শতকোটি প্রনামান্তে
হুজুরে নিবেদন এই–
মাপ করবেন খাজনা এ সন
ছিটেফোঁটাও ধান নাই।
মাঠেঘাটে কপাল ফাটে
দৃষ্টি চলে যত দূর
খাল শুক্নো বিল শুক্নো
চোখের কোলে সমুদ্দুর।
হাত পাতব কার কাছে কে
গাঁয়ের সবার দশা এক
তিন সন্ধে উপোষ দিলাম
আজ খাচ্ছি বুনো শাক।
পরনে যা আছে তাতে
ঢাকা যায় না লজ্জা
ঘটি বাটি বেচেছি সব
আছে বলতে ছিল যা।
এ দুর্দিনে পাওনা আদায়
বন্ধ রাখুন, মহারাজ
ভিটেতে হাত দেয় না যেন
পাইক বরকন্দাজ।
আমরা কয়েক হাজার প্রজা
বাস করি এই মৌজায়
সবাই মিলে পথ খুঁজছি
কেমন করে বাঁচা যায়।
পেত জ্বলছে ক্ষেত জ্বলছে
হুজুর, জেনে রাখুন
খাজনা এবার মাপ না হলে
জ্বলে উঠবে আগুন।
Related Articles
অভিমানের খেয়া
‘এতোদিন কিছু একা থেকে শুধু খেলেছি একাই পরাজিত প্রেম তনুর তিমিরে হেনেছে আঘাত পারিজাতহীন কঠিন পাথরে প্রাপ্য পাইনি করাল দুপুরে, নির্মম ক্লেদে মাথা রেখে রাত কেটেছে প্রহর বেলা_ এই খেলা আর কতোকাল আর কতোটা জীবন! কিছুটা তো চাই- হোক ভুল হোক মিথ্যে প্রবোধ, অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই কিছুটা তো চাই, […]
লোকটি তবে কবি ছিলো?
সুখে তারও লোভ ছিলো -চিরকাল অ-সুখে ভুখেছে! মাথার অসুখ ছিলো, লোকটির -বুকের, দাঁতের- নিত্যসঙ্গী গিঁটেবাত, হাঁটতো তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে; শেষদিকে শ্বাসকষ্ট -নিঃশ্বাসের জন্যে একবুক বাতাসও তা ভাগ্যে বরাদ্দ ছিলো না! -লোকটির শরীরে অসুখ ছিল নানা -এজন্যে সে আজীবন লাঞ্চিত হয়েছে আর অপমান সয়েছে অনেক! সমাজও ছিলো না তার, বলতে গেলে, সামান্য প্রভাবও; লোকটির কোনো গুণই, […]
এই কবিতার জন্যে
এই কবিতার জন্যে কতোবার বদ্ধ উন্মাদের মতো ঘুরলাম রাস্তায় রাস্তায় কতোবার আগুনে দিলাম হাত, প্রবল তুষারপাত নিলাম মাথায়; এই কবিতার জন্যে পঞ্চপাণ্ডবের মতো আবদ্ধ হলাম জতুগৃহে শুধু এই কবিতাকে ভালোবেসে কতোবার দাঁড়ালাম পরমানু বোমার বিরুদ্ধে কতোবার একা বুক পেতে দাঁড়ালাম আণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মুখে, কবিতাকে ভালোবেসে এই পৃথিবীকে কতোবার বাঁচালাম যুদ্ধ ও ধ্বংসের হাত থেকে। কবিতার […]
