তুমি যে-সব ভুল করতে সেগুলো খুবই মারাত্মক ছিলো। তোমার
কথায় ছিলো গেয়া টান, অনেকগুলো শব্দের করতে ভুল উচ্চারনঃ
‘প্রমথ চৌধুরী’ কে তুমি বলতে ‘প্রথম চৌধুরী’ ’ জনৈক উচ্চারণ
করতে গিয়ে সর্বদাই ‘জৈনিক’ বলে ফেলতে । এমনি বহুতর
ভয়াবহ
ভুলে- ভরা ছিলো তোমার ব্যক্তিগত অভিধান। কিন্তু সে-সময়,
সেই
সুধুর কৈশোরে ঐ মারাত্মক ভুলগুলো তোমার বড়ো- বেশি
ভালোবেসে ফেলেছিলুম।
তোমার পরীক্ষা্র খাতায় সর্বদাই সাধু ও চলতির দুষণীয় মিশ্রণ
ঘটাতে। ভাষা-ব্যবহারে তুমি বরাবরই খুব অমনোযোগী ছিলে
তুমি। শোকাভিভুত’ বলতে গিয়ে ব’লে ফেলতে শোকাভূত।
তোমার
উচ্চারণের ত্র“টি, বাক্য মধ্যস্থিত শব্দের ভুল ব্যবহারে আমি তখন
এক ধরনের মজাই পেতুম।
২০-বছর পর আজ তোমার বক্তৃা শুনলুম। বিষয়ঃ’ নারী
স্বাধীনতা’! এতা সুন্দর, স্পষ্ট ও নির্ভুল উচ্চারণে তোমার বক্তব্য
রাখলে যে, দেখে অবাক ও ব্যথিত হলুম।
আমার বুকের মধ্যে জোঁকে-বসা একটি পাথর বিশ বছর পর
নিঃশব্দে নেমে গ্যালো।
Related Articles
একটি চুক্তিপত্রের বিষয়-আশয়
তোমার সঙ্গে আমি একটা চুক্তি করতে চাই, এই নাও টাকা, মাকড়সার মতো তুমি বিছিয়ে রেখেছো তোমার হাত চারিদিকে, ছুঁতে পারো আকাশ, আমিও আকাশ ছোঁবো, শীতল মেঘের স্লাইস দিয়ে ভিজিয়ে নেবো ঠোঁট, তুমি আমাকে নিয়ে যাবে গহীন অরণ্যে, একমুঠো অন্ধকার আমি তুলে রাখাবো মানিব্যাগে, শরীরের জ্যামিতি ভাঙার জন্য তুমি আমাকে নিয়ে যাবে ব্রোথেলে, উষ্ণ শরীর থেকে […]
শূন্যে শূন্যতা নেই
শূন্যতার সবটুকু দেখেছো ! সব অশোভনীয় শূন্যতা কিনে নিয়েছি, দিন-রাত খাইয়ে শূন্যতা পুষেছি । অনল যৌবনা চোখে যা শূন্যতা ভেবেছো যা কিছু ভেবেছ বেদনার খোরখাতা, একফালি চাঁদ শূন্য ছিল, শূন্যে আঁধার ছিল তাই আঁধারকেই শূন্যতা ভেবেছো । তোমার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের পথে যত শূন্যতা টিকিট কেটেছিল, পথ ভুলিয়ে নিয়ে এসেছি নিজ ঠিকানায় । […]
মেঘের মতো মানুষ
আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যায় ওই এক মেঘের মতো মানুষ ওর গায়ে টোকা দিলে জল ঝরে পড়বে বলে মনে হয়। আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যায় ওই এক মেঘের মতো মানুষ ওর কাছে গিয়ে বসলে ছায়া নেমে আসবে মনে হয় ও দেবে, না নেবে? ও কি আশ্রয়, না কি আশ্রয় চায়? আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যায় […]

