রাম (আইডব্লিউপি)কর্মশালায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লেখকদের সাথে যোগ দেন।।তিনি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৭ জন লেখক আইডব্লিউপির কর্মশালায় যোগ দেন।১৯৬৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৩০টি দেশের এক হাজার ২০০ লেখক অংশ নেন। গল্পঃ যে স্বপ্ন দেখতে জানতো, আজকালকার ভালোবাসার গল্প, অসমাপ্ত চুম্বনের ১২ বছর পর। [৬] কবিতাঃ খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে (১৯৮৯), আমি আছি আমার অনলে (১৯৯১), আসলে আয়ুর চেয়ে বড় সাধ তার আকাশ দেখার (১৯৯৫), জলরংপদ্য (২০০২), তোমাকে ভাবনা করি। উপন্যাসঃ তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস মা (২০০৩ সালে প্রকাশিত)। এছাড়া বীর প্রতীকের খোঁজে, নিধুয়া পাথার, আয়েশামঙ্গল, খেয়া, ফাঁদ, বেকারত্বের দিনগুলিতে প্রেম, ভালোবাসা আমি তোমার জন্য কাঁদছি, ফাল্গুন রাতের আঁধারে, আমার একটা দুঃখ আছে, ক্ষুধা এবং ভালোবাসার গল্প, হৃদিতা, সেঁজুতি, তোমার জন্য, ৫১ বর্তী, আবার তোরা কিপ্টা হ,আলো-অন্ধকারে যাই,আমার একটা দু:খ আছে, আয়েশামঙ্গল, বারোটা বাজার আগে প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ব্যঙ্গাত্মক রচনাঃ পত্রিকায় ‘গদ্যকার্টুন’ নামে নিয়মিত ব্যঙ্গাত্মক রচনা লেখেন। এসব লেখা নিয়ে প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে কথাকার্টুন, গণতান্ত্রিক ফ্যান্টাসি‌‌, রাজা যায় রানি আসে, ছাগলতন্ত্র, অশ্বডিম্ব, সেই গাধা সেই পানি উল্লেখযোগ্য। নাটকঃ নাট্যকার হিসেবে তিনি ভিন্ন ধাঁচের নাটক উপহার দিয়েছেন। তাঁর রচিত দর্শকনন্দিত টেলিভিশন কাহিনীচিত্রের মাঝে রয়েছে নাল পিরান, করিমন বেওয়া, প্রত্যাবর্তন, সাঁকো, প্রতি চুনিয়া, চড়ুইভাতি, মেগা সিরিয়াল ৫১বর্তী প্রভৃতি। সিনেমার স্ক্রিপ্টঃ মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ব্যাচেলরএবং মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন আনিসুল হক। এছাড়া তিনি থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার, টেলিভিশন সিনেমারও স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। পুরস্কারঃ শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে পুরস্কার, টেনাশিনাস পদকসহ বেশ কয়েকটা পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার। ২০১২ সালে কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।