যত আমার বয়স বাড়ছে
তত আমি পেনশনার হয়ে উঠছি
বয়স আমারে অনামা করে তুলেছে
নিজের কাছে এবং অন্যদের কাছে
(আমার এখন কোনো নাম নেই
সবার কাছে আমি প্রান্ত কা কিংবা দাদাভাই)
কে কি আমার সম্বন্ধে ভাবছে
আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই,
আমার ঘরবাড়ি থেকেও নেই
যত শেষের দিনগুলো কাছে আসে
চিরন্তন অভাব আমাকে ঘিরে ধরে
কেন শেষদিন পর্যন্ত বাঁচব আমি জানি না,
মধ্যে মধ্যে নিজেকে হত্যা করার ইচ্ছা হয়
আমার গল্পের একটা শেষ আছে,
আমি নিজেকে হত্যা করি না এই ভেবে
আমার পালা কবুতরগুলি কে দেখবে।
Related Articles
জ্বলন্ত জিরাফ
শেষ কবে নারীহত্যা করেছি আমার ব্যক্তিগত স্বর্গে? বাথরুমে- ছ’মাস আগে, সেই থেকে চোখে ভালো দেখতে পাই না। সাতদিন পর্যন্ত আয়নায় হাসির প্রমাণ লেগেছিল- এছাড়া চোষের জল জমিয়ে রেখেছিলাম বেসিনে। সেই ঠান্ডা চোখের জলে রোজ মুখ ধুতাম ও কুলকুচোঁ করেছি জানালা দিয়ে। প্রতিবেশী এসে বিরাট আপত্তি জানালোঃ এতদিন পেচ্ছাপ করা সহ্য করেছি, তা বলে কি কুলকুচো […]
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায় ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য। যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য আলাওলের ঐতিহ্য কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও কবিতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে পলাশপুরের মকবুল আহমদের পুঁথির জন্য রমেশ শীলের গাথার জন্য, জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ […]
হায়রে মানুষ
একটু ছিল বয়েস যখন ছোট্ট ছিলাম আমি আমার কাছে খেলাই ছিল কাজের চেয়ে দামি। উঠোন জুড়ে ফুল ফুটেছে আকাশ ভরা তারা তারার দেশে উড়তো আমার পরাণ আত্মহারা। জোছনা রাতে বুড়িগঙ্গা তুলতো যখন ঢেউ আমার পিঠে পরীর ডানা পরিয়ে দিতো কেউ। দেহ থাকতো এই শহরে উড়াল দিতো মন মেঘের ছিটার ঝিলিক পেয়ে হাসতো দু’নয়ন। তারায় তারায় […]

