মুখোশ

কান্নাকে শরীরে নিয়ে যারা রাত জাগে,
রাত্রির লেপের নিচে কান্নার শরীর নিয়ে করে যারা খেলা
পৃথিবীর সেই সব যুবক যুবতী
রোজ ভোর বেলা
ঘরে কিংবা রেস্তোরাঁয় চা দিয়ে বিস্কুট খেতে-খেতে
হঠাত্ আকাশে ছোঁড়ে দু-চারটি কল্পনার ঢেলা
এবং হাজারে কয় রান ক’রে আউট হ’য়ে গেছে
ভুলে গিয়ে তারা হয় হঠাত্ অদ্ভুত |
যুবতীকে মনে হয়, কোনো-এক রহস্যের দূত
কার যেন স্মৃতিমুখ পাঠায়েছে আমাদের মতো কোনো প্রণয়ীর কাছে ;
সুন্দর কি কুত্সিত জানি না, তবু জানি মার্চেন্টের মারে নেই এই সব খুত |

কান্নাকে সরিয়ে রেখে দৈনিক কাগজ খুঁজি তাই,
যুবককে ভুলে যাই, যুবতীকে দূরে-দূরে রাখি ;
তারপর কোনো দিন যদি মনে হয়
দিনগুলি বাসি বড়ো, বিবর্ণ, একাকী,
প্রেমিক কি উদ্বাস্তুর মতো এক সমস্যার নিতান্তই মূর্খ হ’য়ে গেছে
আমার কী আসে যায়, তুড়ি মেরে এগজামিনে দিয়ে যাবো ফাঁকি !

অথবা কবিতা দিয়ে সমর্থন জানাবো তোমাকে,
হে প্রেমিক, হে উদ্বাস্তু, তোমাদের দুঃখে আমি গলে হব নদী !

হে দিন, হে কালরাত্রি,
না হয় আগলাবো আমি তোমাদের দুর্দিনের গলি |
তোমরা নির্বোধ হাতে স্মৃতিমুখ খুঁজে-খুঁজে প’ড়ে যাবে যখন অসুখে,
তোমাদের দুঃখে আমি ম’রে যেতে রাজি আছি—কারো দুঃখে মরা যায় যদি |
কী আশ্চর্য ! সেই ছেলে আমার দর্শন শুনে তবু
অর্ধেক বিস্কুট ফেলে রেস্টোরেন্ট থেকে
চ’লে গেলো | সেই মেয়ে সিনেমার বিজ্ঞপনে ভিড়ে
ডুবে গেলো, তারপর কী যেন বললো সঙ্গিনীকে |
মনে হ’লো হেমিংওয়ে মম্ নিয়ে ওদের বিবাদ
আজন্ম চলছে যেন, বন্ধুত্বটা কোনোমতে আছে তবু টিকে !
হঠাত্ পড়লো চোখে কাগজের এডিটোরিয়াল,
আমেরিকা ভালো, চীন ভালো…
ষ্ট্রম্যান পাঠাবে অন্ন আমাদের কাল
হৃদয় জুড়ালো |

হে যুবক, হে যুবতী, পৃথিবাতে তোমাদের কতটুকু দাম ?
কান্নাকে শরীরে নিয়ে কার ঘরে কয় ফোঁটা দিয়ে গেলে আলো ?

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  চৈত্রে শ্রাবণ
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...