সমাপ্তি

সমাপ্তি প্রথম পরিচ্ছেদ অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন। নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়াছে। বহুদিন ঘন বর্ষার পরে আজ মেঘমুক্ত আকাশে রৌদ্র দেখা দিয়াছে। নৌকায় আসীন অপূর্বকৃষ্ণের মনের ভিতরকার একখানি ছবি যদি দেখিতে পাইতাম তবে […]

যৌবন রে, তুই কি রবি সুখের খাঁচাতে

যৌবন রে, তুই কি রবি সুখের খাঁচাতে। তুই যে পারিস কাঁটাগাছের উচ্চ ডালের ‘পরে পুচ্ছ নাচাতে। তুই পথহীন সাগরপারের পান্থ, তোর ডানা যে অশান্ত অক্লান্ত, অজানা তোর বাসার সন্ধানে রে অবাধ যে তোর ধাওয়া; ঝড়ের থেকে বজ্রকে নেয় কেড়ে তোর যে দাবিদাওয়া। যৌবন রে, তুই কি কাঙাল, আয়ুর ভিখারী। মরণ-বনের অন্ধকারে গহন কাঁটাপথে তুই যে […]

আজি কোন সুরে বাঁধিব দিন-অবসান বেলারে

আজি কোন সুরে বাঁধিব দিন-অবসান বেলারে দীর্ঘ ধূসর অবকাশে সঙ্গীজনবিহীন শূন্য ভবনে ।। সে কি মূক বিরহস্মৃতিগু্ঞ্জরণে তন্দ্রাহারা ঝিল্লিরবে । সে কি বিচ্ছেদরজনীর যাত্রী বিহঙ্গের পক্ষধ্বনিতে ।। সে কি অবগুন্ঠিত প্রেমের কুন্ঠিত বেদনায় সমবৃত দীর্ঘশ্বাসে । সে কি উদ্ধত অভিমানে উদ্যত উপেক্ষায় গর্বিত মঞ্জীরঝঙ্কারে ।

মনের বাগান-বাড়ি

ভালবাসা অর্থে আত্মসমর্পণ নহে। ভালবাসা অর্থে, নিজের যাহা কিছু ভাল তাহাই সমর্পণ করা। হৃদয়ে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা নহে; হৃদয়ের যেখানে দেবত্রভূমি, যেখানে মন্দির, সেইখানে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা। যাহাকে তুমি ভালবাস তাহাকে ফুল দাও, কাঁটা দিও না; তোমার হৃদয়সরোবরের পদ্ম দাও, পঙ্ক দিও না। হাসির হীরা দাও, অশ্রুর মুক্তা দাও; হাসির বিদ্যুৎ দিও না, অশ্রুর বাদল […]

ভরা থাক, ভরা থাক

ভরা থাক, ভরা থাক… স্মৃতি সুধায় বিদায়ের পাত্রখানি ভরা থাক, ভরা থাক… মিলনের উৎসবে তায় ফিরায়ে দিও আনি ভরা থাক, ভরা থাক… বিষাদের অশ্রুজলে নীরবের মর্মতলে, বিষাদের অশ্রুজলে নীরবের মর্মতলে। গোপনে উঠুক ফলে হৃদয়ের নতুনবানী গোপনে উঠুক ফলে হৃদয়ের নতুনবাণী ভরা থাক, ভরা থাক। যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা নয়নে আধার রবে […]

ছাত্রের পরীক্ষা

ছাত্র শ্রীমধুসূদন। শ্রীযুক্ত কালাচাঁদ মাস্টার পড়াইতেছেন অভিভাবকের প্রবেশ অভিভাবক। মধুসূদন পড়াশোনো কেমন করছে কালাচাঁদবাবু? কালাচাঁদ। আজ্ঞে, মধুসূদন অত্যন্ত দুষ্ট বটে, কিন্তু পড়াশোনোয় খুব মজবুত। কখনো একবার বৈ দুবার বলে দিতে হয় না। যেটি আমি একবার পড়িয়ে দিয়েছি, সেটি কখনো ভোলে না। অভিভাবক। বটে! তা, আমি আজ একবার পরীক্ষা করে দেখব। কালাচাঁদ। তা, দেখুন না। মধুসূদন। […]

নববর্ষ

বিশ্ববিধাতা সূর্যকে অগ্নিশিখার মুকুট পরিয়ে যেমন সৌরজগতের অধিরাজ করে দিয়েছেন, তেমনি মানুষকে যে তেজের মুকুট তিনি পরিয়েছেন দুঃসহ তার দাহ। সেই পরম দুঃখের দ্বারাই তিনি মানুষকে রাজগৌরব দিয়েছেন; তিনি তাকে সহজ জীবন দেননি। সেইজন্যেই সাধনা করে তবে মানুষকে মানুষ হতে হয়; তরুলতা সহজেই তরুলতা, পশুপক্ষী সহজেই পশুপক্ষী, কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় তবে মানুষ। তাই বলছি, […]

মাধবী হঠাৎ কোথা হতে এল ফাগুন দিনের স্রোতে

মাধবী   হঠাৎ কোথা হতে    এল   ফাগুন-দিনের স্রোতে।           এসে   হেসেই বলে, “যা ই   যা ই   যাই।’ পাতারা     ঘিরে দলে দলে   তারে    কানে কানে বলে,                    “না   না   না।’               নাচে    তা ই   তা ই   তাই॥ আকাশের   তারা বলে তারে,   “তুমি   এসো গগন-পারে,               তোমায়   চা ই   চা ই   চাই।’ পাতারা       ঘিরে দলে দলে   তারে     কানে কানে বলে,                    “না   না   না।’ […]

সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি

সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি, দুঃখে তোমায় পেয়েছি প্রাণ ভ’রে । হারিয়ে তোমায় গোপন রেখেছি, পেয়ে আবার হারাই মিলন-ঘোরে । চিরজীবন আমার বীণা-তারে তোমার আঘাত লাগল বারে বারে, তাই তো আমার নানা সুরের তানে তোমার পরশ প্রাণে নিলেম ধ’রে । আজ তো আমি ভয় করি নে আর লীলা যদি ফুরায় হেথাকার। নূতন আলোয় নূতন অন্ধকারে লও […]

পরবাসী, চলে এসো ঘরে

পরবাসী, চলে এসো ঘরে অনুকূল সমীরণ-ভরে॥ ওই দেখো কতবার হল খেয়া-পারাবার, সারিগান উঠিল অম্বরে॥ আকাশে আকাশে আয়োজন, বাতাসে বাতাসে আমন্ত্রণ। মন যে দিল না সাড়া, তাই তুমি গৃহছাড়া নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে॥ রাগ: ইমনকল্যাণ তাল: কাহারবা রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২২ মাঘ, ১৩৩২ রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৬ স্বরলিপিকার: অনাদিকুমার দস্তিদার