কবিতা

পরিচয়

এতো যে ভাঙন, ধ্বংস, রক্ত –
মনে আমার বয়স হয় না।
এতো যে হাওয়ায় ওড়ায় স্মৃতি
এতো যে যে নদী ভঙছে দুকূল
মনে আমার বয়স হয় না।
ব্ইারে এবং বুকের মধ্যে
ডহয়ার ভেতর – হিয়ার মধ্যে
হারানো এক হল্দে পাখি উড়ছে বসছে
দুলছে, যেন শৈশবে সেই দোলনাখেলা –
হায়রে , আমার বয়স হয় না !
বন্ধুরা সব বিত্তে বাড়ে, চিত্তে বাড়ে
বাড়ে শনৈঃ গৃহস্থলি,
আমার তবু বয়স হয় না, বুদ্ধি হয় না।
একটি নতুন ভাষার খোঁজে
একটি ভালবাসার খোঁজে
যায় কেটে দিন …..
নখে এবং দাঁতে সবাই শান্ দিয়ে নেয়,
আমি আমার নিরীহ নখ ছাঁটছি কেবল
সবুজ মাজন কিনছি আমার দাঁতের জন্যে।
হায়রে , আমার বয়স হয় না, সংসারী মন পোক্ত হয় না –
অন্ধকারেও শরীর ঢেকে সাবধানে সব হাঁটছে যখন
আমি তখন ভেতর-বাহির খোলা রেখেছি,
আলোর সামনে খুলে রেখেছি।
আজো আমার বোধ হলো না।
ভেতরে নীল ক্রোধ হলো না
পরান-গলা রোধ হলো না –
পাথর এবং পাখির মাঝের ফারাক বুঝতে সময় লাগে,
বৃক্ষ এবং লতার মানে আজো আমি সবুজ বুঝি।

রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ
রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (জন্ম: ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, মৃত্যু: ১৯৯১ সালের ২১ জুন) একজন প্রয়াত বাংলাদেশী কবি ও গীতিকার যিনি " প্রতিবাদী রোমান্টিক" হিসাবে খ্যাত। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি তাদের অন্যতম। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম "যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট", "বাতাসে লাশের গন্ধ"। । এই কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে "রুদ্র স্মৃতি সংসদ"। জন্ম ও শিক্ষাজীবন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম তাঁর পিতার কর্মস্থল বরিশাল জেলায়। তাঁর মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। ঢাকা ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এস এস সি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এইচ এস সি পাস করেন। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বি এ এবং ১৯৮৩ সালে এম এ ডিগ্রি লাভ। কর্মজীবন তিনি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা। জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের পরের সবকটি সরকারবিরোধী ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তাঁর কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল উচ্চকিত। কবিকন্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি কবিতাকে শ্রোতৃপ্রিয় করে তোলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম।তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন ১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। ১৯৯১ সালের ২১ জুন রুদ্র ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।