কবিতা

গরীবের সৌন্দর্য

গরিবেরা সাধারণত সুন্দর হয় না। গরিবদের কথা মনে হ’লে সৌন্দর্যের কথা মনে পড়ে না কখনো। গরিবদের ঘরবাড়ি খুবই নোংরা, অনেকের আবার ঘরবাড়িই নেই। গরিবদের কাপড়চোপড় খুবই নোংরা, অনেকের আবার কাপড়চোপড়ই নেই। গরিবেরা যখন হাঁটে তখন তাদের খুব কিম্ভুত দেখায়। যখন গরিবেরা মাটি কাটে ইট ভাঙে খড় ঘাঁটে গাড়ি ঠেলে পিচ ঢালে তখন তাদের সারা দেহে […]

কবিতা

প্রার্থনালয় -কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু

ছেলেবেলায় আমি যেখানে খেলতাম তিরিশ বছর পর গিয়ে দেখি সেখানে একটি মসজিদ উঠেছে। আমি জানতে চাই ছেলেরা এখন খেলে কোথায়? তারা বলে ছেলেরা এখন খেলে না, মসজিদে পাঁচবেলা নামাজ পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বুড়িগঙ্গার ধারে বেড়াতে গিয়ে যেখানে একঘন্টা পরস্পরের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে ছিলাম আমি আর মরিয়ম, গিয়ে দেখি সৌদি সাহায্যে সেখানে একটা লাল ইটের […]

কবিতা

শ্লোগান

ফিরছে সবাই, ধারাজলে সুখী খড়কুটো, ফিরছে সবাই। তৃপ্ত উজ্জ্বল মুখ, সিল্কের নরম ঢেউ, মসৃণ বিহ্বল চুল ঠেকিয়ে প্রফুল্ল মেঘে, বেহালার সুর ঢেলে ধাতুতে কংক্রিটে ব্যর্থতার স্পর্শহীন বিশাল ব্যাপক জনমণ্ডলি ফিরে যাচ্ছে ঘরে। পতাকাখচিত সুখ দোলে চারপাশে, বাতাসে ঝলকে ওঠে সেতারের সোনা তান। যা কিছু চেয়েছে তারা: ঘুম, কুসুম, দু-চোখে নদীর রেখা, উজ্জ্বল ধানের গুচ্ছ, ওষ্ঠে […]

কবিতা

জ্যোৎস্নার অত্যাচার

জ্যোৎস্না আমাকে ঠেলে ফেলে দিলো ফুটপাথে ল্যাম্পপোস্টে সবগুলো গাছের চূড়ায় এই রাতে। আমি জামা খুলে ঘুমাতে যাবার আগে জানালায় অনভ্যাসে দাঁড়িয়েছিলাম আর অমনি জ্যোৎস্না ধাক্কা দিলো এ কী অধঃপতন আমার! ড্রেন ডাস্টবিন একেকটি পদ্মের মতোন ফুটে আছে জ্যোৎস্নায় সাইরেন সানইয়ের সুর আমাকে বাজিয়ে চলে অন্ধ এক শিল্পীর আঙুল আমার সমস্ত পাপ এই রাতে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র […]

কবিতা

যাতায়াত

কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো। কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না রাত কাটে তো ভোর দেখি না কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না কেউ জানেনা। নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতটা পথ একলা এলাম পেছন থেকে কেউ বলেনি করুণ পথিক দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও, কেউ বলেনি ভাল […]

কবিতা

সেই মাধবীর কণ্ঠস্বর

‘প্রিয়তম পাতাগুলি ঝরে যাবে, মনেও রাখবে না….. আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম –কেন আমি সংসারী না হয়ে খুব রাগ করে হয়েছি সন্ন্যাসী হয়েছি হিরণ দাহ, হয়েছি বিজন ব্যথা, হয়েছি আগুন ! আমি এ আঁধার স্পর্শ করে কেন তাকে বলেছি হৃদয়, তৃষ্ণায় তাড়িত তবু কেন তাকে বলেছি ভিক্ষুক আমি এ জলের পাত্রে জল চাই না, বিষ […]

কবিতা

সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে

সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র, মায়াবী করুণ এটা সেই পাথরের নাম নাকি ? এটা তাই ? এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী ? উপগ্রহ ? কোনো রাজা ? পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ ? মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা ? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর কী অর্থ বহন করে এই […]

কবিতা

পতিতা

আগার তাহার বিভীষিকাভরা, জীবন মরণময়! সমাজের বুকে অভিশাপ সে যে – সে যে ব্যাধি, সে যে ক্ষয়; … প্রেমের পসরা ভেঙে ফেলে দিয়ে ছলনার কারাগারে রচিয়াছে সে যে, দিনের আলোয় রুদ্ধ ক’রেছে দ্বার! সূর্যকিরণ চকিতে নিভায়ে সাজিয়াছে নিশাচর, কালনাগিনীর ফনার মতন নাচে সে বুকের পর! চক্ষে তাহার কালকুট ঝরে, বিষপঙ্কিল শ্বাস, সারাটি জীবন মরীচিকা তার […]

কবিতা

ঘুমোবার আগে

‘আমার কাছে আগুন ছিলো না আমি চাঁদের আগুনে শাদা সিগ্রেট জ্বালিয়ে বসেছিলাম কুয়াশায়! -কে ওখানে? শীতরাতে পৌষ-পাখির গলা শোনা গেলো জ্যোত্‍স্নায়, -কে ওখানে? পাখির কন্ঠের গানে কুয়াশায় আমি কালো জ্যোত্‍স্না ঘুরে হঠাত্‍ তখন চাঁদের আগুনে পুড়ে ছুঁয়ে দিতে উদ্যত হলাম! অপসৃয়মাণ তুমি? তোমাকে না ছুঁতে পেরে আমি নিজ নিয়তির অন্তর্গত রোদনকে বললাম, দেখো আমি আর […]

কবিতা

ছেলেটা

ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে মানুষ ছিলো নরম, কেটে, ছড়িয়ে দিলে পারতো ! অন্ধ ছেলে, বন্ধ ছেলে, জীবন আছে জানলায় ! পাথর কেটে পথথ বানানো, তাই হয়েছে ব্যর্থ । মাথায় ক্যারা, ওদের ফেরা… যতোই থাক রপ্ত নিজের গলা দুহাতে টিপে বরণ করা মৃত্যু…. ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে মানুষ ছিলো নরম, […]