শিশুদের শেখানো

প্রায় বিশ বছর আগে শিশু একাডেমীর একটি পোষ্টার দেখে ছিলাম সেখানে শিশুদের সম্পর্কে অনেক কথা ছিল শিশু কোন পরিবেশে থাকলে কি ভাবে বড় হয় । অনেক গুলো কথার মধ্যে যে দুটি কথা এখনো মনে আছে তা হলো, অনুমোদনের মাঝে শিশু বড় হলে ভালবাসতে শিখে, সমালোচনার মাঝে শিশু বড় হলে ঘৃনা করতে শিখে ।শিশুদের মন হচ্ছে কাদা মাটির মত । কাদামাটিকে ইচ্ছা মত আকার দেওয়া যায়, কিন্তু ভুল আকার দেওয়া হলে তা সংশোধন করা খুবই কষ্টকর । শিশুদের কে শিক্ষা দেওয়ার বিভিন্ন পর্যায় এবং পদ্বতি আছে। কয়েক দিন আগে ফেস বুকে একজনের শেয়ার করা লিংকে একটি ভিডিও দেখে এই লেখার সুত্রপাত ।পরে খুজে পেলাম ভারতীয় এধরনের একটি ইংরেজী ভিডিওর অনুকরনে তৈরী লিঙ্ক দেখুন।ভিডিওটি দেখার পর সবাই তার পক্ষে মতামত দিয়েছিল একমাত্র আমিই তার সমালোচনা করেছিলাম ,আমার মন্তব্যের লন্ডন প্রবাসী আমাকে গালাগালি করে লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নাকি ক্লাশ ২/৩ থেকে স্কুলে sex সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।জবাবে আমি লিখেছিলাম sex শিক্ষা দেওয়া হয় না।যা সেখানো হয় তা হলো শারিরীক প্রবৃদ্বি । বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শরীরে কি কি পরিবর্তন দেখা দেয় তা শিখানো হয়।আমাদের দেশের শিক্ষা পদ্বতিতে এরকম শিক্ষা নেই বললেই চলে।এখন কথা হচ্ছে কেন ২/৩ ক্লাশে শিখানো হয় তার প্রধান কারণ হচ্ছে বয়স বাড়ার পর এসব বিষয় আলোচনা করা অনেক বিব্রতকর এবং এরি মধ্যে শিশুদের মধ্যে অনেক ভুল ধারনা জন্ম নিতে পারে।
মানুষ সামাজিক জীব।সমাজের অনেক মানুষের আদর ভালোবাসা, স্নেহ,মমতা নিয়ে বড় হয় বেচে থেকে আমাদের জীবনে অনাত্মীয় মানুষের কাছ থেকে অনেক উষ্ণতা নিয়ে আমরা দিনাতিপাত করি।আনন্দ বেদনায় শোকে দুখে আমরা অনেকের আগল খোলা ভালোবাসা পাই।জড়িয়ে ধরা,কোলাকোলি করার মধ্যে যৌনতা খুজতে যাওয়া বোকামীর লক্ষন।
একজন সচেতন বাবা উনার ৬ বছরের বাচ্চাদের কে child abuse সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছেন।শিশুদেরকে ধুমপানসহ অন্য নৈতিকতা শিখানো এবং child abuse শিখানো এক জিনিষ নয়।
এখন দেখা যাক একটি শিশু ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত মা বাবা এবং কিছু ঘনিষ্ট আত্নীয় স্বজন ছাড়া অন্যদের সাথে মেলা মেশা করার সুযোগ নেই বললেই চলে।তারপর সে স্কুলে যায় সেখানে সে সমবয়সীদের সাথে মিশে অনেক কিছু শিখে আর সেই শেখার আগে এই রকমের ভিডিও দেখার পর নিজের মনের মধ্যে একটা ধারনা তৈরী হয়।তখন খেলার চলে বাচ্চারা এক অন্যের সাথে কোলাকোলি করে,জ়ড়িয়ে ধরে,চিবুক টেনে দেয় আরো অনেক ভাবে খেলাতে মেতে থাকে এরকম ভিডিওর প্রভাবে সে সব কিছুতে যৌনতার ছাপ খুজে পাবে। আরো লক্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে ভিডিও প্রস্তুতকারী child abuse এ শারিরীক দিক গুলোই তুলে ধরেছেন।শিশুদের প্রতি অবহেলাও একধরনের abuse ।যতটুকু সম্ভব বাচ্চাদেরকে সময় দিন,তাদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনুন ।তারা যখন বাহিরে যায় তাদের কাছ থেকে শুনুন কি করেছে,কি শুনেছ্‌,কি দেখেছে।তারপর তার সমস্যা শুনে সিদ্বান্ত দেবেন।আপনার সিদ্বান্ত মেনে নেওয়া বা ভিন্ন মত পোষন করা দুটোই ভাল লক্ষন।শিশুকে বারবার পরিস্কার পরিচ্ছনতা ঈমানের অংগ বলার চেয়ে নিজের পাশে একটি ময়লাফেলার বক্স রাখুন, সেখানে আপনি ময়লা ফেলা শুরু করুন দেখবেন তারাও আপনাকে অনুকরন করছে।বাবা মাই হচ্ছে শিশুদের প্রথম আইডল।অনুকরন থেকেই সব কিছুর শুরু ,প্রথমে তারা বাবা মাকেই অনুকরন করে তারপর পারিপাশ্বিকতা থেকে শিখে,কোন কিছুই ছাপিয়ে দেবার চেষ্টা করবেন না।ভুলে যাবেন না আপনার বাচ্চা হলেও সে আরেকটি মানুষ।তার ইচ্ছা ,রুচি, পছন্দ ভালোলাগা আপনার সাথে মিলবে না।শিশুদেরকে স্বপ্ন দেখতে শেখান।নিজে যা হতে পারেননি বাচ্চাকে তা বানাতে চেষ্টা করবেন না।তাকে বেছে নিতে দিন তার স্বপ্ন,ভবিষৎ।মা বাবা হচ্ছেন পথ প্রদর্শক।জাপানী ভাষায় একটি কথা আছে সন্তানেরা বাবা মায়ের পিঠ দেখে বড় হয় এবং বড় হওয়ার পর সে বাবা মায়ের মত হতে চায় অথবা কোন মতেই এই রকম বাবা মা হতে চায় না সব কিছু নির্ভর করে বাবা মায়ের আদর,যত্ন,শিক্ষা,ভালোবাসার উপর। (একই ভিডিও প্রকাশকের আর একটি ভিডিও দেখেছিলাম ইউটিউবে পরে এক সময় তা নিয়ে লেখার ইচ্ছা রইল) ।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  তোমাকে নিয়ে

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

মিতা- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...