জ্যোৎস্নারাতে, জ্যোৎস্নার ভিতরে তুমি শুয়ে আছো—
লাবণ্য ঝরিছে অপরুপ ; এরকম চন্দ্রের ক্রন্দন দেখেছে বাংলাদেশ ।
মানুষের ভিতরে এক চাঁদরানী আছেন, অতিব্যক্তিগত
নাচায় তারে আমৃত্যু-শোণিতে-জোয়ারে ; সুস্থচিত্রকল্প, রোমাঞ্চ!
তোমার ভিতরে এক তৃষ্ণা ছিলেন, অন্ধকারের মতো কুটিল
জটিলা নদীর মতো বহুব্রীহি, সার্থক ; সেখানে দীক্ষা নেয়
জলের প্রাণীরা, গভীরতা কতদূর জানে না মাছরাঙা—
শ্মশানে পুড়ছে কাঠ, কেউ পোড়ে অস্থিমাংসসহ।
আমার ভিতরে এক বেদনা আছেন, নারীদের মতো স্বভাবচরিত্র
একবার লজ্জাহীনা হলে কুরে খায় কবিতা, সূর্যোদয়—
তুমি জানো স্বর্ণমুদ্রা খোলে না সিন্দুক, উদ্ধত পাখি সে, উড়ে যায়।
কুন্তলে গ্রীবায় কি পরেছ, জ্যোৎস্নার কোমলতা বুঝি?
—শুয়ে আছো, জ্যোৎস্নার ভিতরে তুমি, জ্যোৎস্নারাতে
শ্মশানে পুড়ছে কাঠ, কেউ পোড়ে অস্থিমাংসসহ।
Related Articles
নাবিক
কবে তব হৃদয়ের নদী বরি নিল অসম্বৃত সুনীল জলধি! সাগর-শকুন্ত-সম উল্লাসের রবে দূর সিন্ধু-ঝটিকার নভে বাজিয়া উঠিল তব দুরন্ত যৌবন! পৃথ্বীর বেলায় বসি কেঁদে মরে আমাদের শৃঙ্খলিত মন! কারাগার-মর্মরের তলে নিরাশ্রয় বন্দিদের খেদ-কোলাহলে ভ’রে যায় বসুধার আহত আকাশ! অবনত শিরে মোরা ফিরিতেছি ঘৃণ্য বিধিবিধানের দাস! -সহস্রের অঙুলিতর্জন নিত্য সহিতেছি মোরা-বারিধির বিপ্লব-গর্জন বরিয়া লয়েছ তুমি, তারে […]
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি। তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল। তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন। জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা, কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা। যে কবিতা শুনতে জানে না সে ঝড়ের […]
তুলনামূলক হাত
তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷ তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে; আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে, তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকে খুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার, সেখানেই […]

