কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে
মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;
অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।
ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো, পরিধেয়, আহার, মৈথুন–
নিরুপায় কিছু নাম, কিছু স্মৃতি কিংবা কিছু নয়;
অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন
কার হাত ভাঙে চুড়ি? কে ফোঁপায়? পৃথিবী নিশ্চয়।
স্মৃতির মেঘলাভোরে শেষ ডাক ডাকছে ডাহুক
অদৃশ্য আত্মার তরী কোন ঘাটে ভিড়ল কোথায়?
কেন দোলে হৃদপিণ্ড, আমার কি ভয়ের অসুখ?
নাকি সেই শিহরণ পুলকিত মাস্তুল দোলায়!
আমার যাওয়ার কালে খোলা থাক জানালা দুয়ার
যদি হয় ভোরবেলা স্বপ্নাচ্ছন্ন শুভ শুক্রবার।
আল মাহমুদ
আল মাহমুদ বাংলা ভাষার প্রধানতম আধুনিক কবিদের একজন। ১৯৩০-এর কবিদের হাতে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতার ঊণ্মেষ, তার সাফল্যের ঝাণ্ডা আল মাহমুদ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অদ্যাবধি তুলনারহিত কৃতিত্বের সঙ্গে বহন ক'রে চলেছেন। রবীন্দ্র-বিরোধী তিরিশের কবিরা বাংলা কবিতার মাস্তুল পশ্চিমের দিকে ঘুরিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন;– আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতাকে বাংলার ঐতিহ্যে প্রোথিত করেছেন মৌলিক কাব্যভাষার সহযোগে– তাঁর সহযাত্রী শামসুর রাহমান, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের তুলনায় এইখানে তিনি ব্যতিক্রমী ও প্রাগ্রসর। নাগরিক চেতনায় আল মাহমুদ মাটিজ অনুভূতিতে গ্রামীণ শব্দপুঞ্জ, উপমা-উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্প সংশ্লেষ করে আধুনিক বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত রেখায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কথাসাহিত্যে তাঁর মৌলিক শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ অভ্যূদয়ের পর তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯০ দশক থেকে ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুবর্তী হয়ে তিনি সমালোচনার শিকার হয়েছেন।
==জন্ম==
আল মাহমুদ([[১৯৩৬]]-)খ্রিস্টাব্দে [[ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা]]র মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
== প্রকাশিত গ্রন্থ ==
{{div col|3}}
* লোক লোকান্তর ([[১৯৬৩]])
* কালের কলস (১৯৬৬)
* সোনালী কাবিন ([[১৯৬৬]])
* মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ([[১৯৭৬]])
* আরব্য রজনীর রাজহাঁস
* বখতিয়ারের ঘোড়া
* Al Mahmud In English
* দিনযাপন
* দ্বিতীয় ভাংগন
* একটি পাখি লেজ ঝোলা
* আল মাহমুদরে গল্প
* গল্পসমগ্র
* প্রেমের গল্প
* যেভাবে গড়ে উঠি
* কিশোর সমগ্র
* কবির আত্নবিশ্বাস
* কবিতাসমগ্র
* কবিতাসমগ্র-২
* পানকৌড়ির রক্ত
* সৌরভের কাছে পরাজিত
* গন্ধ বণিক
* ময়ূরীর মুখ
* না কোন শূণ্যতা মানি না
* নদীর ভেতরের নদী
* পাখির কাছে , ফুলের কাছে
* প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা
* প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা
* প্রেমের কবিতা সমগ্র
* উপমহাদেশ
* বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ
* উপন্যাস সমগ্র-১
* উপন্যাস সমগ্র-২
* উপন্যাস সমগ্র-৩
* ত্রিশেরা
==কর্মজীবন==
সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি [[ঢাকা]] আসেন [[১৯৫৪]] সালে। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। [[১৯৫৫]] সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর([[১৯৬৩]]) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস([[১৯৬৬]]),সোনালি কাবিন([[১৯৬৬]]), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো([[১৯৬৯]]) কাব্যগ্রন্থ গুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। [[১৯৭১]] এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। [[১৯৭৫]] সালে তার প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। [[১৯৯৩]] সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকাত সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী [[আওয়ামী লীগ]] সরকারের সময় একবার জেল খাটেন । পরে তিনি শিল্পকলা একাডেমীতে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
Related Articles
বন্ধু তুমি অকম্পিত হাতে
ডাকতে হয় না, নিজেই সে আসে, টোকা দেয় মনে, স্মৃতি যার নাম। কখনো কখনো মুখোমুখি বসে, পা দোলায় শিস দেয় দোয়েলের মতো কখনোবা চোখের পানির মতো কী অপ্রতিরোধ্য এসে পড়ে সবকিছু এলোমেলো করে, এমনকি পীড়নের ভয়কে তফাৎ যাও বলে। মনে পড়ে, সেলিম তোমার কথা মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে। সে কবে প্রথম দেখা হয়েছিল আমাদের? […]
মা, ভালো আছো তো ?
স্তম্ভিত জনতার উচ্ছ্বাস ফেটে পরে আর্তনাদে চারদিকে হাহাকার, দুর্যোগের হুঙ্কার, অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্যে কেঁদে মরে বাংলাদেশ । চেয়ে রয় সেলুকাস ভণ্ডামির চূড়ান্ত সীমায় গণতন্ত্র, উচ্ছিষ্ট অনাহার বুকের ফাটলে চারদিকে চিৎকার, নিঃশব্দ জুয়া খেলা বাংলা মা, তুমি সত্যিই ভালো আছো তো ? নত মুখে আমার বাংলা মা আধো আধো জল গড়িয়ে পরছে- আর কত মা […]

