ক্ষমতাসীনদের জন্য অবাধ চুরি-দুর্নীতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘জীবিত ও মৃত’ নামক ছোটগল্পের শেষে লিখেছিলেন, ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।’ আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তাদের সম্পত্তির হিসাব তার কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করলেন যে, তার দল আওয়ামী লীগ হলো চোর-দুর্নীতিবাজদের একটি বড় আখড়া। চোর-দুর্নীতিবাজদের অন্য বড় আখড়া যে দেশে নেই, এমন নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগও সে রকম একটি আখড়া!

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের চুরি-দুর্নীতিকে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অবলম্বন করে আওয়ামী লীগ জোর প্রচার কাজ চালিয়েছিল। তারা নিজেরা যে ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতি থেকে অনেক দূরে ছিল, এ কথা বার বার বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও তাদের এই ‘সততা’ বজায় রাখার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় গেলে নিজেদের লোকদের, বিশেষত: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি ইত্যাদির সম্পত্তির বাত্সরিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করবে এমন ঘোষণা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে দিয়েছিল। নির্বাচনী উত্তেজনার মুহূর্তে যেমন হয়ে থাকে, আওয়ামী লীগ আগে কী করেছে তার হিসাবের মধ্যে না গিয়ে ভবিষ্যতে যে তারা সততা বজায় রাখবে এবং সেটা নিশ্চিত করার জন্য তাদের সম্পত্তির বাত্সরিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, এই কথা ভেবে জনগণের অনেকে খুশি ও নিশ্চিন্ত হয়েছিল। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির ফোয়ারায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-নেত্রীদের যে চেহারা দেখা যায়, নির্বাচনের পর জয়যুক্ত হয়ে ক্ষমতাসীন হলে তাদের সে চেহারা যে আর থাকে না, এটা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ব্যাপার।

আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয় ও ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও এটাই দেখা গেল। ক্ষমতার গদিতে বসার আড়াই বছর পরও আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপিদের ধনসম্পত্তির কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত জনগণের জানা নেই। তাদের জানানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অনেক দৃষ্টান্তের সঙ্গে এক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টিও এখন এক সাধারণ আলোচনার ব্যাপার। এটা লক্ষ্য করেই এখন জনগণকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে মন্ত্রীম নিজের ধনসম্পত্তির হিসাব কি নিজের কাছেই দেবেন? অথবা তিনি নিজের ধনসম্পত্তির হিসাব কোথাও দেবেন না? এ নিয়ে চিন্তা স্বাভাবিক, কারণ তার হিসাবের কী হবে তার কোনো কথা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের মধ্যে নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে নিজে স্বতঃসিদ্ধভাবে চুরি-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে—এটা কীভাবে ধরে নেয়া যেতে পারে? কোনো প্রধানমন্ত্রীকে কি এভাবে আলাদাভাবে বিচার করে, তাকে কি হিসাবের, বিচারের এবং আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যায়? যদি সেটা না যায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সম্পদের হিসাব কোথায় দাখিল করা হবে, এ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীর নিজের পক্ষ থেকে দেয়া দরকার জনগণের অবগতির জন্য।

ক্ষমতাসীন লোকরা যখন চুরি, ঘুষখোরী, দুর্নীতি করে সেটা জনগণের পকেট মেরেই তারা করে। এজন্যই তাদের সম্পত্তির হিসাব জনগণের জানা দরকার। আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার লোকদের ধনসম্পত্তির হিসাব তার কাছে দাখিল করতে বলেছেন, কিন্তু সে হিসাব জনগণের সামনে অথবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে হাজির করার কথা এর মধ্যে নেই!! যে কোনো রাজনৈতিক দল তার নিজেদের লোকদের সম্পত্তির হিসাব অবশ্যই চাইতে পারে। তার রেকর্ড তারা নিজেদের অফিসে রাখতে পারে নিজেদের দলের লোকদের ওপর নজর রাখার উদ্দেশ্যে। এর বিরুদ্ধে বলার কিছু নেই। কিন্তু নিজের দলের লোকদের ধন-সম্পত্তির হিসাব নিজেদের দলের ভেতরে রাখা এবং সেটা জনগণের সামনে হাজির করা এক কথা নয়। কোনো দলের ক্ষমতাসীন লোকরা যখন চুরি-দুর্নীতি লুটপাট করে তখন তো তারা নিজেদের দলের বা দলীয় কোনো লোকজনের সম্পত্তি চুরি-লুটপাট করে না। কাজেই দলের কাছে হিসাব দাখিল আর জনগণের কাছে হিসাব দাখিলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর ধারায় আছে যে, নিজেদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকেরই সমান অধিকার আছে। কিন্তু সংবিধানের ওই ধারার সম্পূর্ণ বরখেলাপ করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোনো মামলা করতে হলে তার জন্য সরকারের অনুমতি লাগবে! (কালের কণ্ঠ ১.৩.২০১১) এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এর দ্বারা যে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা তাদের সাধের সংবিধানকেই পদদলিত করে সাধারণ নাগরিকদের থেকে নিজেদের জন্য বিশেষ সুবিধা ব্যবস্থা করেছে এতে সন্দেহ নেই। এর দ্বারা যা হয়েছে তার অর্থ হলো চুরি, দুর্নীতিসহ কোনো অপরাধ সাধারণ নাগরিক করলে যেভাবে সাধারণভাবে আইন অনুযায়ী তার বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা হয়, সরকারি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত লোকদের ক্ষেত্রে সেটা হবে না! তারা এক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ভোগ করবে!! কিসের থেকে এই নিরাপত্তা? এই নিরাপত্তার অর্থ কি চুরি-দুর্নীতি করে নিজেদের লোকদের বিচার ও শাস্তির আওতার বাইরে থাকা? এটা কোন দেশি গণতন্ত্র? কোন দেশি মানবাধিকার? কোন দেশি সততা? লক্ষ্য করার বিষয় যে, জনপ্রতিনিধিরা চুরি-দুর্নীতি করলে তার জন্য সরকারি আমলাদের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এ কারণে জনপ্রতিনিধিদের জন্য চুরি-দুর্নীতির নিরাপত্তা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে!!

এখানে আর একটি বিষয়ও লক্ষ্য করার মতো। সাধারণভাবে এখানে ‘জনপ্রতিনিধিদের’ কথা বলা হয়েছে। এই জনপ্রতিনিধি ঠিক কারা ও কোন পর্যায়ের। এর দ্বারা কি শুধু জাতীয় সংসদ সদস্যদেরই বোঝানো হয়েছে, না সে সঙ্গে বোঝানো হয়েছে একেবারে নিচের দিকে ইউনিয়ন কাউন্সিল মেম্বার-চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেম্বার-চেয়ারম্যান ইত্যাদি অন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও? যদি নিচে থেকে উপর পর্যন্ত সব জনপ্রতিনিধি এর আওতায় আসে (যা না আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই), তাহলে তো দেশে আইনের শাসন বলে আর কিছুই থাকবে না। এর অর্থ দাঁড়াবে বাংলাদেশকে চোর-ডাকাতদের দ্বারা শাসিত একটি রাষ্ট্র এবং চোর-ডাকাতদের অভয়ারণ্য হিসেবেই দুনিয়ার সামনে পরিচিত করা। শুধু পরিচিত করাই নয়, প্রকৃতপক্ষে ঘোষণা করা।

সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে দুদকের যে আর কোনো ভূমিকা দুর্নীতি দমন ক্ষেত্রে থাকবে না, এটা স্পষ্ট হওয়ার কারণে দুদকের চেয়ারম্যান বলেছেন এর দ্বারা দুদকের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না, দুদক সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রিসভার অধীন অর্থাত্ পরাধীন হবে। এই সিদ্ধান্তের মর্মবস্তু সম্পর্কে শুধু এটা বললে কিছুই বোঝা যায় না। আসলে এর দ্বারা দুদককে যে পরাধীন করা হয়েছে, এমন নয়। এর দ্বারা কার্যত দুদককে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও প্রশ্ন আছে সরকারি অনুমতির ব্যাপারে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার জন্য কার থেকে অনুমতি নিতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর? প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে কার অনুমতি নিতে হবে, প্রেসিডেন্টের? সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে কার অনুমতি নিতে হবে? স্পিকারের? স্পিকারের জন্য কার অনুমতি নিতে হবে? ইউনিয়ন কাউন্সিল, পৌরসভা সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার জন্য কোন সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এসবের কোনো কথা মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে নেই। আসলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে সমগ্র প্রশাসনেই এমন এক নৈরাজ্য তৈরি হবে যা দেশকে পরিপূর্ণ অরাজকতা এবং জনগণকে চোর-ডাকাত, দুর্নীতিবাজদের জিম্মি করা হবে। নিজেদের দলের চোর-দুর্নীতিবাজদের চুরি-দুর্নীতি থেকে নিরাপত্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, দুনিয়ায় এর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। সাধারণ আইন তো দূরের কথা, নিজেদের সাংবিধানিক আইনকেও নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থে কত বেপরোয়াভাবে পদদলিত করা যায়, আওয়ামী লীগের এই নব বিধান হলো তারই এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
[সূত্রঃ আমার দেশ, ০৭/০৭/১১]

| মন্তব্য দিন
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে-বদরুদ্দীন উমর
Posted on জুলাই 6, 2011
১৯৭২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনী উপস্থিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করা, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই এ সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে! বাংলাদেশে বিচিত্র ঘটনাবলীর অভাব নেই। কাজেই দেখা গেল যে, এই ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থিত করলেও বেচারা আইনমন্ত্রী জনগণের কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি না হওয়ার কারণে ভোটদানের সময় তার মতোই আর দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করলেন!!! বিলটি উপস্থিত করতে গিয়ে গণতন্ত্র বিষয়ে অনেক লম্বা লম্বা কথা বলার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ার কারণে নিজের উত্থাপিত বিলের পক্ষে নিজেই ভোট দিতে অক্ষম হয়ে এভাবে জাতীয় সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে থাকা আইনমন্ত্রীর জন্য করুণ ব্যাপার হলেও এটা প্রকৃতপক্ষে ছিল বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের গণতন্ত্র প্রেমের এক ব্যঙ্গচিত্র!!

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  তারে কই বড় বাজিকর

পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে যেসব বিষয় ঢোকানো হয়েছে সেগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় Bull in a china shop এর কথা। চীনে মাটির জিনিসপত্রের দোকানে ঢুকে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ষাঁড় সব কিছু ভেঙেচুরে তছনছ করার মতো ব্যাপারই এক্ষেত্রে ঘটেছে। বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তার ঘোর বিরোধী। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর সংবিধান আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হওয়ার যে কথা তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে একমত হওয়ায় অসুবিধা নেই। আসলে সংবিধানে যেসব জিনিস ঢোকানো হয়েছে সেগুলো যে কোন সংবিধানে ঢোকানো যেতে পারে, এ চিন্তা অন্য কারও মাথায় কোনদিন এসেছে বলে মনে হয় না!! কারণ বিশ্বের কোন দেশের সংবিধানেই এরকম কোন জিনিসের অস্তিত্ব নেই।

এই সংশোধনী বিলের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রথমত, এই ধরনের কোন ঘোষণা ইতিহাসের পাতায় থাকতে পারে, যদি তা সত্য ও গ্রাহ্য হয়। কিন্তু কোন সংবিধানের শরীরে একে ঢোকানোর কারণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী ছাড়া এই ঘোষণার সত্যতা দেশের অন্য কেউ স্বীকার করেন বলে জানা নেই। এই অবস্থায় এ ধরনের একটি বিতর্কিত বিষয়কে সংবিধানের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া এক বিস্ময়কর ব্যাপার!

এর থেকেও বিস্ময়কর ব্যাপার এই, শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের ‘গুরুত্ব অনুধাবন’ করে সেটিকেও সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা অর্থাৎ শরীরে ঢোকানো হয়েছে!! এছাড়াও এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানে ঢোকানো হয়েছে মুজিবনগর সরকারের ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। অবস্থা দেখে মনে হয়, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযোজন করলে সেটা মানানসই হতো!! অতি ক্ষুদ্র দলীয় চিন্তা থেকে ও দলীয় স্বার্থে একটি দেশের সংবিধানকে এনে দাঁড় করালে শাসকশ্রেণীর ব্যাপক অংশের পক্ষেও একে আর পবিত্র মনে করার কোন কারণ থাকে না। এর প্রতি আনুগত্যের কোন ভিত্তি থাকে না।
এ প্রসঙ্গে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করা অবশ্যই দরকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এতই বড় গণতন্ত্রের পূজারী যে, তারা এই পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করার এবং শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা রেখেছেন।

অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল সামরিক বাহিনীর পক্ষেই সম্ভব এবং তারাই এটা করে থাকে। বাংলাদেশেও এটা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকবার ঘটেছে। এটা সর্বশেষ ঘটেছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। এভাবে সামরিক বাহিনী ফখরুদ্দীন আহমদকে শিখণ্ডী হিসেবে সামনে রেখে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আসার সময় বিজয় গর্বে উৎফুল্ল হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের বেনামি সামরিক শাসনকে স্বাগত এবং অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাদের নিজেদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে! আসলে সেটা ছিল নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার ব্যাপার!! কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই দেখা গেল, আওয়ামী লীগ নিজের নাক কেটে শুধু বিএনপিরই যাত্রা ভঙ্গ করেনি, যাত্রা ভঙ্গ হয়েছিল তাদের নিজেদেরও!! তাদের আন্দোলনের ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেনি। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দু’জনকেই ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন সরকার কয়েদ করে তাদের তথাকথিত মাইনাস টু লাইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে দুই দলের মধ্যেই ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছিল!!! শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে কত ‘বিজ্ঞ’ ও ‘দূরদর্শী’, এটা ঠিক তারই এক প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত!!

যা হোক, এ প্রশ্নে আসল কথায় ফিরে গিয়ে বলা দরকার যে, কোন দেশে সামরিক বাহিনী যখন ক্ষমতা দখল করে তখন তারা কোন সময়েই সেটা সাংবিধানিক পন্থায় করতে পারে না। দেখা যায়, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কোন দেশে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে তারা সংবিধানকে উচ্ছেদ করেই ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে একটি হল, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও তারা সংবিধান উচ্ছেদ না করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করে আইনের একটা কাঠামো ঠিক রেখেছে। খোন্দকার মোশতাকের বেনামি সামরিক সরকার, জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার, এরশাদের সামরিক সরকার এবং ফখরুদ্দীনের বেনামি সামরিক সরকারের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই এটা হয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় এলেও সংবিধানকে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রক্ষা করেই তারা ক্ষমতায় এসেছে। ইচ্ছা করলে এই সামরিক সরকারগুলোর যে কোনটিই বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ করতে পারত, যেভাবে পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটা হতে দেখা গেছে। কিন্তু সেই বড় ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে বাংলাদেশের সামরিক সরকারগুলো সংবিধান সংশোধন করেই কাজ চালিয়েছে। এর শিক্ষা তারা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই পেয়েছিল! ১৯৭৫ সালে তিনি চতুর্থ সংশোধনীর মতো গণতন্ত্র বিনাশকারী একটি সংশোধনী জাতীয় সংসদে কোন আলোচনা হতে না দিয়েই যেভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পাস করিয়েছিলেন, সেটাই বাংলাদেশে সামরিক শাসনের পথ দেখিয়েছিল। তার থেকেই সামরিক বাহিনীর লোকরা শিখেছিল কিভাবে সংবিধান সরাসরি উচ্ছেদ না করে তাকে ছুরি মেরে পঙ্গু করে রেখে কাজ চালাতে হয়। আসলে সামরিক বাহিনী যখনই স্বনামে বা বেনামে ক্ষমতায় আসে, তখন তারা সংবিধানের কোন পরোয়া করে না। কারণ কোন সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী তারা ক্ষমতায় আসে না এবং সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষার প্রয়োজনও তাদের হয় না। সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে যেভাবে সংবিধান রেখে ক্ষমতা পরিচালনা করে এসেছে, সেটা প্রকৃতপক্ষে ছিল একটা Legal courtesy বা আইনগত সৌজন্যের ব্যাপার।

এখন পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলে তার জন্য যেভাবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে যদি সামরিক বাহিনী সরাসরি অথবা বেনামে ক্ষমতা দখল করে তাহলে সংবিধানের প্রতি এই সৌজন্য তারা প্রদর্শন না করতেও পারে। অর্থাৎ এবার সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের পর বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ হওয়ার শর্তও সংবিধানের নিজের শরীরেই তৈরি হয়েছে!!!
এরপর আসা দরকার সংশোধনীটির অন্য কয়েকটি বিষয়ে। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল নিয়েই সব থেকে বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য শাসকশ্রেণীর নিজের বৃত্তের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে তার থেকেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও কতখানি অপরিহার্য। কোন একটি ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না, তাদের অধীনে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারে না, এই ধারণা রাজনৈতিক মহলে থাকার কারণেই ১৯৯১ সালের নির্বাচন সংবিধানের কোন সংশোধনী ছাড়াই পরিস্থিতির তাগিদে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ সালে সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় বিএনপি জোর করে নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচন বয়কট করে এবং তার ফলে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করে ১৯৯৬ সালেই আর একটি নির্বাচন করতে হয়। এ দিক দিয়ে আজও সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন যে হয়নি, এটা ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন দলের প্রবল বিরোধিতা থেকেই দেখা যাচ্ছে। এই বাস্তব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রহিত করেছে! এর ফলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সরকার যদি তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে নির্বাচনের সুযোগ পায়, তাহলে সেই নির্বাচন অবশ্যম্ভাবীরূপে বিএনপি এবং অন্য অনেক দলের দ্বারাই বয়কট হবে এবং ১৯৯৬ সালের মতো আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে নতুন একটি নির্বাচন করতে হবে!!

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  এ রকম ভাবেই, দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়

সংবিধানে জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহ সংযোজন করায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অনেক ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ কথা বলেছিল। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সত্ত্বেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘জনগণের সেন্টিমেন্টের’ কথা বলে এখন সেই বিসমিল্লাহ বহাল রাখা হয়েছে! এরশাদ অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার সময়েও আওয়ামী লীগ তার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু এখন সেই একই কারণে তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখেছে। অন্যদিকে তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুদ্ধার করে সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে চার মূলনীতির অন্যতম হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাও বহাল রেখেছে!! অন্য সব ধর্মের লোকদের ধর্মপালনের অধিকার তারা এই সঙ্গে রক্ষা করবে বলে তাদের এই উল্টো কাজ জায়েজ করার চেষ্টাও তারা করেছে!! প্রতারণার চেষ্টা ছাড়া এটা আর কী? কিন্তু এর দ্বারা কি কেউ প্রতারিত হবে? সোনার পাথর বাটিতে কি কেউ বিশ্বাস করে?

এ দিক দিয়ে বামপন্থীদের অবস্থা আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ! বেচারারা লোক দেখানোর জন্য সিপিবির নেতৃত্বে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম রাখার বিরোধিতার জন্য জোট বেঁধে মিটিং মিছিল করেছে। কিন্তু আবার হালুয়া-রুটি রক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে পঞ্চম সংশোধনীতে উভয়কেই বহাল রাখার জন্য ভোট দিয়েছে!!! তারা নাকি ভোট দেয়ার আগে এ বিষয়ে তাদের মতের পার্থক্য লিপিবদ্ধ করেছে!!!! এদের যে অংশ আওয়ামী লীগের জোটে আছে এবং যারা নেই তার মধ্যে পার্থক্য করতে যাওয়াও এক ভ্রান্ত ব্যাপার। এদেরও প্রতারণার চেষ্টা যে নিষ্ফল এতে আর সন্দেহ কী? জাতীয় সংসদে বামপন্থীরা পঞ্চদশ সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট দেয়ার পর অন্য বামপন্থীরা তাদের ধিক্কার দিয়ে যে কোন প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়নি, এর থেকেই প্রমাণ হয় যে তাদের মধ্যে এসব ব্যাপারে কার্যত কোন পার্থক্য নেই। তারা সবাই একই গর্তের শিয়াল!!

পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আলোচনার অনেক কিছুই আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের উগ্র জাতীয়তাবাদ কিভাবে নতুন করে সংবিধানের শরীরে ঢোকানো হয়েছে সেই কথা বলে এই আলোচনা এখানে শেষ করা হবে। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মানবেন্দ্র লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিদের বাঙালি হয়ে যাওয়ার হুকুম দিয়ে, তাদের জাতিসত্তাকে কোন ধরনের স্বীকৃতি না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশের সব জনগণকে আগের মতো একইভাবে বাঙালি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের কোন স্বীকৃতিও এর মধ্যে নেই। শুধু বলা হয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা হবে। অর্থাৎ তাদের নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী নাচ-গান করার অধিকার তাদের থাকবে!! ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকারের ধারে-কাছেও এই সংশোধনী নেই।

এ পর্যন্ত এসে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ নিজের দলীয় স্বার্থে সংবিধানকে যে জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে সংবিধানের অস্তিত্বও এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছে। বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য এ এক অশনি সংকেত।
[সূত্রঃ যুগান্তর, ০৩/০৭/১১]

| মন্তব্য দিন
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে-বদরুদ্দীন উমর
Posted on জুলাই 6, 2011
১৯৭২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনী উপস্থিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করা, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই এ সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে! বাংলাদেশে বিচিত্র ঘটনাবলীর অভাব নেই। কাজেই দেখা গেল যে, এই ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থিত করলেও বেচারা আইনমন্ত্রী জনগণের কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি না হওয়ার কারণে ভোটদানের সময় তার মতোই আর দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করলেন!!! বিলটি উপস্থিত করতে গিয়ে গণতন্ত্র বিষয়ে অনেক লম্বা লম্বা কথা বলার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ার কারণে নিজের উত্থাপিত বিলের পক্ষে নিজেই ভোট দিতে অক্ষম হয়ে এভাবে জাতীয় সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে থাকা আইনমন্ত্রীর জন্য করুণ ব্যাপার হলেও এটা প্রকৃতপক্ষে ছিল বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের গণতন্ত্র প্রেমের এক ব্যঙ্গচিত্র!!

পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে যেসব বিষয় ঢোকানো হয়েছে সেগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় Bull in a china shop এর কথা। চীনে মাটির জিনিসপত্রের দোকানে ঢুকে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ষাঁড় সব কিছু ভেঙেচুরে তছনছ করার মতো ব্যাপারই এক্ষেত্রে ঘটেছে। বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তার ঘোর বিরোধী। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর সংবিধান আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হওয়ার যে কথা তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে একমত হওয়ায় অসুবিধা নেই। আসলে সংবিধানে যেসব জিনিস ঢোকানো হয়েছে সেগুলো যে কোন সংবিধানে ঢোকানো যেতে পারে, এ চিন্তা অন্য কারও মাথায় কোনদিন এসেছে বলে মনে হয় না!! কারণ বিশ্বের কোন দেশের সংবিধানেই এরকম কোন জিনিসের অস্তিত্ব নেই।

এই সংশোধনী বিলের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রথমত, এই ধরনের কোন ঘোষণা ইতিহাসের পাতায় থাকতে পারে, যদি তা সত্য ও গ্রাহ্য হয়। কিন্তু কোন সংবিধানের শরীরে একে ঢোকানোর কারণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী ছাড়া এই ঘোষণার সত্যতা দেশের অন্য কেউ স্বীকার করেন বলে জানা নেই। এই অবস্থায় এ ধরনের একটি বিতর্কিত বিষয়কে সংবিধানের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া এক বিস্ময়কর ব্যাপার!

এর থেকেও বিস্ময়কর ব্যাপার এই, শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের ‘গুরুত্ব অনুধাবন’ করে সেটিকেও সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা অর্থাৎ শরীরে ঢোকানো হয়েছে!! এছাড়াও এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানে ঢোকানো হয়েছে মুজিবনগর সরকারের ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। অবস্থা দেখে মনে হয়, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযোজন করলে সেটা মানানসই হতো!! অতি ক্ষুদ্র দলীয় চিন্তা থেকে ও দলীয় স্বার্থে একটি দেশের সংবিধানকে এনে দাঁড় করালে শাসকশ্রেণীর ব্যাপক অংশের পক্ষেও একে আর পবিত্র মনে করার কোন কারণ থাকে না। এর প্রতি আনুগত্যের কোন ভিত্তি থাকে না।
এ প্রসঙ্গে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করা অবশ্যই দরকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এতই বড় গণতন্ত্রের পূজারী যে, তারা এই পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করার এবং শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা রেখেছেন।

অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল সামরিক বাহিনীর পক্ষেই সম্ভব এবং তারাই এটা করে থাকে। বাংলাদেশেও এটা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকবার ঘটেছে। এটা সর্বশেষ ঘটেছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। এভাবে সামরিক বাহিনী ফখরুদ্দীন আহমদকে শিখণ্ডী হিসেবে সামনে রেখে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আসার সময় বিজয় গর্বে উৎফুল্ল হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের বেনামি সামরিক শাসনকে স্বাগত এবং অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাদের নিজেদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে! আসলে সেটা ছিল নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার ব্যাপার!! কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই দেখা গেল, আওয়ামী লীগ নিজের নাক কেটে শুধু বিএনপিরই যাত্রা ভঙ্গ করেনি, যাত্রা ভঙ্গ হয়েছিল তাদের নিজেদেরও!! তাদের আন্দোলনের ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেনি। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দু’জনকেই ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন সরকার কয়েদ করে তাদের তথাকথিত মাইনাস টু লাইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে দুই দলের মধ্যেই ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছিল!!! শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে কত ‘বিজ্ঞ’ ও ‘দূরদর্শী’, এটা ঠিক তারই এক প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত!!

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা

যা হোক, এ প্রশ্নে আসল কথায় ফিরে গিয়ে বলা দরকার যে, কোন দেশে সামরিক বাহিনী যখন ক্ষমতা দখল করে তখন তারা কোন সময়েই সেটা সাংবিধানিক পন্থায় করতে পারে না। দেখা যায়, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কোন দেশে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে তারা সংবিধানকে উচ্ছেদ করেই ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে একটি হল, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও তারা সংবিধান উচ্ছেদ না করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করে আইনের একটা কাঠামো ঠিক রেখেছে। খোন্দকার মোশতাকের বেনামি সামরিক সরকার, জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার, এরশাদের সামরিক সরকার এবং ফখরুদ্দীনের বেনামি সামরিক সরকারের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই এটা হয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় এলেও সংবিধানকে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রক্ষা করেই তারা ক্ষমতায় এসেছে। ইচ্ছা করলে এই সামরিক সরকারগুলোর যে কোনটিই বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ করতে পারত, যেভাবে পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটা হতে দেখা গেছে। কিন্তু সেই বড় ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে বাংলাদেশের সামরিক সরকারগুলো সংবিধান সংশোধন করেই কাজ চালিয়েছে। এর শিক্ষা তারা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই পেয়েছিল! ১৯৭৫ সালে তিনি চতুর্থ সংশোধনীর মতো গণতন্ত্র বিনাশকারী একটি সংশোধনী জাতীয় সংসদে কোন আলোচনা হতে না দিয়েই যেভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পাস করিয়েছিলেন, সেটাই বাংলাদেশে সামরিক শাসনের পথ দেখিয়েছিল। তার থেকেই সামরিক বাহিনীর লোকরা শিখেছিল কিভাবে সংবিধান সরাসরি উচ্ছেদ না করে তাকে ছুরি মেরে পঙ্গু করে রেখে কাজ চালাতে হয়। আসলে সামরিক বাহিনী যখনই স্বনামে বা বেনামে ক্ষমতায় আসে, তখন তারা সংবিধানের কোন পরোয়া করে না। কারণ কোন সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী তারা ক্ষমতায় আসে না এবং সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষার প্রয়োজনও তাদের হয় না। সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে যেভাবে সংবিধান রেখে ক্ষমতা পরিচালনা করে এসেছে, সেটা প্রকৃতপক্ষে ছিল একটা Legal courtesy বা আইনগত সৌজন্যের ব্যাপার।

এখন পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলে তার জন্য যেভাবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে যদি সামরিক বাহিনী সরাসরি অথবা বেনামে ক্ষমতা দখল করে তাহলে সংবিধানের প্রতি এই সৌজন্য তারা প্রদর্শন না করতেও পারে। অর্থাৎ এবার সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের পর বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ হওয়ার শর্তও সংবিধানের নিজের শরীরেই তৈরি হয়েছে!!!
এরপর আসা দরকার সংশোধনীটির অন্য কয়েকটি বিষয়ে। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল নিয়েই সব থেকে বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য শাসকশ্রেণীর নিজের বৃত্তের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে তার থেকেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও কতখানি অপরিহার্য। কোন একটি ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না, তাদের অধীনে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারে না, এই ধারণা রাজনৈতিক মহলে থাকার কারণেই ১৯৯১ সালের নির্বাচন সংবিধানের কোন সংশোধনী ছাড়াই পরিস্থিতির তাগিদে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ সালে সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় বিএনপি জোর করে নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচন বয়কট করে এবং তার ফলে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করে ১৯৯৬ সালেই আর একটি নির্বাচন করতে হয়। এ দিক দিয়ে আজও সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন যে হয়নি, এটা ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন দলের প্রবল বিরোধিতা থেকেই দেখা যাচ্ছে। এই বাস্তব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রহিত করেছে! এর ফলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সরকার যদি তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে নির্বাচনের সুযোগ পায়, তাহলে সেই নির্বাচন অবশ্যম্ভাবীরূপে বিএনপি এবং অন্য অনেক দলের দ্বারাই বয়কট হবে এবং ১৯৯৬ সালের মতো আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে নতুন একটি নির্বাচন করতে হবে!!

সংবিধানে জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহ সংযোজন করায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অনেক ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ কথা বলেছিল। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সত্ত্বেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘জনগণের সেন্টিমেন্টের’ কথা বলে এখন সেই বিসমিল্লাহ বহাল রাখা হয়েছে! এরশাদ অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার সময়েও আওয়ামী লীগ তার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু এখন সেই একই কারণে তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখেছে। অন্যদিকে তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুদ্ধার করে সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে চার মূলনীতির অন্যতম হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাও বহাল রেখেছে!! অন্য সব ধর্মের লোকদের ধর্মপালনের অধিকার তারা এই সঙ্গে রক্ষা করবে বলে তাদের এই উল্টো কাজ জায়েজ করার চেষ্টাও তারা করেছে!! প্রতারণার চেষ্টা ছাড়া এটা আর কী? কিন্তু এর দ্বারা কি কেউ প্রতারিত হবে? সোনার পাথর বাটিতে কি কেউ বিশ্বাস করে?

এ দিক দিয়ে বামপন্থীদের অবস্থা আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ! বেচারারা লোক দেখানোর জন্য সিপিবির নেতৃত্বে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম রাখার বিরোধিতার জন্য জোট বেঁধে মিটিং মিছিল করেছে। কিন্তু আবার হালুয়া-রুটি রক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে পঞ্চম সংশোধনীতে উভয়কেই বহাল রাখার জন্য ভোট দিয়েছে!!! তারা নাকি ভোট দেয়ার আগে এ বিষয়ে তাদের মতের পার্থক্য লিপিবদ্ধ করেছে!!!! এদের যে অংশ আওয়ামী লীগের জোটে আছে এবং যারা নেই তার মধ্যে পার্থক্য করতে যাওয়াও এক ভ্রান্ত ব্যাপার। এদেরও প্রতারণার চেষ্টা যে নিষ্ফল এতে আর সন্দেহ কী? জাতীয় সংসদে বামপন্থীরা পঞ্চদশ সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট দেয়ার পর অন্য বামপন্থীরা তাদের ধিক্কার দিয়ে যে কোন প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়নি, এর থেকেই প্রমাণ হয় যে তাদের মধ্যে এসব ব্যাপারে কার্যত কোন পার্থক্য নেই। তারা সবাই একই গর্তের শিয়াল!!

পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আলোচনার অনেক কিছুই আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের উগ্র জাতীয়তাবাদ কিভাবে নতুন করে সংবিধানের শরীরে ঢোকানো হয়েছে সেই কথা বলে এই আলোচনা এখানে শেষ করা হবে। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মানবেন্দ্র লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিদের বাঙালি হয়ে যাওয়ার হুকুম দিয়ে, তাদের জাতিসত্তাকে কোন ধরনের স্বীকৃতি না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশের সব জনগণকে আগের মতো একইভাবে বাঙালি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের কোন স্বীকৃতিও এর মধ্যে নেই। শুধু বলা হয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা হবে। অর্থাৎ তাদের নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী নাচ-গান করার অধিকার তাদের থাকবে!! ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকারের ধারে-কাছেও এই সংশোধনী নেই।

এ পর্যন্ত এসে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ নিজের দলীয় স্বার্থে সংবিধানকে যে জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে সংবিধানের অস্তিত্বও এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছে। বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য এ এক অশনি সংকেত।
[সূত্রঃ যুগান্তর, ০৩/০৭/১১]

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

বদরুদ্দীন উমর- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...