কবিতা

মাতলামো

উত্তেজনা ছড়ায়েন না
কেননা এই মৃত বৎসা দেশে আগুনের ফুলকি গুলি শ্মশানের বাহবা বাড়ায়
দূর থেকে শুনা যায় শৃগালের হাসি আর হায়েনার গর্জন,
যত রাত দীর্ঘ হয় ততই বাঘের চোখ ভৌতিক আলোর মতন
পাড়ায় পাড়ায় ছড়ায় আতংক
ক্রমে উলঙ্গের দীর্ঘশ্বাস হাভাত হাভাত শব্দ ক্ষীন হয়ে বাতাসে মেলায় ।
উত্তেজনা ছড়ায়েন না
বরং এই শ্মশানের শান্তি থেকে পরিত্রান
কি আছে কোথায় খুঁজি উন্মাদের মত ,
ভয়ংকর দৃশ্যগুলি দুহাতে সরাতে চাই
কিন্তু আমার দুহাত ভর্তি ভিক্ষার বিশ্বাদ অন্ন
আমি কাঁকে পথ দেখাব ।
কোন পথ ?
স্বাধীনতা ,হায় স্বাধীনতা
বুকে যত তোলপাড় রক্ত ততই ভেতরে রক্ত জল হয়ে যায় ।
মৃত্যুর ধোঁয়ার ঝাপসা চোখে সব অন্ধকার
শুধু স্বর্গ মনে হয় গেলাস গেলাস মদ
মানুষ নামের জন্তু যেখানে স্বাধীন
গায়ে মাতলামোর গান ,কে কার তোয়াক্কা রাখে
আমি সেই মাতালের কোমড় জড়িয়ে
হৈ হৈ জীবনের স্বপ্ন দেখি ,আর কিছু বেসামাল কথা বলি
এই নরকে ঈশ্বরের বাচ্চা আর নেড়ি কুত্তা সমান সমান
কা কাঁকে চোখ রাঙায় ।
উত্তেজনা ছড়ায়েন না
শুধু মাথার ভেতরে মদ গাঢ় হলে
যে কোন উলঙ্গ মানুষের কাঁধে মাথা রেখে
গভীর ঘুমুতে চাই ।
ঘুমের মধ্যে আমি স্বপ্ন দেখি , বাঘ শিকারের স্বপ্ন
তখন আমার হাতে অব্যর্থ নিশানা ।
আবার কখনো ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি
এই সংবিধান ছোঁটা ,স্বাধীনতা কার স্বাধীনতা ।
সমস্ত শরীর মদে ভিজে গেলে
টালমাতাল আকাশের দিকে আমি উল্টো করে ছুড়ে দেই
একডজন কাঁচের গ্লাস ।

      Matlamo - Kamrul Hasan Monju

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবিঃ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি | প্রেম, প্রকৃতি, চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি তাঁর কবিতার মূল উপকরণ | তাঁর কাব্যকে ঘিরে আছে তীব্র সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা | সমাজতন্ত্রের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা তার কবিতা এবং জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে | ওই দৃঢ় বিশ্বাস এর জন্যই তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রত্যখ্য যোগদান, জেল যাত্রা এবং কবিতা | এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর দলের সঙ্গে মত বিরোধ এবং নিজেকে দল থেকে সরিয়ে আনা | তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - গ্রহচ্যুত (১৯৪২), রাণুর জন্য (১৯৫২), লখিন্দর (১৯৫৬), ভিসা অফিসের সামনে (১৯৬৭), মহাদেবের দুয়ার (১৯৬৭), মানুষের মুখ (১৯৬৯), ভিয়েতনাম : ভারতবর্ষ (১৯৭৪), আমার যজ্ঞের ঘোড়া : জানুয়ারি (১৯৮৫) | এ ছাড়া তিনি অনেক কাব্যগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন | তাঁর সম্পাদিত কবিতা বুলেটিনের সংখ্যাও পঁচিশের বেশি | কবির কবিজীবন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরনীয়, কারণ তিনি মূলত ছোট পত্রিকার কবি এবং তাঁর কোনো কবিতা কোনো বড় পত্রিকায় ছাপা হয় নি | কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা সত্বেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন | ক্যানসারে আক্রান্ত অবস্থায়, শেষ শয্যায় অনেক অনুরোধে, তিনি তাঁর দুটি কবিতা একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় ছাপার অনুমতি দিয়েছিলেন | তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত এবং সংকেতময় | --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩, ডঃ শর্মিষ্ঠা সেন