কবিতা

নীলপদ্ম

-ঝরাপাতা-

 

 

ভোরের আলোয় হঠাৎ দেখি তোমায়-

শিয়র পানে দাঁড়িয়ে আছ।

প্রতিটি দুর্বাঘাসের আগায়, বিন্দু বিন্দু মুক্ত ছড়িয়ে,

ঘুম ভাঙালে।   বাইরের আলো চোখ মেলেনি,

সূর্যটা এখন, তোমার টিপের মতো লাল

মানিয়েছে সুন্দর, আকাশের কালো  কপালে।

 

 

স্নানের পর তোমার ভিজে চুলের থেকে ফোঁটা ফোঁটা…

শিশিরগুলো  নিঃশব্দে  ধানের শিষে,   পাতার-

ডগা বেয়ে, শুকনো মাটির বুকে।

পোষা মোরগগুলো আজ হয়ত ছুটি নিয়েছে।

কিংবা তোমায় দেখে, মুগ্ধচোখে-

পাথর হয়ে, ডাকতে ভুলে গেছে।।

 

 

সন্ধ্যাবেলা দূরে কোথাও, সেই ভোরে ঘর ছেড়ে বেরনো,

একঝাঁক নাম না জানা,  অচিনপাখি-

কিঁচিরমিচির করে উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল।

হঠাৎ সব নিশ্চুপ, তোমার শিঞ্জনে-

আমার মতো, তারাও আত্মহারা।

 

 

গন্ধরাজ আর হাস্নুহানারা, আজ তাদের

এসেন্সের দোকান খোলেনি, খুলবেও না আর-

তোমার প্রতি হিংসায় না মুগ্ধতায়, বোঝাদায়।

পরে বুঝলাম,   তোমার শরীর থেকে…

তাদের অহংকার দর্প  করেছ  চূর্ণ-

আপন শাখা হতে মাটিতে লুটিয়ে পোড়ে,

স্বীয় মৃত্যুকে তারা করেছে বরণ।

তুমি তবুও এক এক করে মাটি থেকে-

গন্ধরাজ আরহ  স্নুহানাদের, শবদেহগুলো

তোমার নরম হাতে, সযত্নে তুলে রাখতে আঁচলে।

 

 

খরস্রোতা নদীও আজ, সফেন ও ঢেউবিহীন;

অনেক দূরের বাঁকে, দিগন্তরেখা ব্যাপী-

আকাশের সাথে নদী, এখনও সঙ্গমরত।

তোমার মতো  দুর্বার, তাদের  আপনগতির ধারা-

আমারমতোই আপন ভোলা ওরা।

 

 

 

দূরে সভাইপুরে,   তার আদিঅন্তহীন  বাওড়ে,

অগনিত  বৃহৎ  বৃহৎ পদ্মপাতার  উপর

হাজারো, পদ্মখরিশ যুগলের, উন্মত্ত  প্রেমালাপ-

পদ্মমধূলোভাগত মধুমক্ষীদের প্রলয় নাচন,

বিষাক্ত মধুমক্ষীকাদের, বিষাক্ত হুল  সারা শরীরে…                                                                                                           নীলপদ্ম

পদ্মখরিশদের, ছুঁচের থেকেও তীক্ষ্ণ দাঁতের

বিষাক্ত ছোবল উপেক্ষা করে,             আমি-

লক্ষাব্দের পর লক্ষাব্দ ধরে, সভাইপুরের  বাওড়ে-

উথাল পাথাল করে,     সাগর মন্থন করে,

খুঁজে চলেছি,  না পাওয়া অবধি

বিরামহীন, মৃত্যুহীন।             আমি-

খুঁজে চলেছি, তোমার চুলে,        গুজে  দেব  বোলে,

পূর্নবিকশিত  একটা,       গাঢ়    নীলপদ্ম।।

 

 

————————————————-x—————————————————–

 

 

 

 

ঝরাপাতা
ঝরাপাতা
ঝরাপাতা জন্মঃ ২১জুলাই, ১৯৮৭ পিতা ভারতীয় সেনা বাহিনীর কর্মী হওয়ার কারনে, ভারতের, উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ঝান্সির "আর্মি বেস ক্যম্পের কমান্ডো হসপিটালে জন্ম"। জন্মের অল্প কিছুদিন পর পিতা অবসর গ্রহণ করেন ও পাকাপাকি ভাবে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করেন। সেই সূত্রে, ২০০৩ সালে পশ্চিম বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার জেলার, জেলা সদর বারাসাতের, প্যরীচরন সরকার রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করে। এরপর ২০০৫ সালে বারাসাত মহত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য শাখায় পড়াশোনা। কাবিতার প্রেমে পড়াও এই সময় থেকে। পরে ২০০৮ সালে ব্যারাকপুর রাস্ত্রগুরু সুরেন্দ্র নাথ কলেজে বাণিজ্য শাখার "মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট" নিয়ে পড়াশোনা। এই সময় গঙ্গা পাড়ের ক্যাম্পাস থেকে বাণিজ্য বিভাগ অন্য ক্যাম্পাস স্থানান্তরিত করা হলে , প্রতিবাদে কলেজ আসা বন্ধ করে, শুধুমাত্র পরীক্ষার সময় এসে পরীক্ষা দিয়ে যেত। কলেজ না গিয়ে গঙ্গাপাড়ের বিভিন্ন ঘাটগুলিতে ঘুরে বেড়াত সারাদিন। কবিতা লেখার সূত্রপাত এখান থেকেই। এরপর কৃতিত্তের সাথেই স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে। পরে কিছুদিন বেসরকারি প্রতিস্থানে "মার্কেটিং বা বিপনন" বিভাগের দায়িত্ত্ব সামলায়। পরে চারি ছেড়েও দেয় ও পূর্ণ রুপে লেখালিখি শুরু করে।