কবিতা

হাত দেখার কবিতা

আমি শুধুই কবিতা লিখি
এটা মোটেই কাজের কথা নয়
কথাটা শুনলে অনেকেরই হাসি পাবে
আমি কিন্তু হাত দেখতেও জানি
আমি বাতাসের হাত দেখেছি
বাতাস একদিন ঝড় হয়ে সবচেয়ে উঁচু বাড়িগুলোকে ফেলে দেবে
আমি বাচ্চা ভিখিরিদের হাত দেখেছি
ওদের আগামী দিনে কষ্ট যদিও বা কমে ঠিক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না
আমি বৃষ্টির হাত দেখেছি
তার মাথার কোন ঠিক নেই
তাই আপনাদের সকলেরই একটা করে ছাতা থাকা দরকার
স্বপ্নের হাত আমি দেখেছি
তাকে গড়ে তুলতে হলে ভেঙেচুরে ফেলতে হবে ঘুম
ভালবাসার হাতও আমি দেখেছি
না চাইলেও সে সকলকে আঁকড়ে ধরবে
বিপ্লবিদের হাত দেখা খুব ভাগ্যের ব্যাপার
একসঙ্গে তাদের পাওয়াই যায় না
বোমা ফেটে তো অনেকেরই হাতই উড়ে গেছে
বড়লোকদের প্রকাণ্ড হাতও আমাকে দেখতে হয়েছে
ওদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার
আমি ভীষন দুঃখের রাতের হাত দেখেছি
তাদের সকাল আসছে।
আমি যত কবিতা লিখেছি
হাত দেখেছি তার চেয়ে বেশি
দয়া করে আমার কথা শুনে হাসবেন না
আমি নিজের হাতও দেখেছি
আমার ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে।

নবারুন ভট্টাচার্য
জন্ম : ১৯৪৮-এ, বহরমপুরে | বিজন ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান নবারুন ভট্টাচার্য | পড়াশোনা করেছেন কলকতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে এবং আশুতোষ কলেজে প্রথমে ভূতত্ত্ব নিয়ে ও পরে সিটি কলেজে ইংরেজী নিয়ে | ১৯৭৩-এ বিদেশি সংস্থায় যোগদান করে ১৯৯১ পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন | কিছুদিন বিষ্ণু দে-র 'সাহিত্যপত্র' সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে চালাচ্ছেন 'ভাষাবন্ধন' পত্রিকাটি | এর আগে দীর্ঘদিন 'নবান্ন' নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনা করেছেন | ১৯৬৮-তে 'পরিচয়' পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম ছোটগল্প 'ভাসান' | প্রথম কবিতার বই 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না' ১৯৭২ এবং প্রথম উপন্যাস 'হারবার্ট' (পত্রিকায়প্রকাশ: ১৯৯২)| প্রথম উপন্যাস 'হারবার্ট' এর জন্য নবারুন নরসিংহ দাস (১৯৯৪), বঙ্কিম(১৯৯৬) ও সাহিত্য আকাদেমি(১৯৯৭) পুরুস্কার পেয়েছেন |