কবিতা

প্রেমিকা তোমাকে

আমার স্তবির ঘুমে কী করে যে শিখাময় অগ্নি থেকে
লাফিয়ে উঠলে,প্রেমিকা আমার,যার চিতা সাজিয়েছি নিজে
শিল্পের মতন,যাকে অগ্নিলোকে দান করে বলেছি নীরবে
বিকশিত হতে থাকো অপর্যাপ্ত বেদনা আমার ।

তুমি কি আমার মধ্যে সুন্দর ক্ষতের মধ্যে লুকিয়ে ছিলে
বাক্যহীন,স্বপ্নহীন,স্মৃতিহীন ? ব্রিজের ওপর থেকে দেখা
খসে পরা নক্ষত্রের মতো অস্তিত্বের দিব্য ভাষ্য হয়ে ?

যে দিন চোখের নীচে খুন হলো নদী,আজও মনে পড়ে
আর্তনাদের জড়াজড়ি করা তমার আর্তিএ
শূন্যতাকে আঁকড়ে ছিল পিঙ্গল আঁধার ভয়ংকর করে।

সমস্ত বিদায় বুঝি প্রশ্ন রেখে যায়ঃ তা হলে কোথায় আমি?
চতুর্মাত্রিক বিশ্বের দেসকাল দাপিয়ে বেড়ায় সিংহ বহ্নিমান
সসীমের নিস্ফল অসীমে
সমস্ত “কেন”-র বুঝি উত্তর মেলে না।

শুধু দেখে যাও শক্তিময় আকাশ ধরে আছে নক্ষত্রের প্রদীপ্ত ভাঁড়ার
দ্যাখো ওই দীর্ঘ বৃক্ষ শূন্যতায় সমুজ্জল আনন্দ এখন
আদিম হাওয়ার নাচে প্রেমিকের কামণায় লুদ্বক নক্ষত্র
সে যে ফোটণ ঝর্ণা আলোর-তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে রামধনু হয়।

এই ভেবে বৈশ্বিক মুচ্ছর্না ? বুকের কোমল দ্বীপ ? নির্জন গোলাপ ?
প্রেমিকা আমার, জাহরনে তুমি প্রেম হয়ে গেল ।

রাম বসু
রাম বসু (জন্ম: ১৯২৫) আধুনিক বাঙালী কবি, বহুকাল মার্কসবাদী চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মর্মান্তিক বছরের পর লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ তোমাকে (১৯৫০) কবিতা-প্রেমী সমাজে সাড়া জাগায় । এই গ্রন্থের শীর্ষ কবিতা তোমাকে, পরান মাঝি হাঁক দিয়েছে ইত্যাদি কবিতা আজও গভীর জনপ্রিয়তার দাবী রাখে। প্রগতিবাদী কবিতার জন্য বিখ্যাত হলেও, প্রেমের কবিতা-তেও তিনি সিদ্ধহস্ত, এবং নাটক-সুলভ সংলাপের প্রয়োগ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।