অন্যান্য

বই কিনো নিজের জন্যে

lমেঘ বালিকা
শুভেচ্ছা নিও। তোমাকে বলা হয়নি লিখবো।তোমাকে প্রথম লিখতে বসেছি। সব কিছু কি বলেই করতে হবে ? মাঝে মাঝে চমকে দিতেও তো ইচ্ছা হয় , তাই না । চমকে দেওয়ার মধ্যে এক রকমের আনন্দ আছে অন্তত আমার কাছে । যখন এ চিঠি তোমার হাতে পৌঁছাবে সেই সময় তোমার মুখখানি আমি কল্পনা করছি । তুমি চিঠি লিখা পছন্দ করো কিনা তাও জানা হয় নি।আমি খুব করি।চিঠি পাওয়ার মধ্যে কি আনন্দ সে শুধু যারা লিখে তারাই জানে। আমাদের মাষ্টার মশাইয়েরা আমাদের কতো যত্ন করে চিঠি লিখা শিখিয়েছেন কিন্তু তুমি চিঠি লিখার কজন বন্ধু পাবে।
চিঠি লিখাটাও একটা শিল্প।বলে কয়ে অনেক কিছুই প্রকাশ করা যায় না, চিঠিতে যায়।পরিচিত জনদের মধ্যে তুমি অনেককে পাবে যিনি মুখে “আমি তোমাকে ভালোবাসি বা পছন্দ করি” বলতে লজ্জা পান,উনারাই কি অবলীলা ক্রমে চিঠিতে একই কথা লিখতে একটুও দ্বিধা করেন না ।
বই মেলার আমন্ত্রন পেলাম তোমার কাছে, ধন্যবাদ। ঢাকায় এখন মেলার সময়,কতো রকমের মেলাই তো হচ্ছে বঊ মেলা ,বিয়ে মেলা, বই মেলা,শিল্প মেলা … মেলা তো কতো কিছুই মিলে। শুধু মেলাতে জানতে হয় ।
বই কেনার লিষ্ট চেয়েছো শুনে কেন জানি “আমার বাজারের লিষ্ট”এর কথা মনে হলো।লিষ্ট নিয়ে বই কিনতে যেয়ো না।বইয়ের দোকানে গিয়ে বইটা হাতে নিয়েই ক পাতা পড়লেই বুঝতে পারবে ভালো লাগবে কিনা। আমি অনেককে জানি যাঁদের লক্ষীর ভান্ডার পুর্ন হবার পর স্বরস্বতীর প্রতি আগ্রহে বুক সেলপ ভর্তি করেছেন।
সাজিয়ে রাখার জন্য বই কিনো না। আমি নিজেও বই সংগ্রহে রাখি না পড়া শেষ হলে,ফেরত দিতে হবে না শর্তে পড়তে দেই ।বই পড়ো নিজের জন্যে, মনের জন্য।আমি কোনদিন একসাথে দুটোর বেশী বই কিনিনি । তোমার যদি বই পড়ার ইচ্ছে হয় সপ্তাহ বা মাসে একটা বই কিনো। বস্তা ভর্তি বই কিনলে দেখবে কোনটাই শেষ করতে পারো নি।
তোমার ওদিকে এখন শীত কেমন ?
ভালো থেকো ,ইচ্ছে হলো লিখো।অপেক্ষায় থাকবো ।
সখা
৫ ফেব্রুয়ারী২০১৭

মিতা
মিতা
কোথায় যে যাই,কী যে চাই কিছুই বুঝতে পারি না। কোনব্যাপারেই মনসংযোগ করতে পারি না।কী কোন কাজে,কী কোন যায়গাতে,কী কোন পুরুষ বা নারীতে আদৌ একনিষ্ট হতে পারি না। গন্তব্যে পৌঁছে গেলেই মনে হয় এখানে তো চাইনি আসতে।তাই পৌঁছে আবার রওনা হই,কোথায় যাব,যেতে চাই তা না জেনেই। যেখানে আদর পাই, ভালোবাসা পাই, যত্ন পাই, যেখানে প্রাধান্য পাই; ঠিক সেখান থেকেই ভালোবাসার, সন্মানের, আঙ্গুল থেকে আঙ্গুল ছাড়িয়ে নিয়েই আমি অন্যত্র দৌঁড়ে যাই,অন্যত্র পৌঁছে আবার দৌড়াই। ফিরে যখন যাই সেই নিশ্চিত উষ্ণতার দিকে তখন পৌঁছে দেখি আমার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে শীতের হিমেল রাত। দিন ফেলে রাতে দৌড়াই; রাত ফেলে দিনে। শরীর ফেলে মনে দৌড়াই; মন ফেলে শরীরে।সব পাই,আবার কিছুমাত্রও পাই না।