অন্যান্য

মানুষের ভাষা ও কবির ভাষা

সাহিত্য মানুষের দেশ-কাল-সংস্কৃতি চেতনার সাক্ষ্য দেয়। বহমান কালের মধ্যে দেশের উথালপাথাল আন্দোলন এবং যা কিছু ঘটছে তারই লিপিবদ্ধ বিবরণ উত্থাপন করে। এমনিতে কবিদের সাক্ষ্যকে কেউ কেউ গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করলেও মাঝে মধ্যে বলে উঠতে হয়Ñ ‘এই কবি এই দেশ ও কালের বিবর্তন সম্বন্ধে এসব কথা বা পঙ্ক্তি রচনা করে গেছেন। এমনিতে কবিকে কেউ সত্যবাদী বলেন না। কিন্তু সত্যের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে গিয়ে যখন বাস্তব অবস্থার ঘূর্ণিপাকে পড়ে সত্যকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না তখন অকস্মাৎ কেউ না কেউ বলে ওঠেন, ওমুক সময়ে ওমুক ঘটনার ওপর ওমুক কবি এ দু’টি পঙ্ক্তি রচনা করেছেনÑ বলে কবির কবিতা থেকে একটি-দু’টি লাইন আবৃত্তি করতে হয়। এবং শ্রোতারা ভাবেন, আরে কী আশ্চর্য, কবি তো এ বিষয়ের ওপর চমৎকার দু’টি পঙ্ক্তি লিখে রেখে গেছেন! তখন মিথ্যাবাদী কবির সাক্ষ্য সত্যবাদীদের গ্রহণ করতে হয়। কিংবা বলা যায় গ্রহণ করতে তারা উৎসাহের সাথে রাজি হয়ে যান। এটা তখন আর বিতর্কের কোনো কারণ থাকে না। সবাই কবির সাক্ষ্যকে আগ্রহের সাথেই গ্রহণ করে কবিতার মর্যাদা রক্ষা করেন। এ জন্যই সম্ভবত প্রত্যেক জাতি তাদের কবিদের মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন।

বাস্তবতার নামে যেমন সবারই উৎসাহ থাকে তেমনি কল্পনার দরজাও কেউ বন্ধ করতে পারে না। সেই দরজা কবিরাই চিরকাল খোলা রেখেছেন। এই দরজার নাম হলো স্বপ্ন। এই দরজা খোলা না থাকলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ত। এ জন্যই প্রত্যেক জাতি একজন কবির আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো কবির ভাষা। আমরা বলি কাব্যভাষা। কাব্যভাষাটা ভালো করে বিচার করে দেখতে গেলে বেরিয়ে আসে ইতিহাসের বিলুপ্ত প্রায় নানা প্রসঙ্গের মধ্য থেকে একটি কণ্ঠস্বর বা কথামালার মৃদু শব্দ। কারা যেন ফিসফিস করে বলতে থাকে আমরা যে ভাষায় বলছি সেটা হলো মানব জাতির মাতৃভাষা। অর্থাৎ আমরা কবিতার ছন্দে গন্ধে মাত্রাজ্ঞানে অভিভূত হয়ে এক অতি ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। এ হলো মানুষেরই আদি কলরব। এই কলরবের মধ্যে সংগুপ্ত হয়ে আছে মানুষের ইতিহাসের সাথে তার মাতৃভাষা। কোনো সন্দেহ নেই এই ভাষায় প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল বিভেদ বা বিচ্ছেদের হাহাকার ধ্বনি। মানুষের গোত্র পরিচয় যখন আর এক থাকল না, কিংবা বলা যায় মানুষ যখন তার নিজের গোত্র ছাড়া অন্যের ভাষা বুঝতে আর সক্ষম হলো না; তখন তারা যে জায়গায় এই বিচ্ছেদটি সম্ভবপর হয়েছিল সেই স্থানের নাম রাখল বাবেল। বাবেল শব্দের অর্থ হলো বিচ্ছেদ। যখন মানুষের প্রয়াস স্রষ্টার সিংহাসনের কাছাকাছি এসে পৌঁছল, কিংবা বলা যায় মানুষের হাত যখন স্রষ্টার আরশের নিচে এসে পৌঁছে গেল; তখন আল্লাহ বললেন মানুষের প্রয়াস আকাশচুম্বী হয়েছে। এবং দেখো আমার আরশ স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখিয়েছে। এখন তাদের দমাতে হবে। প্রতিহত করতে হবে। তিনি ফেরেশতাদের বললেন মানুষের ভাষার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দাও। যেন এক গোত্র অন্য গোত্রের কথা বুঝতে না পারে।
মানুষের আদি ভাষায় এই বিভেদ সৃষ্টি করে দেয়া হলো। মানুষ সেই দিন থেকে এক গোত্র অন্য গোত্রের ভাষা বুঝতে আর সক্ষম হলো না। এভাবেই মানব জাতির মধ্যে, বিশেষ করে মানুষের ভাষার মধ্যে বিভেদ বা বিভাজন এসে গেল। এখন আর গোত্রে গোত্রে মানুষের ভাষার মধ্যে মিল থাকল না। অথচ ভাষা থাকল। ভাষা শুধু মানুষেরই আছে। আর কোনো প্রাণীর ভাষা নেই। তাদের আছে চিৎকার বা অন্যান্য শব্দ করে ওঠার দুর্বোধ্য প্রক্রিয়া মাত্র। চিৎকারকে ভাষা বলে না। ভাষা হলো সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক বিষয়। শুধু মানুষেরই অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য ভাষার একান্ত দরকার হয়। ভাষা কোনো চিৎকার নয়। ভাষা হলো বোধগম্য মানবিক শব্দরাজির সুশৃঙ্খল বিবরণ। মানুষের ভাষার একটা ইতিহাস আছে। এবং এর বেশ সুদূরপ্রসারী সুশৃঙ্খল বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
যুগে যুগে লেখক, কবি-সাহিত্যিকরা এই বিবরণে নিজের কথা বিবৃতি ভাষণ ইত্যাদি যোগ করে এর এক ধরনের প্রবহমানতা বহমান রেখেছেন। দেখা যায় যে, এই বিবরণে সময় দেশ ও কালের উত্থানপতনের বিপ্লবের ইতিহাস অজ্ঞাতেই লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। মানুষ হলো সব কীর্তির কারিগর। মানুষ শুধু কাব্য সৃষ্টিই করেনি, এই কাব্যের ব্যাখ্যা বিবরণ খুঁটিনাটি সব কিছুই সে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করতে চেয়েছে। বলা যায়, মানুষের দ্বারাই মানুষের নিজের ভাষার বিবরণ লিপিবদ্ধ হয়ে চলেছে।
মানুষ শুধু লেখক নয়, সে উদ্ভাবকও বটে। এ জন্যই কবিতার এত মূল্য। শুধু মানুষই কাব্য সৃষ্টি করতে পারে। মানুষই মানুষের জন্য স্বপ্ন রচনা করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ তার কাব্যের বিস্তারের জন্য নানাভাবে প্রকৃতিকে সাক্ষ্য মেনেছে। এবং দেখা যায় যে মানুষের কবি কালিদাস ‘মেঘদূত’ রচনা করে এক অসাধারণ কাব্যের বিস্তার ঘটানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করে যুগ যুগব্যাপী কবিপরম্পরায় বহমান রেখে গেছেন। কবিতার জন্য সব দরজাই উন্মুক্ত আছে।
কবিরা স্বপ্নে, বাস্তবতায় একই সাথে লুটোপুটি খেতে পারেন। কবিরা শুধু নিজের দেশের বিবরণই লিপিবদ্ধ করেন না, তার আশপাশের দেশগুলো সম্বন্ধেও কবির চেতনা এবং বিবেচনা পরিচ্ছন্ন অবস্থাতেই তার মনে বিরাজ করে। যখনই তিনি কিছু লিখতে যান তখন তার দেশের সীমানা প্রয়োজনবোধে তিনি তার জ্ঞানের সাহায্যে অতিক্রম করে একটি সুন্দর ও সর্বজনগ্রাহ্য বিবরণ তুলে ধরেন। দেখা যায়, কবি কালিদাস তার ‘মেঘদূত’ রচনার সময় মেঘ যেসব দেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ে চলেছেন। নর-নারী ছাড়াও সব প্রাণী ও প্রকৃতির বিবরণ তিনি একজন দ্রষ্টা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে চলেছেন।
কালিদাসের মেঘদূতে এমন কবিত্ব শক্তি ছাড়াও জ্ঞানের পরিচয় আছে, যাতে মনে হয় কবি যেন পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিতে সমগ্র পরিবেশটার ওপরই প্রভাব বিস্তার করে সচেতন মানুষ হিসেবে কাব্য রচনা করে যাচ্ছেন। তখন তার রচনা শুধু কাব্য নয়, নানা বিষয়ে তার জ্ঞানের পরিচয় ব্যক্ত হয়ে পড়েছে। কবিকে বহু বিষয়ে জানতে হয়। প্রকৃতপক্ষে কবি শব্দের অর্থ হলো কোবিদ। কোবিদের অর্থ বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলতে হয় তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। তার এই জ্ঞান সহজাত, স্বাভাবিক ও কৌতূহলোদ্দীপক। এ জন্য দেখা যায় কবির কেবল কাব্য নয়, গদ্য ভাষাতেও তার সচল ও স্বচ্ছ বিবরণ গ্রাহ্য হয়েছে। আমাদের যারা আছে, কবিরা যখন কবিতা ছাড়াও গদ্য রচনা করেছেন, সেটা একটা স্বতন্ত্র ধরনের গদ্য ভাষার উদ্ভাবনা ও ব্যঞ্জনায় তাৎপর্যপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে কবির গদ্য। আসলে কবিরাই প্রকৃত গদ্যের উদ্ভাবক বটে। কবিতা যেহেতু একটু স্বতন্ত্র ধরনের ভাষার অভিব্যক্তিতে পূর্ণ থাকে। থাকে ছন্দ, গন্ধ, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ। যে জন্য কবির রচনা মাত্রই তার একটি স্বাতন্ত্র্য স্বীকৃত হয়ে যায়। এমন কবি খুব কমই দেখা গেছে যিনি ভালো গদ্যও লেখেননি। আমাদের দেশে যারাই খ্যাতিমান কবি তারা প্রায় সবাই ভালো পরিচ্ছন্ন গদ্য রচনায়ও সক্ষম ছিলেন।
দৃষ্টান্ত হিসেবে কবি জসীম উদ্দীনের গদ্যের কথা উল্লেখ করা যায়। এমন সহজাত সুন্দর গদ্য তিনি রচনা করে গেছেন, যা একটা নতুন দৃষ্টান্তের মতো। গদ্য যেহেতু যুক্তিতর্ক ও বিষয়বস্তুতে আধুনিকতার পরিপোষক হয়, সে জন্য কবির গদ্য ভাষা সবারই পাঠ করার আগ্রহ থাকে। তা ছাড়া কাব্য সাধারণত যুক্তি মেনে চলে না। সে ছন্দে মিলে উপমায় ভরপুর থাকে। সে জন্য যুক্তির প্রয়োজন দরকার হয় না। কিন্তু গদ্যে এটা সম্ভবপর হয় না। গদ্য ভাষার নিয়মই হলো বক্তব্যে আবেগের চেয়ে যুক্তিনির্ভর গতিতে তাকে এগোতে হয়। তার বলার বিবরণে আপনা থেকেই সৃষ্টি হয় বাস্তবতার ওপর নির্ভরতা। সে চলতে চলতে বলে এবং বলতে বলতে চলে। সীমা অতিক্রম করে চলে যায়। এর মধ্যেই তাকে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসকে স্থান দিয়ে নিজের বক্তব্যকে বিস্তারিত বিবরণে পূর্ণ করে সজ্জিত করতে হয়। যেন একটি সাঁজোয়া বাহিনী ভাষার গতি লাভ করে এগিয়ে চলেছে।
আমাদের দেশে একই সাথে বেশ কয়েকজন বড় কবি কাব্যকেই আধুনিক ভাষা হিসেবে বর্ণনা করতে চেয়েছেন। অথচ কাব্যের চেয়ে গদ্যের যুক্তিপূর্ণ ভাষা অনেক বেগবান হওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু এ দেশে যেহেতু কয়েকজন বড় কবি কাব্যকেই আধুনিক সাহিত্য হিসেবে উচ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন, সে জন্য আধুনিকতার প্রশ্নে কাব্যই তাদের উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার কথা উঠলে অবশ্যই গদ্য ভাষাকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।

আল মাহমুদ
আল মাহমুদ
আল মাহমুদ বাংলা ভাষার প্রধানতম আধুনিক কবিদের একজন। ১৯৩০-এর কবিদের হাতে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতার ঊণ্মেষ, তার সাফল্যের ঝাণ্ডা আল মাহমুদ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অদ্যাবধি তুলনারহিত কৃতিত্বের সঙ্গে বহন ক'রে চলেছেন। রবীন্দ্র-বিরোধী তিরিশের কবিরা বাংলা কবিতার মাস্তুল পশ্চিমের দিকে ঘুরিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন;– আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতাকে বাংলার ঐতিহ্যে প্রোথিত করেছেন মৌলিক কাব্যভাষার সহযোগে– তাঁর সহযাত্রী শামসুর রাহমান, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের তুলনায় এইখানে তিনি ব্যতিক্রমী ও প্রাগ্রসর। নাগরিক চেতনায় আল মাহমুদ মাটিজ অনুভূতিতে গ্রামীণ শব্দপুঞ্জ, উপমা-উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্প সংশ্লেষ করে আধুনিক বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত রেখায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কথাসাহিত্যে তাঁর মৌলিক শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ অভ্যূদয়ের পর তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯০ দশক থেকে ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুবর্তী হয়ে তিনি সমালোচনার শিকার হয়েছেন। ==জন্ম== আল মাহমুদ([[১৯৩৬]]-)খ্রিস্টাব্দে [[ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা]]র মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। == প্রকাশিত গ্রন্থ == {{div col|3}} * লোক লোকান্তর ([[১৯৬৩]]) * কালের কলস (১৯৬৬) * সোনালী কাবিন ([[১৯৬৬]]) * মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ([[১৯৭৬]]) * আরব্য রজনীর রাজহাঁস * বখতিয়ারের ঘোড়া * Al Mahmud In English * দিনযাপন * দ্বিতীয় ভাংগন * একটি পাখি লেজ ঝোলা * আল মাহমুদরে গল্প * গল্পসমগ্র * প্রেমের গল্প * যেভাবে গড়ে উঠি * কিশোর সমগ্র * কবির আত্নবিশ্বাস * কবিতাসমগ্র * কবিতাসমগ্র-২ * পানকৌড়ির রক্ত * সৌরভের কাছে পরাজিত * গন্ধ বণিক * ময়ূরীর মুখ * না কোন শূণ্যতা মানি না * নদীর ভেতরের নদী * পাখির কাছে , ফুলের কাছে * প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা * প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা * প্রেমের কবিতা সমগ্র * উপমহাদেশ * বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ * উপন্যাস সমগ্র-১ * উপন্যাস সমগ্র-২ * উপন্যাস সমগ্র-৩ * ত্রিশেরা ==কর্মজীবন== সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি [[ঢাকা]] আসেন [[১৯৫৪]] সালে। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। [[১৯৫৫]] সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর([[১৯৬৩]]) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস([[১৯৬৬]]),সোনালি কাবিন([[১৯৬৬]]), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো([[১৯৬৯]]) কাব্যগ্রন্থ গুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। [[১৯৭১]] এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। [[১৯৭৫]] সালে তার প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। [[১৯৯৩]] সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকাত সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী [[আওয়ামী লীগ]] সরকারের সময় একবার জেল খাটেন । পরে তিনি শিল্পকলা একাডেমীতে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।