আমার চোয়ালে রক্ত হে অর্জুন আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম
আমি শিশু হত্যা থামাতে পারবো না, যুবতী হত্যাও নয়!
ভ্রূণহত্যা! সেতো আরো সাঙ্ঘাতিক, আমি জানতাম হে অর্জুন
মানুষ জন্ম চায় না, মানুষের মৃত্যুই আজ ধ্রুব!
আমার নাভিতে রক্ত-আমি জানতাম আমি ঠিকই জানতাম
আমি মানুষের এই রোষ থামাতে পারবো না, উন্মত্ততা থামাতে
পারবো না।
দুর্ভিক্ষ ও রাষ্ট্রবিপ্লব আমি থামাতে পারবো না
চালের আড়ত থেকে অভিনব চাল চুরি থামাতে পারবো না,
রিলিফের কাপড়ে আমি মানুষের অধঃপতন ঢাকতে পারবো না!
শেফালীর সোমত্ত গ্রীবায় লাগবে লাম্পটের লাল আর বিষ
আমি জানতাম হে অর্জুন অনাহারে অনেকেই যুবতী হয়েও আর
যুবতী হবে না!
ভাই পলায়নে যাবে না বোন তার বাসনা হারাবে আমি জানতাম
ফুল ফুটবে না, ফুল ফুটবে না, ফুল আর ফুটবে না, ফুল আর কখনো
ফুটবে না!
বকুল-বৃক্ষদের এইভাবে খুন করা হবে সব গীতিকার পাখিদের
এইভাবে গলা, ডানা স্বরলিপি শব্দের পালকগুলি
ভেঙে দেয়া হবে আমি জানতাম
তিতির ও ঈগল গোত্রের সব শিশুদের এইভাবে ভিক্ষুক পাগল
আর উন্মাদ বানানো হবে
ভারতীয় যুদ্ধের উৎসবে আজ এই শুধু আমাদের
ধনুক ব্যবসা,
আমি জানতাম, হে অর্জুন, –আমি ঠিকই জানতাম।
Related Articles
এই ভালো এই তবে ভালো
তোমার সময় যদি সদাশয় হে ঈশ্বর হয় আমাদের ঘরে এসো একবার দু’এক মিনিট। লাবণ্যের চুল আজও সুবাসিত তেলে গন্ধময়— যদিও দালান ভাঙা, কী নির্মল হাসে ন্যাংটো ইট। তবুও যখন তুমি পূর্ণিমার চাঁদ তুলে ধরো, যখন মাখিয়ে দাও পৃথিবীর আননে মাখন— তখন যদিও শ্বাস বন্ধপ্রায়, প্রাণ মরো-মরো, আমার মাটির থালা হয়ে ওঠে সোনার বাসন, ভরে যায় […]
পুনশ্চ সোনার তরী
আকাশ আড়াল করা মেঘ, আষাঢ়ের জলভারে নত। সদ্য ফোঁটা পদ্ম সরোভর-, নদী-নালা,খাল-বিল যতদূর চোখ যায়, একাকার সমুদ্রের মতো । সুমিষ্টসুবর্ণফলে পূর্ণ জন্মভুমি; এ এক মধুর ঋতু! নামটাও ভারী সুন্দর,বর্ষা। আম-জাম-কাঁঠালের পর্সা। জন্মসুত্রে এ ঋতু আমার। ভরা নদী ক্ষুরধারা,খরপরশা।
নীল জলের রান্না
কিছু লাল মোটা চাল ছুঁড়ে মারলে মুখে ‘যা, রেশনের দোকানে লাইন দে গে যা।’ হ্যাঁ, যাবোই তো। আমার কার্ডের যা প্রাপ্য আমি তা নিয়েই ফিরবো, তা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এখনও যেহেতু তৈরি হয় নি চিহ্নপত্র আমি তাই জানিও না কতোটা বাতাস আছে আমার ভাগে, কয় সের চিনির মতো শুভ্র তারার ফেনা, সমুদ্রের নীল জল […]

