তোমাকে ডাকতে ডাকতে আমি মৌন পাহাড়, ডাকতে
ডাকতে উত্তাল সমুদ্র,
আমি তোমাকে ডাকতে ডাকতে মাতাল মৌমাছি,
ডাকতে ডাকতে নিস্তব্ধ আকাশ;
কোটি কোটি বছর আমি তোমাকে এভাবে ডাকছি
নদী শুকিয়ে গেলো, নগর ঘুমিয়ে পড়লো
পৃথিবীতে নেমে এলো শত শত শীতকাল,
আমি তোমাকে ডাকতে ডাকতে অস্থির জলপ্রপাতের
মতো গড়িয়ে পড়লাম।
এই জীবনে আর কতো ডাকা যায়, কতো হাহাকার
করা যায়?
আমি ডাকতে ডাকতে ভাঙাগলা নিঃসঙ্গ কোকিল,
ডাকতে ডাকতে বিষণ্ন হেমন্ত,
এবার শব্দ নয়, নিঃশব্দ বাঁশির মতো ডাকি।
মহাদেব সাহা
(জন্ম: ৫ আগস্ট ১৯৪৪) বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালের একজন অন্যতম প্রধান কবি।১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট পাবনা জেলার ধানঘড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বগদাধর সাহা এবং মাতা বিরাজমোহিনী।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯৩ টি।
কাব্যগ্রন্থ
এই গৃহ এই সন্ন্যাস (১৯৭২),
মানব এসেছি কাছে,
চাই বিষ অমরতা,
কী সুন্দর অন্ধ,
তোমার পায়ের শব্দ,
তবু স্বপ্ন দেখি,
সোনালী ডানার মেঘ,
পৃথিবী তোমাকে আমি ভালোবাসি,
কে পেয়েছে সব সুখ, সবটুকু মধু,,
শুকনো পাতার স্বপ্নগাঁথা,
দুঃসময়ের সঙ্গে হেঁটে যাই,
দুঃখ কোন শেষ কথা নয়,
ভালোবাসা কেন এতো আলো অন্ধকারময়,
লাজুক লিরিক-২,
দূর বংশীধ্বনি,
অর্ধেক ডুবেছি প্রেমে - অর্ধেক আধারে,
কালো মেঘের ওপারে পূর্ণিমা,
সন্ধ্যার লিরিক ও অন্যান্য,
মহাদেব সাহার রাজনৈতিক কবিতা (কাব্য-সংকলন),
মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা (কাব্য-সংকলন),
মহাদেব সাহার কাব্যসমগ্র (কাব্য-সংকলন) - ১ম খণ্ড, ২য় খন্ড, ৩য় খন্ড, ৪র্থ খন্ড,
মহাদেব সাহার শ্রেষ্ঠ কবিতা (কাব্য-সংকলন),
প্রেম ও ভালবাসার কবিতা (কাব্য-সংকলন),
নির্বাচিত ১০০ কবিতা (কাব্য-সংকলন),
নির্বাচিত একশ (কাব্য-সংকলন),
প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা(কাব্য-সংকলন),
প্রবন্ধ
আনন্দের মৃত্যু নেই
মহাদেব সাহার কলাম
কবিতার দেশ ও অন্যান্য ভাবনা
মহাদেব সাহার নির্বাচিত কলাম
শিশুসাহিত্য
টাপুর টুপুর মেঘের দুপুর
ছবি আঁকা পাখির পাখা
আকাশে ওড়া মাটির ঘোড়া
সরষে ফুলের নদী
আকাশে সোনার থালা
মহাদেব সাহার কিশোর কবিতা
পুরস্কার ও সম্মাননা
---------------------------------
মহাদেব সাহা তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি ১৯৮৩ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মননার মধ্যে ১৯৯৫ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বগুড়া লেখকচক্র পুরস্কার, ২০০২ সালে খালেদদাদ চৌধূরী স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার অন্যতম।
Related Articles
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রদ্ধাস্পদেষু
আকাশ বাতাস যারযে পার হবে কান্তার সে তো আমার মধ্যে আমার কাঁধের উপরথাকুক তোমার ভারআমি হাঁটতে থাকি বকুল ঝরে ঝরুকআমি হাঁটতে থাকি
আজি এ বসন্তে
বানর ছিলাম। সর্ব গাছে গাছে লম্ফে চড়িতাম কী অবলীলায় বসন্তে বসন্তকালে কত স্নেহভরে ভাই পুষ্প ‘পরে বুলাইতাম ল্যাজ স্বীয় ল্যাজখানি! তবু কী নিমিত্ত ধোঁকা দিল হে আমারে ভগবান উলটো বুঝলি রাম! তোমার সেবক আমি, দেখি বাপা একবার তোর মুখখানি। তুলারাম, খেলারাম, আজি এ বসন্তে আমি গেলাম গেলাম কিন্তু কাঁহা যাব ভাই? কাজে গেলে ডর লাগে, […]
ঘরোয়া রাজনীতি
২১. ঘরোয়া রাজনীতি ব্যর্থ হয়ে থাকে যদি প্রণয়ের এতো আয়োজন, আগামী মিছিলে এসো স্লোগানে স্লোগানে হবে কথোপকথন। আকালের এই কালে সাধ হলে পথে ভালোবেসো, ধ্রুপদী পিপাসা নিয়ে আসো যদি লাল শাড়িটা তোমার পড়ে এসো। ১৬.২.৮৪

