আমাকে বোলো না বন্ধু আর শুদ্ধ কবিতা লিখতে।
বয়ঃসন্ধি-সমাগতা খুঁতখুঁতে কোনো কুমারীর
ভয় ভাঙানো অথবা বদরাগী বিষণ্ন বৃদ্ধের
নিরামিষ রিরংসা মেটাতে আজ আর সাধ নেই।
সাধ নেই সময়ের ঘোলা জলে সাদা পাল তুলে
ভেসে যেতে সেই দেশে যে দেশকে রাঙাপুর বলে,
মড়ি ছেড়ে ওঠা কোনো শকুনের মতো পাখা মেলে
উড়ে যাব অলকায় দুপুরের কাঁচা সোনা রোদে,
কবিত্বের সেই বড়াই সাজে না আমার। ভালো তাই
লাগে না এখন আর মসৃণ শব্দের খেলা শুধু।
কথায় ভেজে না চিঁড়ে—ধনমান-প্রেম নয়, নয়,
চেয়েছি তো ডালভাত আর একটু আশ্রয়।
সোনায় বাঁকানো ঘাড় সোজা যদি না হয় হোক,
মই পড়ে পড়ে যার পাকা ধানে তার লাঙলে কাস্তেতে
ধার দিতে ক্ষয়ে যদি যায় যাক কলমের শাণ,
আমরা না হয় বাঁধি বাসা, আগামীরা গাবে গান।
Related Articles
সেই সবও তুমি
তোমাকেই দৃশ্য মনে হয়। তোমার ভিতরে সব দৃশ্য ঢুকে গেছে। কাচের আলমারি যেন, থাকে থাকে, পরতে পরতে শরতের, হেমন্তের, বসন্তের শাড়ি গয়না দুল, নদীর নবীন বাঁকা, বৃষ্টির নুপুর, জল, জলদ উদ্ভিদ। সাঁচীস্তুপে, কোনারকে যায় যারা, গিয়ে ফিরে আসে দুধ জ্বাল দিয়ে দিয়ে ক্ষীর করা স্বাদ জিভে নিয়ে তোমার ভিতরে সেই ভাস্কর্যেরও লাবণ্য রয়েছে। কোন্খানে আছে? […]
জলের গজল
আকার ইকার আমি ভুল করি শুধু ভুল করি যতবার ভুল করি ততবার সেই নাম ধরি। ধরতে ধরতে আমি ধরা পড়ি নিজের কাছেই, যতবার ধরা পড়ি ততবার সেই নাম ধরি। কি আছে অধরা বলো ধূলিহীন ধরার কুলায় যতই সধরা হই ততবার সেই নাম ধরি। বুকের গভীরে সুখ ধুকপুক শুধু জ্বলে যায় জ্বলে জ্বলে ছাই হয়ে ততবার […]
দ্বিতীয় আগমন
বড়ো থেকে বড়ো বৃত্তে পাক খেতে খেতে বাজ শুনতে পায় না বাজের প্রভুকে; সবকিছু ধ’সে পড়ে; কেন্দ্র ধ’রে রাখতে পারে না; নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্ব জুড়ে, ছাড়া পায় রক্তময়লা প্রবাহ, আর চারদিকে আপ্লাবিত হয় নিষ্পাপ উৎসব; শ্রেষ্ঠরা সমস্ত বিশ্বাসরিক্ত, যখন নষ্টরা পরিপূর্ণ সংরক্ত উৎসাহে। নিশ্চয়ই কোনো প্রত্যাদেশ এখন আসন্ন; নিশ্চয়ই দ্বিতীয় আগমন এখন আসন্ন; […]


