আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।
আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুকঃ
আমার জল লাগবে কিনা, আমার নুন লাগবে কিনা,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরোও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কিনা।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভেতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুকঃ “তোমার চোখ এতো লাল কেন?”
Related Articles
ময়ূর-আনন্দে মাতো
বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে— নিরন্তর ঝ’রে যাও অঝোর ধারায়; করুণায় আর্দ্র হয়ে মানবমণ্ডলে মিশে যেতে বাঞ্ছা হলে পূত ধারাজলে সিক্ত হতে হয়—হও অবিচল-মনে; (দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে জানি নাগরিক জন!) তোমার জল্লাদ-মন দ্রবীভূত হবে— করুণায় হবে সিক্ত নবধারাজলে! আর্দ্র হবে পোড়োজমি বর্ষণে-বর্ষণে, খরার প্রকোপ আছে ভূ-বাঙ্গালা জুড়ে— উর্বরতা নিঃশেষিত জরায়ু-প্রান্তরে। চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত খরা, শুধু খরা! বর্ষায় […]
চিরদিনের
এখানে বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁয়ে এসে থেমে গেছে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা, সবুজ মাঠেরা পথ দেয় পায়ে পায়ে পথ নেই, তবু এখানে যে পথ হাঁটা। জোড়া দীঘি, তার পাড়েতে তালের সারি দূরে বাঁশঝাড়ে আত্মদানের সাড়া, পচা জল আর মশায় অহংকারী নীরব এখানে অমর কিষাণপাড়া। এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে, গোয়ালে […]
আনন্দেরই সাগর থেকে
আনন্দেরই সাগর থেকে এসেছে আজ বান। দাঁড় ধরে আজ বোস্ রে সবাই, টান রে সবাই টান্। বোঝা যত বোঝাই করি করব রে পার দুখের তরী, ঢেউয়ের ‘পরে ধরব পাড়ি যায় যদি যাক প্রাণ । আনন্দেরই সাগর থেকে এসেছে আজ বান। কে ডাকে রে পিছন হতে, কে করে রে মানা, ভয়ের কথা কে বলে আজ– ভয় […]

