শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে
রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা,
‘এ ভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি
একইভাবে’। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা
আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে
বলেছিল, ‘মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে’।
রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক
আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই ।
Related Articles
একলা বাতাস
নোখের ভিতর নষ্ট ময়লা, চোখের ভিতর প্রেম, চুলের কাছে ফেরার বাতাস দেখেই শুধালেম, এখন তুমি কোথায় যাবে? কোন আঘাটার জল ঘোলাবে? কোন আগুনের স্পর্শ নেবে রক্তে কি প্রব্লেম? হঠাৎ তাহার ছায়ায় আমি যেদিকে তাকালেম তাহার শরীর মাড়িয়ে দিয়ে দিগন্তে দুইচক্ষু নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আমি আমাকে শুধালেম এখন তুমি কোথায় যাবে? কোন আঘাটার জল ঘোলাবে? […]
বিদায়ী কৈশর আমার
তিল তিল করে বেড়ে উঠার মাছরাঙা রঙধনুর শৈশব কৈশর সেই সব দিন– ধীরে ধীরে, একটু একটু করে স্মৃতি হয়ে যায় আজ তারে বলছি বিদায়… জলের ঝাপ্টায় ঘুম তাড়ানো সকাল শার্টেরএলোমেলো লাগানো বোতাম কাধে ব্যাগ, ভারী বোঝা, ক্লাস রুম, হই-হুল্লোর সব চুপ হয় যখন টিচার রুমে- আমি বিভোর, সেইসব দিনগুলোয় আজ কেন বলছি বিদায়… ব্যাটে বলে […]
রাশিয়ার চিঠি পরিশিষ্ট
গ্রামবাসীদিগের প্রতি শ্রীনিকেতন বাৎসরিক উৎসবে সমবেত গ্রামবাসীগণের নিকট কথিত বন্ধুগণ, আমি এক বৎসর প্রবাসে পশ্চিম মহাদেশের নানা জায়গায় ঘুরে আবার আমার আপন দেশে ফিরে এসেছি। একটি কথা তোমাদের কাছে বলা দরকার—অনেকেই হয়তো তোমারা অনুভব করতে পারবে না কথাটি কতখানি সত্য। পশ্চিমের দেশ বিদেশ হতে এত দুঃখ আজ প্রকাশ হয়ে পড়েছে ভিতর থেকে—এরকম চিত্র যে আমি […]
