আমরা দুজনা স্বর্গ-খেলনা
গড়িব না ধরণীতে,
মুগ্ধ ললিত অশ্রুগলিত গীতে।
পঞ্চশরের বেদনামাধুরী দিয়ে
বাসররাত্রি রচিব না মোরা প্রিয়ে;
ভাগ্যের পায়ে দুর্বলপ্রাণে
ভিক্ষা না যেন যাচি।
কিছু নাই ভয়, জানি নিশ্চয়
তুমি আছ, আমি আছি।
উড়াব ঊর্ধ্বে প্রেমের নিশান
দুর্গম পথমাঝে
দুর্দম বেগে, দুঃসহতম কাজে।
রুক্ষ দিনের দুঃখ পাই তো পাব,
চাই না শান্তি, সান্ত্বনা নাহি চাব।
পাড়ি দিতে নদী হাল ভাঙে যদি,
ছিন্ন পালের কাছি,
মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায়ে জানিব–
তুমি আছ, আমি আছি।
দুজনের চোখে দেখেছি জগৎ,
দোঁহারে দেখেছি দোঁহে–
মরুপথতাপ দুজনে নিয়েছি সহে।
ছুটি নি মোহন-মরীচিকা-পিছে-পিছে,
ভুলাই নি মন সত্যেরে করি মিছে–
এই গৌরবে চলিব এ ভবে
যতদিন দোঁহে বাঁচি।
এ বাণী, প্রেয়সী, হোক মহীয়সী–
তুমি আছ, আমি আছি।
Related Articles
নিবিড় অমা-তিমির হতে বাহির হল জোয়ার-স্রোতে
নিবিড় অমা-তিমির হতে বাহির হল জোয়ার-স্রোতে শুক্লরাতে চাঁদের তরণী। ভরিল ভরা অরূপ ফুলে, সাজালো ডালা অমরাকূলে আলোর মালা চামেলি-বরনী॥ তিথির পরে তিথির ঘাটে আসিছে তরী দোলের নাটে, নীরবে হাসে স্বপনে ধরণী। উৎসবের পসরা নিয়ে পূর্ণিমার কূলেতে কি এ ভিড়িল শেষে তন্দ্রাহরণী॥ Nibiro Oma Timiro Hotey
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে রাজার দোহাই দিয়ে এ যুগে তারাই জন্ম নিয়েছে আজি, মন্দিরে তারা এসেছে ভক্ত সাজি– ঘাতক সৈন্যে ডাকি ‘মারো মারো’ ওঠে হাঁকি । গর্জনে মিশে পূজামন্ত্রের স্বর– মানবপুত্র তীব্র ব্যথায় কহেন, হে ঈশ্বর ! এ পানপাত্র নিদারুণ বিষে ভরা দূরে ফেলে দাও, দূরে ফেলে দাও ত্বরা ।। রাগ: মিশ্র ইমন […]
আমি স্বপনে রয়েছি ভোর,
আমি স্বপনে রয়েছি ভোর, সখী, আমারে জাগায়ো না। আমার সাধের পাখি যারে নয়নে নয়নে রাখি তারি স্বপনে রয়েছি ভোর, আমার স্বপন ভাঙায়ো না। কাল ফুটিবে রবির হাসি, কাল ছুটিবে তিমিররাশি– কাল আসিবে আমার পাখি, ধীরে বসিবে আমার পাশ। ধীরে গাহিবে সুখের গান, ধীরে ডাকিবে আমার নাম। ধীরে বয়ান তুলিয়া নয়ান খুলিয়া হাসিব সুখের হাস। আমার […]

