গল্প

ডাক দিয়েছ কোন সকালে

মিতা
তোমার চিঠি পেলাম । অনেক দিন পর তোমার হাতের লিখা, অদ্ভুত এক ভাল লাগায় আমার সমস্ত হৃদয় নেচে উঠল । তুমি এখনো সেই আগের মতোই রয়ে গেলে একটুও বদলালে না।
সেই ফেলে আসা দিনগুলো ফ্লাশব্যাক করে সামনে এসে দাড়াল । জনারন্যে দুজন মুখোমুখি কিন্তু কোন কথা নেই । জীবনানন্দের বনলতা সেন এর মতো …”থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার ..।”
ইন্টারেনেট এর এই যুগে তোমার মত চিঠি লেখার মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । চিঠি তো অনেকেই লিখে ,কেমন আছ, ভাল আ্‌ছ, এখানে বৃষ্টি পড়ছে …। এরকম চিঠি তো অনেকেই লিখে থাকে । তোমার চিঠি অন্য রকম, তোমার মতই ।
প্রবাসের কথা লিখো । আমার ভারত ছাড়া অন্য কোন দেশে যাওয়া হয়ে উঠেনি । ইচ্ছে আছে । স্বামী সন্তান সংসার চাকুরী এসব করে সময় পাওয়া যায় না , সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি যেদিন নিজের ইচ্ছে মত ঘুরে বেড়াব । জানি না সে সময় কখনো আসবে কিনা।
ভাল থেকো,
তোমার হারিয়ে যাওয়া আমি,
বন্যা
ঢাকা,বাংলাদেশ।

মিতা
মিতা
কোথায় যে যাই,কী যে চাই কিছুই বুঝতে পারি না। কোনব্যাপারেই মনসংযোগ করতে পারি না।কী কোন কাজে,কী কোন যায়গাতে,কী কোন পুরুষ বা নারীতে আদৌ একনিষ্ট হতে পারি না। গন্তব্যে পৌঁছে গেলেই মনে হয় এখানে তো চাইনি আসতে।তাই পৌঁছে আবার রওনা হই,কোথায় যাব,যেতে চাই তা না জেনেই। যেখানে আদর পাই, ভালোবাসা পাই, যত্ন পাই, যেখানে প্রাধান্য পাই; ঠিক সেখান থেকেই ভালোবাসার, সন্মানের, আঙ্গুল থেকে আঙ্গুল ছাড়িয়ে নিয়েই আমি অন্যত্র দৌঁড়ে যাই,অন্যত্র পৌঁছে আবার দৌড়াই। ফিরে যখন যাই সেই নিশ্চিত উষ্ণতার দিকে তখন পৌঁছে দেখি আমার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে শীতের হিমেল রাত। দিন ফেলে রাতে দৌড়াই; রাত ফেলে দিনে। শরীর ফেলে মনে দৌড়াই; মন ফেলে শরীরে।সব পাই,আবার কিছুমাত্রও পাই না।