কবিতা

জননী জন্মভুমি

যিনি চলে গেলেন তাকে ম্লান মুখেই চলে যেতে দিয়েছি
সে জন্য আমার ভেতরে কি কোন গভীর বেদনা আছে ?
মানুষ নামের একরকম পাথর, তাতে আলো পড়ে না,
অন্ধকারে নড়ে না ,কিছুই হয় না ।
মাঝে মধ্যে মনে হয় আয়নার সামনে দাড়ালে শুধু আয়নাটাই কথা বলে,
কি যে বলে তা শুনবার মানুষ আজ আর আমি খুঁজে পাই না ।
আমার জন্মভুমি, আমি অনেক দিন তাকে দেখি না।
তার কোনো খবর রাখি না,
তিনি কি এখনো কুয়াশায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে আগের মতই নিশ্বাড়ে ঘুমিয়ে আছেন ,
আমার ছেলেবেলায় যেমন তাকে দেখেছিলাম ,
শীর্ণ দুটি হাত ঘুমের ভিতর কেঁপে কেঁপে উঠছে
নাকি অনেকক্ষন ভোর হয়ে গেছে্, পাখি ডেকেছে, ফুল ফুটেছে ,
তারপর বাঘের মত এক দুপুরে
সে আমার মায়ের পাড়া জাগানো ছোট ছেলেটাকে …
তার কোন ছিন্নই আর পাওয়া গেল না।
নদীর এপারে না , ওপারে না
হয়ত সে আমার নিজের ভাই ছিল না ,কিন্তু তাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না।
চারিদিকে এখন কত ফুল,কত পাখি
হয়ত এভাবেই একদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল আসে।
তারপর সন্ধ্যা নামবে ,রাত গভীর হবে
আমি তখন পাথরের মত ঘুমাবো ।
কবিতাটি শুনুন!

      জননী জন্মভুমি - Kamrul Hasan Monju ,

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবিঃ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি | প্রেম, প্রকৃতি, চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি তাঁর কবিতার মূল উপকরণ | তাঁর কাব্যকে ঘিরে আছে তীব্র সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা | সমাজতন্ত্রের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা তার কবিতা এবং জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে | ওই দৃঢ় বিশ্বাস এর জন্যই তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রত্যখ্য যোগদান, জেল যাত্রা এবং কবিতা | এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর দলের সঙ্গে মত বিরোধ এবং নিজেকে দল থেকে সরিয়ে আনা | তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - গ্রহচ্যুত (১৯৪২), রাণুর জন্য (১৯৫২), লখিন্দর (১৯৫৬), ভিসা অফিসের সামনে (১৯৬৭), মহাদেবের দুয়ার (১৯৬৭), মানুষের মুখ (১৯৬৯), ভিয়েতনাম : ভারতবর্ষ (১৯৭৪), আমার যজ্ঞের ঘোড়া : জানুয়ারি (১৯৮৫) | এ ছাড়া তিনি অনেক কাব্যগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন | তাঁর সম্পাদিত কবিতা বুলেটিনের সংখ্যাও পঁচিশের বেশি | কবির কবিজীবন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরনীয়, কারণ তিনি মূলত ছোট পত্রিকার কবি এবং তাঁর কোনো কবিতা কোনো বড় পত্রিকায় ছাপা হয় নি | কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা সত্বেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন | ক্যানসারে আক্রান্ত অবস্থায়, শেষ শয্যায় অনেক অনুরোধে, তিনি তাঁর দুটি কবিতা একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় ছাপার অনুমতি দিয়েছিলেন | তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত এবং সংকেতময় | --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩, ডঃ শর্মিষ্ঠা সেন