কবিতা

শুয়ে শুয়ে

আমার সঙ্গে শোবে এসো,
তোমার উরুতে আমি আমার মাথাটি রাখছি,
আর আমার কাত হয়ে শোওয়া কোমরের খাঁজে তোমার বাহু রাখো,
এভাবে ভাই বোনের মত, বোন বোনের মত, টোনাটুনির মত, সুকসারীর মত,
পেঙ্গুইন দম্পতির মত চলো শুয়ে থাকি।
শুয়ে শুয়ে কবে কোন শিশুকালে দুপুরের পুকুরে হাঁসের সাঁতার দেখেছিলে,
একটি বাচ্চা হাঁস পথ হারিয়ে কাঁদছিল, ওকে তুলে নিয়ে মা-হাঁসের কাছে পৌঁছে
দিয়েছিলে–

শুয়ে শুয়ে দৌড়োতে দৌড়োতে হঠাৎ একটি শিমুল গাছকে ছুঁয়ে ছিলাম যখন পাঁচ বছর
বয়স, সেই আমার প্রথম শিমুল ছোঁয়া, প্রজাপতির পেছনে ছুটতে ছুটতে একটি পাহাড়ের
সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছিলাম, সেই আমার প্রথম পাহাড় —–
এইসব বলবো আমরা পরস্পরকে,
আমাদের কৈশোর বলবো, যৌবন বলবো।
বার্ধক্যের কথা মুখে বলবো না, ওটি আমরা
গাঢ় করে গভীর করে চুমু খেতে খেতে পরস্পরের প্রতিবিন্দু স্পর্শ করতে করতে
নগ্ন হতে হতে
ভালোবাসতে বাসতে
বলবো।

তসলিমা নাসরীন
তসলিমা নাসরীন
তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট, ১৯৬২) বাংলাদেশের একজন সাহিত্যিক ও চিকিৎসক। বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করে তসলিমা এই শতকের শেষের দিকে নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তাঁর রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ ও মানবাধিকারের প্রচার করায় ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়েন ও তাঁদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন;তিনি কিছুকাল যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন।